Published : 21 Jun 2026, 04:24 PM
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নরওয়ে।
রয়টার্স লিখেছে, শিশুদের মৌলিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশটির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গায়ার স্তোরে বলেছেন, এআই ব্যবহারের কারণে শিশুরা তাদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। স্কুলগুলোর এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের মৌলিকভাবে ‘পড়া, লেখা ও গণিত’ শেখানো।
অগাস্টের শেষদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মটি কার্যকর হবে।
প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত, অর্থাৎ ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
টিনএজারদের জন্য নীতিটি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। যেমন, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীরা এআই ব্যবহার করতে পারবে। তবে তা অবশ্যই ‘শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে’ হতে হবে।
অন্যদিকে, ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; বরং তাদের নিজেদের উদ্যোগে ‘সঠিক ও উপযোগী উপায়ে’ এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নরওয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রযুক্তি সরিয়ে ফেলার পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২৪ সালে দেশটি স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল, যা সফল বলেই প্রমাণিত হয়েছে।
ওই সিদ্ধান্তের ফলে স্কুলে বুলিয়িং বা সহপাঠীদের উত্যক্ত করার প্রবণতা কমেছে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার গ্রেড বা ফলাফল ভালো হয়েছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে সাইকোলজিস্ট বা মনস্তাত্ত্বিকদের কাছে যাওয়ার হারও কমেছে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ফল ছিল বেশি।
এখানেই শেষ নয়, নরওয়ে এখন ১৬ বছরের কম বয়সী সব শিশুর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারও নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে, যা অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান নীতির মতোই। এ বছরের শেষ নাগাদ দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত এক বিল উত্থাপিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রও শিশুদের এআই চ্যাটবটের পেছনে সময় কাটানোর বিষয়টি সীমিত করতে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মার্কিন সেনেট ও প্রতিনিধি সভায় বর্তমানে এমন বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যা কার্যকর হলে বিভিন্ন এআই কোম্পানির জন্য গ্রাহকের ‘বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া’ বাধ্যতামূলক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে চ্যাটবট সেবা দেওয়া নিষিদ্ধ হবে।