Published : 04 Jul 2026, 02:36 PM
গাড়ির বিক্রিতে ধস নামার কথা ভাবলে ২০০৯ সালের মন্দা বা ২০২০ সালের অতিমারির কথায় মানুষের মনে আসে। তবে নথিপত্র বলছে ১৯৬০ এর দশকের পর সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ১৯৮২ সাল।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল পছন্দের গাড়ি, যার প্রভাব আজও অটোমোবাইল শিল্পে অনুভূত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ৭৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৭টি গাড়ি বিক্রি হয়েছিল। তবে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও ১৯৮৩ সালে প্রবেশের আগে স্থানীয় গাড়ি নির্মাতারা আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন। কারণ সেই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ গাড়ির বিক্রি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা বড় কোম্পানিগুলো ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছিল ১৯৮২ সালে। ১৯৮১ সালের তুলনায় ‘জেনারেল মোটর্স’ এর বিক্রি কমেছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, ফোর্ডের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ক্রাইসলারের ৫ দশমিক ২ শতাংশে।
তবে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছিল ফোকসভাগেন অফ আমেরিকার বিক্রিতে, যা প্রায় ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। গাড়ির বাজারে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ ছিল অর্থনৈতিক মন্দা, যার ফলে সাধারণ মানুষের খরচের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছিল।
সেই সময়ে অনেক আমেরিকান বেকার হয়ে পড়েছিলেন বা তাদের আয় এমন পর্যায়ে ছিল না, যা দিয়ে তারা গাড়ির বাড়তি দাম সামাল দিতে পারেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকে গাড়ির দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছিল।
১৯৮২ সালে পা রাখার আগেই জেনারেল মোটর্স তাদের বিভিন্ন মডেলের দাম গড়ে ৫০০ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর সঙ্গে চড়া সুদের হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
গাড়ি নির্মাতারা ওই সময় এমন এক সমস্যার মুখে পড়েছিলেন, যা বর্তমান সময়েও দেখা যায়। ওই সময় সাধারণ আমেরিকানদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য ছিল না। তবে ধনীরা ঠিকই গাড়ি কিনতে পারছিলেন।
২০২৬ সালেও আমেরিকানরা নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে। ১৯৮২ সালের সেই মন্দার সময়ে অসংখ্য ‘ব্লু-কলার’ বা শ্রমজীবী মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছিলেন।
তবে উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের ওপর এর প্রভাব তেমন পড়েনি। যাদের ক্রয়সক্ষমতা কম ছিল, ছোট সাশ্রয়ী গাড়িগুলোও কিনতে পারছিলেন না, যার ফলে এ জাতীয় গাড়ির বিক্রি ব্যাপকভাবে কমেছিল।
ঠিক একই সময়ে মার্সেডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ভলভো ও জাগুয়ারের মতো ব্র্যান্ডগুলোর গাড়ির বিক্রি উল্টো বেড়েছিল।
১৯৮৩ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেরিল লিঞ্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্ভি হেইনবাখ বলেছিলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ধনী ব্যক্তিরা এই মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি। যাদের চাকরি হারানোর ভয় ছিল না তারা নির্দ্বিধায় কেনাকাটা চালিয়ে গেছেন। তবে বেকারত্ব অন্য জনগোষ্ঠীর মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছিল।”
গত কয়েক বছর ধরে মোটরগাড়ি শিল্পের বিক্রির চিত্র অনেকটা একই রকম দেখা যাচ্ছে। শুল্ক বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে যানবাহনের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বর্তমান সময়ে নতুন গাড়ি কেনার সামর্থ্য পেতে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ১ লাখ ডলার হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহৃত বা পুরানো গাড়ির দামও বেড়ে চলেছে।
২০২৫ সালে বিএমডব্লিউ’র মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়লেও মাজদা’র মতো ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি কমেছে। কারণ ক্রমাগত দামের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযোগী বিভিন্ন গাড়ি এখন অনেক আমেরিকানের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এর ওপর চড়া সুদের হার ও বীমার উচ্চমূল্য অনেক পরিবারের জন্য গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
এত কিছুর পরেও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কেউ যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তবে ২০২৬ সাল একটি নতুন গাড়ি কেনার জন্য ভালো সময় হতে পারে।