Published : 09 Apr 2026, 10:44 AM
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হল বিশ্ব। পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের বুক ছুঁয়ে আসার এ রোমাঞ্চকর অভিযানে আর্টেমিস টু মিশন যে সাফল্য দেখিয়েছে তা মানুষের আবারও চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখার স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু মিশন একের পর এক সাফল্য পেয়েছে, রেকর্ডও ভেঙেছে অনেক। ওরিয়ন মহাকাশযানের নিখুঁত পথচলা ও নভোচারীদের অদম্য সাহসিকতা প্রমাণ করেছে, চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্ন সম্ভবত খুব বেশি দূরে নয়।
বিবিসি লিখেছে, ওরিয়ন মহাকাশযান, রকেটের কারিগরি সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি নভোচারীদের প্রাণবন্ত দক্ষতা থেকে প্রমাণ মিলেছে, মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
মিশনের প্রথম ছয় দিনের কার্যক্রমে ইঙ্গিত মেলে, প্রথমবারের মতো মানুষ নিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুল ঠিক সেভাবেই কাজ করছে যেমনটি ভাবা হয়েছিল। এমন অভিজ্ঞতার বিষয় কোনো সিমুলেটর দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব নয়, এমনটি কেবল বাস্তব পরিস্থিতিতেই সম্ভব কি না বোঝা যায়।
এ মিশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আর্টেমিস টু নভোচারীদের কর্মকাণ্ড, যা বর্তমান বিশ্বে এক নতুন আশার আলো ও অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। তবে এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, নাসা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য অনুসারে ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষের চাঁদের মাটিতে পা রাখা কি আসলেও সম্ভব?
আর্টেমিস টু থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া শিক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নাসার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেটটি পৌঁছানোর কেবল কয়েক দিনের মধ্যেই আর্টেমিস টু মিশন সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি পাওয়া গেছে।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আলাদা আলাদা কারিগরি ত্রুটির কারণে দুবার উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার পর নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছিলেন, “এসএলএস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল রকেট প্রতি তিন বছর অন্তর উৎক্ষেপণ করা সাফল্যের কোনো পথ হতে পারে না।”
এর আগের মানববিহীন আর্টেমিস ১ মিশনটি ২০২২ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করেছিল।
আইজ্যাকম্যান বলেছেন, সংস্থাটিকে প্রতিটি রকেটকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে দেখা বন্ধ করে এমন এক পেশাদার প্রোগ্রামের মতো নিয়মিত উৎক্ষেপণ শুরু করতে হবে, যা সত্যিকার অর্থেই বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এ ঘোষণার মানে হচ্ছে, তিন বছর অন্তর একই শিক্ষা নতুন করে পাওয়ার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা পরবর্তী পুরো আর্টেমিস টু মিশন প্রক্রিয়াটিকে নতুন এক কাঠামোতে দাঁড় করিয়েছে।
নাসা প্রশাসকের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার নিরিখে বিচার করলে, পয়লা এপ্রিল রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেনের মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার পর গত ছয় দিনে এ মিশন আমাদের কী শিখিয়েছে?
এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে, চরম উৎসাহীরা যা আশা করেছিলেন এই মিশন তার চেয়েও বেশি কিছু করে দেখিয়েছে।

কাজ করে দেখাল এসএলএস রকেট
উৎক্ষেপণের সময় এসএলএস রকেটটি ৮৮ লাখ পাউন্ড থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করেছিল এবং প্রকৌশলীদের প্রতিটি মাপকাঠিতেই তা পরিকল্পনা অনুসারে সফল হয়েছে। উৎক্ষেপণের প্রতিটি পর্যায়, যেমন সর্বোচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, মূল ইঞ্জিনের কাজ শেষ ও বুস্টার বিচ্ছিন্ন হওয়া এসবই ছিল নাসার কন্ট্রোল রুমের ভাষায় একদম ‘নিখুঁত’।
চাঁদে যাওয়ার পথে নির্ধারিত তিনটি পথ সংশোধনের মধ্যে দুটিরই আর প্রয়োজন পড়েনি। কারণ রকেটের গতিপথ এতটাই নির্ভুল ছিল যে, বাড়তি কোনো পরিবর্তনের দরকার ছিল না।
‘ওপেন ইউনিভার্সিটি’র মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. সিমিওন বারবার বলেছেন, “তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, প্রথমবারেই তারা সবটুকু নির্ভুলভাবে করতে পেরেছে।”
উৎক্ষেপণের একদিন পরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি আসে। এ সময় ওরিয়ন মহাকাশযানটি এর প্রধান ইঞ্জিন ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের জন্য চালু করে, যা ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন’ নামে পরিচিত। ফলে যানটি কোনো বড় ধরনের বাড়তি কৌশল ছাড়াই সরাসরি চাঁদের কক্ষপথের দিকে যাত্রা করে।
আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রধান ড. লরি গ্লেইজ বলেছেন, ইঞ্জিনের এ শক্তিশালী কার্যক্রম ছিল একেবারে ‘ত্রুটিহীন’।
যন্ত্রের ভেতরে মানুষ: ওরিয়ন ও নভোচারীদের মেলবন্ধন
এ মিশনের মূল উদ্দেশ্য ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরে মানুষকে রাখা এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা। কেবল মহাকাশযানের ক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া কেমন হয় তা-ও বোঝা।
এখন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে তা ঠিক যেমনটা আশা করা হয়েছিল তেমনই এবং এসব অভিজ্ঞতা কখনোই কোনো সিমুলেটর বা কৃত্রিম পরিবেশে বসে শেখা সম্ভব নয়।
অভিযানের পথে কিছু সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। যেমন, শৌচাগার বা টয়লেটে সমস্যা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি। ফলে নভোচারীদের ব্যাগে করে পানি সংরক্ষণ করতে হয়েছে। হিলিয়াম সিস্টেমে সামান্য ত্রুটির কথা শুরুর দিকে নাসার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, যা পরে নীরবেই সমাধান করেছে সংস্থাটি।
মহাকাশ বিজ্ঞানী বারবারের ভাষায়, “পুরো বিষয়টাই হচ্ছে সিস্টেমের সঙ্গে মানুষকে যোগ করা। এই যে মানুষ নামের প্রাণীরা যারা বোতাম চাপেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়েন এবং এয়ার কন্ডিশনিং প্রয়োজন ও টয়লেট ব্যবহার করতে চান তাদেরকে নিয়ে পুরো সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে সেটি দেখাই ছিল এ মিশনের আসল উদ্দেশ্য।”
ইঞ্জিনিয়াররা ওরিয়নের কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এজন্য আর্টেমিস টু নভোচারীরা টানা শরীরচর্চা করছেন, যা সিস্টেমে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। রকেটের থ্রাস্টারগুলো ইচ্ছা করে বন্ধ রেখেও পরীক্ষা করা হচ্ছে যে, মহাকাশযানটি কীভাবে তা সামাল দেয়। মিশনের প্রতিটি পরীক্ষার মাধ্যমে এটিই নিশ্চিত করা হচ্ছে, নভোচারীদের নিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে নামার জন্য এ মহাকাশযানটি যথেষ্ট নিরাপদ কি না।
এ নিয়ে বিজ্ঞানী বারবারের সামগ্রিক মূল্যায়ন ছিল বেশ সোজাসাপ্টা। তিনি বলেছেন, “প্রকৃতপক্ষে ওরিয়ন নিজেই বেশ ভালো কাজ করেছে, বিশেষ করে প্রপালশন বা চালিকাশক্তির বিষয়টি, যা সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।”

মহাকাশ বিজ্ঞানের বড় সাফল্য নাকি নাসার প্রচার?
নাসা এ মিশনের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাপ্তিগুলো বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। নভোচারীরা চাঁদকে পেরিয়ে যাওয়ার সময় বিস্তর পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন, রিয়াল টাইমে প্রায় ৩৫টি ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়েছে, রঙের বৈচিত্র্য দেখে খনিজ উপাদানের ধারণা মিলেছে ও গভীর মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণও দেখা গেছে, যা পাইলট ভিক্টর গ্লোভারের ভাষায় ছিল ‘অকল্পনীয়’।
যার মধ্যে ‘ওরিয়েন্টাল বেসিন’-এর ছবিটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। চাঁদের উল্টো পিঠের কাছে অবস্থিত প্রায় ৬০০ মাইল বিস্তৃত এ বড় গহ্বরটি এই প্রথম মানুষের চোখ সরাসরি পূর্ণাঙ্গভাবে দেখার সুযোগ পেল।
তবে এত কিছুর পরেও বিজ্ঞানই এ মিশনের মূল লক্ষ্য নয়।
‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক ক্রিস লিন্টট বলেছেন, “আর্টেমিস টু ও এর নভোচারীদের পাঠানো বিভিন্ন ছবির শৈল্পিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে তবে বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এগুলোর গুরুত্ব সীমিত।”
২০২৩ সালে ভারতের ‘চন্দ্রযান-৩’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করেছে। ২০২৪ সালে চীনের ‘চ্যাং-ই-৬’ চাঁদের উল্টো পিঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এনেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রোবটিক প্রোব এ অঞ্চলের মানচিত্র নিখুঁতভাবে তৈরি করেছে।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে আসেনি, এসেছে নভোচারীদের কাছ থেকে। ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের সেট করা দূরত্বের রেকর্ড যখন বর্তমান আর্টেমিস টু ক্রু সদস্যরা ভেঙে দেন তখন মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বলেছেন, চাঁদের দৃশ্যমান অংশ ও দূরবর্তী অংশ বা উল্টো পিঠের সীমানায় ‘গ্লুশকো’ গর্তের উত্তর-পশ্চিমে এক উজ্জ্বল বিন্দুর মতো এক গহ্বর দেখা যাচ্ছে।
ওই সময় গলা ধরে আসা কণ্ঠে তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের একজন প্রিয়জনকে হারিয়েছি। তার নাম ছিল ক্যারল, যিনি আমাদের মিশন কমান্ডার রিডের স্ত্রী এবং কেটি ও এলির মা। আমরা এই গহ্বরটির নাম ‘ক্যারল’ রাখতে চাই।”
এরপর ৪৫ সেকেন্ড সেখানে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করল। রিড ওয়াইজম্যান কান্নায় ভেঙে পড়লেন। নভোচারীরা তাকে জড়িয়ে ধরলেন। আর পৃথিবীতে বসে হিউস্টন থেকে তার কন্যারা সেই দৃশ্য দেখলেন।
সেই মুহূর্তটি কেবল আবেগের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর পেছনে আরও বড় কারণ রয়েছে। যেসব মহাকাশ কর্মসূচি মানুষের অকৃত্রিম ও স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ তৈরি করতে পারে না, সেগুলো খুব বেশিদিন টিকে থাকে না।
‘অ্যাপোলো’ মিশন যে আজও মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে তার কারণ কেবল এর প্রকৌশলগত উৎকর্ষ নয়, বরং মানুষের সাহস এবং অজানাকে ছোঁয়ার আকুলতা মিশনটি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল তা আজও অমলিন ও অতুলনীয়।
আর্টেমিস টু সেই আবেগঘন মুহূর্তটির মাধ্যমে আবারও একই সত্য প্রমাণ করেছে।

বড় পরীক্ষা এখনও বাকি
মিশন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ওরিয়ন এখন পৃথিবীর পথে, যা ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের কথা রয়েছে।
এখনও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ওরিয়নের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ। ঠিক এ মুহূর্তটি নিয়েই ‘আর্টেমিস এক’ মিশনের পর অনেক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় হিট শিল্ড বা তাপ নিরোধক ঢালের অপ্রত্যাশিত ক্ষতির ফলে তদন্ত শুরু হয়েছিল, যার কারণে আর্টেমিস টু মিশনটি এক বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে যায়।
ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এ এমন এক পরীক্ষা, যা কোনো সিমুলেটর দিয়ে হুবহু তৈরি করা সম্ভব নয়। এ পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করবে এ মিশনের প্রকৃত সার্থকতা, যা চাঁদের উল্টো পিঠের যে কোনো ছবির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের প্রক্রিয়াটি সফল হলে আর্টেমিস টু থেকে পাওয়া চিত্রটি হবে সত্যিকার অর্থেই আশাব্যঞ্জক। রকেট ঠিকঠাক কাজ করেছে, মহাকাশযান সফল হয়েছে ও নভোচারীরা দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
অবশেষে নাসা এ মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো এক নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবে, যেখানে তিন বছর বসে না থেকে এই সাফল্যকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যেতে পরবে সংস্থাটি।
২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ করা এখনও বেশ কঠিন লক্ষ্য বলেই মনে হচ্ছে। বিজ্ঞানী বারবারের ধারণা অনুসারে, এমনটি হতে আরও অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে এবং তার এই বিচারকে ভুল বলা কঠিন।
তবে উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পর্যন্ত এ মিশনের সাবলীলতা পুরো প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন কেবল ওরিয়ন মহাকাশযানের সক্ষমতা নিয়ে নয়, বরং প্রশ্ন হচ্ছে চন্দ্রযান, কাজের গতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে কি না। কারণ, মহাকাশযানটি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করেছে।
আর্টেমিস টু-এর এ গল্প যেমন বিজ্ঞানের তেমনই এক অদম্য এক অনুপ্রেরণারও। এ মিশনের বিভিন্ন ঘটনা যেন সেই অ্যাপোলো প্রোগ্রামেরই প্রতিধ্বনি ছিল।
১৯৬০-এর দশকে যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা চলছিল ঠিক সেই সময়ের মতো বর্তমানেও বিশ্বে ইতিবাচকতার বড্ড অভাব।
এমন পরিস্থিতিতে এ মিশনটি আমাদের সেই বিরল মুহূর্ত উপহার দিল, যেখানে আমরা অন্তত একটি রাতের জন্য ভুলে যেতে পেরেছিলাম, আমরা কতটা বিভক্ত; আমাদের মনে করিয়ে দিল, আমরা সবাই এক। মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর সেই ছবিটির দিকে তাকালে আজ আবারও সেই একাত্মতাই অনুভব করা যায়।
তবে এ গল্পের এখানেই শেষ নয়, কেবল শুরু। আর্টেমিস টু মিশনটি ছিল চাঁদে মানুষের পুনরায় পা রাখার এক সফল পরীক্ষামূলক মহাকাশ যাত্রা। কেবল একবারের জন্য নয়, ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক রোমাঞ্চকর অভিযানের পথ খুলে দিল আর্টেমিস টু।