Published : 25 Nov 2025, 01:43 PM
সম্মতি ছাড়াই যৌন বিষয়ক ডিপফেইক তৈরি ও শেয়ার নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে এক নতুন সমীক্ষায়। যুক্তরাজ্যের পুলিশ কমিশনের করা ওই সমীক্ষা বলছে, প্রতি চারজনের একজন মনে করেন কোনো ব্যক্তির সম্মতি না থাকলেও যৌন বা অন্তরঙ্গ ডিপফেইক তৈরি ও ছড়ানোতে ‘কোনো ভুল নেই’ বা তারা বিষয়টিকে ‘নিরপেক্ষভাবে’ দেখেন।
এক হাজার সাতশ মানুষের ওপর করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা সরাসরি বলেছেন সম্মতি ছাড়াই যৌন বা অন্তরঙ্গ ডিপফেইক তৈরি ও শেয়ার করায় কোনো সমস্যা নেই। আরও ১২ শতাংশ এই বিষয়ে নৈতিক বা আইনগতভাবে কোনো অবস্থান নেননি অর্থাৎ তারা নিরপেক্ষ।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভায়োলেন্স আগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড গার্লস ও পাবলিক প্রোটেকশনের সঙ্গে কাজ করা ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্লেয়ার হ্যামন্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের স্মরণ করিয়ে বলেন, “কারও সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা গভীরভাবে লঙ্ঘনমূলক এবার সেটি বাস্তব হোক বা এআই দিয়ে তৈরি”।
সমীক্ষার মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এআই প্রযুক্তির বিস্তার বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মহামারিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই অপব্যবহারে সম্পৃক্ত, কারণ, তারা মাত্র এক ক্লিকে এমন কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করা সহজ করে দিয়েছে। এখনই তাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।”
তিনি ভুক্তভোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ডিপফেইক দেখলে পুলিশকে জানাতে। “এটি গুরুতর অপরাধ এবং আমরা আপনাদের পাশে থাকব। নীরব থেকে কারো কষ্ট পাওয়া উচিত নয়,” বলেন হ্যামন্ড।
গার্ডিয়ান দৈনিক লিখেছে, যুক্তরাজ্যের নতুন ডেটা অ্যাক্ট অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া যৌন আপত্তিকর ডিপফেইক তৈরি করা এখন একটি ফৌজদারি অপরাধ।
অপরাধ ও বিচার সংক্রান্ত পরামর্শক কোম্পানি ক্রেস্ট অ্যাডভাইজরির এক প্রতিবেদনে বলছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া সাত শতাংশ ব্যক্তি জানিয়েছেন তাদের নিজস্ব ছবি বা ভিডিওকে ব্যবহার করে যৌন ডিপফেইক বানানো হয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৫১ শতাংশ পুলিশকে অভিযোগ করেছেন।
আর যারা কাউকে কিছু জানাননি তাদের প্রধান কারণ ছিল লজ্জা এবং এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে আস্থার অভাব।
তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ বছরের নিচের পুরুষদের বড় একটি অংশ এই ধরনের ডিপফেইক তৈরি বা শেয়ারের বিষয়টিকে ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে করেন। এই গোষ্ঠী নিয়মিত অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে, নারীবিদ্বেষী মতামতের সঙ্গে একমত হওয়ার প্রবণতা বেশি এবং এআই সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক এই সম্পর্ক দুর্বল এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন।
সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, প্রতি ২০ জনে একজন স্বীকার করেছেন তারা অতীতে ডিপফেইক তৈরি করেছেন আবার প্রতি ১০ জনে একজন বলেছেন ভবিষ্যতে তারা ডিপফেইক তৈরি করতে পারেন। দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছেন তারা কোনো ডিপফেইক দেখেছেন বা দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনের লেখক এবং ক্রেস্ট অ্যাডভাইজরির নীতিমালা ও কৌশল প্রধান ক্যালিয়েন দেসরোশ সতর্ক করে বলেন, “ডিপফেইক এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে কারণ এই প্রযুক্তি দ্রুত সস্তা ও সহজলভ্য হচ্ছে”। তিনি যোগ করেন, “কিছু ডিপফেইক হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে কিন্তু বিপুল সংখ্যক ভিডিওই যৌনকেন্দ্রিক আর লক্ষ্যবস্তু প্রায় সবসময়ই নারী।
“আমাদের গবেষণা বলছে, তরুণ পুরুষদের একটি দল নিয়মিতই পর্নোগ্রাফি দেখে এবং নারীবিদ্বেষী ধারণা পোষণ করে। এই গোষ্ঠীই কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়া যৌন ডিপফেইক দেখা, তৈরি করা বা শেয়ার করাকে কোনো ক্ষতি হিসেবে দেখে না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ডিপফেইক নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষায় কাজ করা অ্যাকটিভিস্ট ক্যালি জেন বিচ বলেন, “আমরা খুব দুশ্চিন্তাময় পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত ঝুঁকিতে পড়বে যদি এখনই ডিজিটাল জগতে দৃঢ় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
একটি পুরো প্রজন্ম কোনো নিরাপত্তাবিধি বা নিয়ম ছাড়াই বড় হয়েছে এখন আমরা সেই স্বাধীনতার অন্ধকার দিক দেখছি। এটি থামানো শুরু করতে হবে ঘর থেকেই। শিক্ষা ও খোলামেলা আলোচনা প্রতিদিনই জোরদার করতে হবে নইলে এই অপব্যবহার থামানো সম্ভব হবে না।”