Published : 08 Jul 2025, 06:57 PM
চীনের বাইরে উৎপাদন কারখানা দ্রুত সরিয়ে না নেওয়ায় অ্যাপলের সিইও টিম কুকের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারো।
ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে অ্যাপল যেন চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য দেশ থেকে পণ্য উৎপাদন করে। তবে এ বিষয়ে কোম্পানিটি জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সোমবার অ্যাপল প্রধানের তীব্র সমালোচনা করেছেন হোয়াইট হাউসের এই বাণিজ্য উপদেষ্টা।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’র ‘স্কোয়াক অন দ্য স্ট্রিট’ অনুষ্ঠানে নাভারো বলেছেন, “অ্যাপলের বিভিন্ন কারখানা চীন থেকে সরিয়ে নিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকাল থেকেই বারবার সময় চেয়ে আসছেন কুক। এ যেন সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক নাটক, যা অনেকদিন ধরে চলছে, শেষই হচ্ছে না।”
নাভারোর সমালোচনার বিষয়ে সিএনবিসি’র মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।
কয়েক মাস ধরে অ্যাপলের জনপ্রিয় পণ্য আইফোনের উৎপাদন বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আইফোন মূলত চীনে তৈরি হলেও ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কের খরচ আংশিকভাবে এড়াতে ধীরে ধীরে ভারতে নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে অ্যাপল।
এর আগে, মে মাসে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি আইফোনের জন্য ২৫ শতাংশ বা তারও বেশি শুল্ক দিতে হবে অ্যাপলকে। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি টিম কুককে বলেছেন, “আমি চাই না তুমি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভারতে পণ্য উৎপাদন করো।”
এদিকে, বিশ্লেষক ও সরবরাহ চেইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপলের জন্য আইফোনের উৎপাদন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা অসম্ভব। কিছু হিসাব অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি আইফোনের দাম দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত।
নাভারো বলেছেন, চীন থেকে উৎপাদন স্থানান্তর করতে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন না কুক।
“নতুন আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআইয়ের উন্নতির সঙ্গে সবকিছু এত দ্রুত আগাচ্ছে, ফলে আমার কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে যে, কুক এখনও কেন তাদের বিভিন্ন আইফোনের উৎপাদন বিশ্বের অন্য কোথাও বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করতে পারছেন না।”
সিএনবিসি লিখেছে, বর্তমানে খুব কম পণ্যই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করে অ্যাপল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে টেক্সাসে তিন হাজার ডলারের ‘ম্যাক প্রো’ তৈরির কথা বলেছিল অ্যাপল এবং সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল তারা।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপল ঘোষণা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি, যার মধ্যে থাকবে কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সার্ভারও।