Published : 25 Mar 2026, 03:25 PM
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি শাস্তির মুখে পড়েছে ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা।
কোম্পানিটিকে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের এক আদালত। মেটার অভ্যন্তরীণ নথিতে শিশুদের জন্য ঝুঁকির প্রমাণ থাকার পরও তা গোপন করার দায়ে এ রায় এসেছে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মেটাকে দেওয়ানি মামলায় অঙ্গরাজ্যটির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহজুড়ে চলা এ বিচারের সমাপনী যুক্তি শেষ হওয়ার একদিন পরই জুরিরা মেটার বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগের রায় ও জরিমানার নির্দেশ এল।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার মূল বিষয়, মেটা জানত যে তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিপীড়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এরপরও তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
রায়ে উঠে এসেছে, মেটা তাদের সেবার নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের দুটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। আদালত মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে, যা আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি।
বিচার চলাকালীন জুরি সদস্যদের সামনে মেটার ইতিহাসের অসংখ্য অভ্যন্তরীণ নথিপত্র তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে ছিল টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল ও মেটার কর্মকর্তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন ইমেইল।
ওইসব ইমেইলে সেক্সটর্শন বা যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল, আত্মক্ষতিমূলক কনটেন্ট ও গ্রুমিং বা অসাধু উদ্দেশ্যে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার মতো বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
কৌঁসুলিরা যুক্তি দিয়েছেন, মেটা জনসমক্ষে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, এসব নথিপত্র প্রমাণ মেলে, তারা আসলে জানত যে তাদের অ্যাপে শিশুরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কোম্পানিটি।
“আমরা সম্মানের সঙ্গেই এই রায়ে দ্বিমত পোষণ করছি এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আমাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষকে নিরাপদ রাখতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট বা অপরাধীদের শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সচেতন।
“আমরা জোরালোভাবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব ও অনলাইনে টিনএজারদের সুরক্ষায় আমাদের যে রেকর্ড রয়েছে সে বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
নিউ মেক্সিকোর এ রায়ই মেটার বিরুদ্ধে মামলার শেষ নয়। মেটা ‘পাবলিক নুইসেন্স’ বা জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর এ যুক্তিতে আগামী মে মাস থেকে ‘বেঞ্চ ট্রায়াল’, যেখানে জুরি ছাড়াই কেবল বিচারক রায় দেন তা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এ রায়কে মেটার নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ক্ষতির মুখে পড়া বিভিন্ন পরিবারের জন্য ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
“মেটার কর্মকর্তারা জানতেন যে তাদের পণ্য শিশুদের ক্ষতি করছে, তারা নিজেদের কর্মীদের সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন এবং তারা যা জানতেন সে সম্পর্কে জনগণের কাছে মিথ্যা বলেছেন।
“আজ আদালত ক্ষতির মুখে পড়া পরিবার, শিক্ষাবিদ ও শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর সহ্য করা হবে না।”
নিউ মেক্সিকোর এই বিচার প্রক্রিয়াটি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কারণ শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে চলমান অনেকগুলো মামলার মধ্যে এ ছিল অন্যতম প্রধান মামলা।
বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি নিয়ে অন্য এক মামলার রায় দেওয়ার জন্য জুরিরা আলোচনা করছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্যের একটি জোট টিনএজারদের ক্ষতি করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।