Published : 29 Jan 2026, 01:46 PM
বিশ্বজুড়ে আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।
বুধবার কোম্পানিটি বলেছে, বিশ্বজুড়ে ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে তারা।
গত তিন মাসের মধ্যে এটি অ্যামাজনের দ্বিতীয় দফার বড় ছাঁটাই।
প্রায় ৩০ হাজার কর্পোরেট পদ ছেঁটে ফেলার বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ও এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে অ্যামাজন– এ খবর গত সপ্তাহে প্রথম প্রকাশ করেছিল রয়টার্স।
করোনা মহামারীর সময়ে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পর এখন ব্যবসায়িক কাঠামো নতুন করে সাজানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।
এ ছাঁটাইয়ের ফলে কোম্পানিটির অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, রিটেইল, প্রাইম ভিডিও এবং মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এর আগে, গেল অক্টোবরের শেষ দিকে ১৪ হাজার অফিস পর্যায়ের কর্মী ছাঁটাই করেছিল অ্যামাজন।
ওই সময় কোম্পানির সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি বলেছিলেন, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর জন্য অপারেশনাল স্তর বিন্যাস ও ম্যানেজারের সংখ্যা কমিয়ে কোম্পানিকে আরও গতিশীল করাই তাদের লক্ষ্য।
অ্যামাজনের ‘পিপল এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি বলেছেন, “আপনাদের কারো কারো মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা ঘনঘন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেব কি না? অ্যামাদের পরিকল্পনা মোটেও তেমনটি নয়।”
এআই ব্যবহারের প্রভাব
এআই কীভাবে কর্পোরেট কজের ধরন বদলে দিচ্ছে সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে অ্যামাজনের এ কর্মী ছাঁটাই। এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর উন্নতির ফলে এখন দাপ্তরিক সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে কোডিংয়ের মতো জটিল বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বিভিন্ন কোম্পানি।
গত গ্রীষ্মে অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি বলেছিলেন, এআই টুলের ক্রমাগত ব্যবহার অনেক কাজকে ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করে তুলবে। ফলে কর্পোরেট পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।
এ মাসের শুরুতে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর বার্ষিক সভায় শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, এআইয়ের কারণে কিছু কাজ হারিয়ে গেলেও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে তাদের মধ্যে দুজন রয়টার্সকে বলেছেন, অনেক কোম্পানি আগে থেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করে রাখে ও পরে এআইকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে।
সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই অ্যামাজনের মোট ১৫ লাখ ৮০ হাজার কর্মীর তুলনায় সামান্য হলেও তা কোম্পানিটির অফিস পর্যায়ের জনশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ। তাদের অধিকাংশ কর্মী কোম্পানিটির পণ্য সরবরাহ কেন্দ্র ও গুদামগুলোতে কাজ করেন।
অ্যামাজন, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো করোনা মহামারীর সময়ে বাড়তি চাহিদার কারণে প্রচুর নতুন কর্মী নিয়োগ করেছিল। বর্তমানে তাদের ওই জনশক্তি নতুন করে ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়ছেন।
নিজেদের ই-কমার্স ব্যবসার গতি বাড়াতে বিভিন্ন গুদামে রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে অ্যামাজন। যার লক্ষ্য, প্যাকেজিং ও ডেলিভারি দ্রুত, মানুষের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং খরচ সাশ্রয় করা।
আগামী সপ্তাহে তাদের ত্রৈমাসিক ব্যবসায়িক ফলাফল বা আয়ের হিসাব প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।