Published : 29 Apr 2026, 11:57 AM
বার্লিনের আর্ট গ্যালারিতে ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস, অ্যান্ডি ওয়ারহল ও পাবলো পিকাসোর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের চেহারার আদলে তৈরি সিলিকন মাথার রোবট কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এ অভিনব শিল্পকর্মটি আধুনিক সমাজ ও প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারদের প্রভাব নিয়ে এক সাহসী বার্তাই দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
এসব যান্ত্রিক কুকুর মাঝেমধ্যে এদের আশপাশের পরিবেশের ছবি ‘মল’ হিসেবে বের করছে। কুকুরের ভেতরে থাকা ক্যামেরায় তোলা এসব ছবিকে এআই ব্যবহার করে নতুন রূপ দিয়ে সেগুলো প্রিন্ট আকারে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
‘রেগুলার অ্যানিমালস’ শিরোনামের এ শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন মার্কিন শিল্পী বিপল, যার আসল নাম মাইক উইঙ্কেলম্যান। বর্তমানে বার্লিনের ‘নিউ ন্যাশনাল গ্যালারি’তে প্রদর্শিত হচ্ছে শিল্পকর্মটি।
প্রতিটি প্রিন্ট করা ছবি বাস্তবতার এক একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছে, যা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি, যেখানে রোবট কুকুরের মাথাওয়ালা ব্যক্তিটির ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী, যেমন পিকাসো কুকুরটি কিউবিস্ট শৈলীতে ছবি তৈরি করছে, আবার ওয়ারহলের কুকুরটি তৈরি করছে পপ আর্ট।
প্রদর্শনী আয়োজকরা বলছেন, এ উষ্কানিমূলক শিল্পকর্মটি মূলত তুলে ধরেছে, কীভাবে মানুষের চিন্তাধারা দিন দিন বিভিন্ন অ্যালগরিদম ও প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে।
শিল্পী বিপল বলেছেন, “অতীতে আমাদের বিশ্ব দেখার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা শিল্পীদের দেখার ভঙ্গির ওপর নির্ভর করত। পিকাসোর ছবি আঁকার ধরন বদলে দিয়েছিল আমরা পৃথিবীকে কীভাবে দেখি; আবার ওয়ারহল যেভাবে ভোগবাদ বা পপ কালচার নিয়ে কথা বলতেন তা ওইসব বিষয় দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছিল।
“তবে বর্তমানে পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের ধারণা সেইসব প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারদের মাধ্যম নির্ধারিত হয়, যারা শক্তিশালী অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা কোন তথ্যটি দেখতে পাব আর কোনটি পাব না তা তারাই ঠিক করে দেন।
“এ বড় ক্ষমতা, যা আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। কারণ যখন তারা কোনো পরিবর্তন আনতে চান তখন তাদের জাতিসংঘে তদবির করতে হয় না; তাদের কংগ্রেস বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদনেরও প্রয়োজন হয় না; তারা কেবল সকালে ঘুম থেকে উঠে এসব অ্যালগরিদম বদলে দিলেই হয়।”
এসব রোবট কুকুরের মধ্যে শিল্পী বিপলের নিজের চেহারার আদলে তৈরি মাথাও রয়েছে।
প্রদর্শনীর কিউরেটর লিসা বত্তি এআইকে মানুষের ‘সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
“জাদুঘর এমন জায়গা, যেখানে সমাজ এসব পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়।” আর এই ভাবনা থেকেই তিনি বিপলের কাজ প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ শিল্পকর্মটি প্রথমবার ২০২৫ সালে ‘আর্ট ব্যাসেল মায়ামি বিচ’-এ উন্মোচিত হয়েছিল।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গ্রাফিক ডিজাইনার বিপল তার ডিজিটাল শিল্পকর্মের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তিনি থ্রিডি গ্রাফিক্সে ‘এভরিডে’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রতিদিন একটি করে নতুন ডিজিটাল ছবি তৈরি করে অনলাইনে পোস্ট করে আসছেন।
শিল্পকলায় বিপলের প্রভাব গভীর। নিলামে সর্বোচ্চ মূল্যে শিল্পকর্ম বিক্রি হওয়া জীবিত শিল্পীদের তালিকায় নিলামকারী কোম্পানি ‘ক্রিস্টিস’ তাকে ডেভিড হকনি ও জেফ কুনসের পরে তৃতীয় স্থানে রেখেছে।
২০২১ সালের বসন্তে বিপলের ডিজিটাল কোলাজ ‘এভরিডেইস: দ্য ফার্স্ট ৫০০০ ডেইস’ ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যে নিলামে বিক্রি করেছিল ‘ক্রিস্টিস’।
ক্রিস্টিস এ শিল্পকর্মকে ‘আধুনিক সমাজ, সরকার ও সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিপলের বিভিন্ন কাজে প্রায়ই ডনাল্ড ট্রাম্প ও কানিয়ে ওয়েস্টের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে ‘ভয়াবহ ও নৈরাজ্যবাদী এক ভবিষ্যৎ’ ফুটিয়ে তোলা হয়।
এ ঐতিহাসিক নিলামটি ছিল কোনো বড় নিলামকারী কোম্পানির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘এনএফটি’ থাকা ডিজিটাল শিল্পকর্ম বিক্রি করার ঘটনা, যা এর মৌলিকত্বের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
‘এনএফটি’ এক ধরনের ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র, যা ‘ব্লকচেইন’ নামের ডিজিটাল লেজারে তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কোনো ডিজিটাল সংগ্রহের সত্যতা নিশ্চিত করে। ক্রিপ্টোকারেন্সির জোয়ারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংগ্রাহকদের কাছে এনএফটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া, নিলামে শিল্পকর্ম কেনার ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের প্রথম উদাহরণও ছিল এ নিলাম।