Published : 06 Oct 2025, 11:41 AM
রাশিয়া জেট ইঞ্জিনচালিত নতুন হামলাকারী ড্রোন তৈরি করেছে, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম বলে দাবি তাদের।
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে দুই পক্ষই ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। এ যুদ্ধে ড্রোনকে যেমন নতুন উপায়ে ব্যবহার করছে ইউক্রেইন তেমনি নানা দিক থেকে উদ্ভাবনী পন্থা নিয়েছে রাশিয়াও।
ইউক্রেইনে ব্যয়বহুল রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বদলে ড্রোন ব্যবহার করছে রাশিয়া। ড্রোন অনেক সাশ্রয়ী এবং কোনো ড্রোন যদি কোনো দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায় তবে আরেকটি ড্রোন সহজেই তার জায়গা নিতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের বড় একটি কারণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের অনেক অংশে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে অপেক্ষা করে তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে ও বিস্ফোরিত হয়। সহজ কথায়, এগুলো উচ্চ বিস্ফোরকওয়ালা উড়ুক্কু গ্রেনেড। রাশিয়ার কাছে এসব ড্রোনের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
প্রতি মাসে এ ধরনের হাজার হাজার ড্রোন হাতে পাচ্ছে রাশিয়া এবং যুদ্ধে তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর উৎপাদনও বাড়ছে। সম্প্রতি নতুন ধরনের ‘শাহেদ’ ড্রোন ইউক্রেনের আকাশে প্রবেশ করেছে, যা উন্নত সক্ষমতার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এ যুদ্ধে।

রাশিয়ার নতুন জেরান-৩ জেট-চালিত ড্রোন
বেশিরভাগ ড্রোনে কম খরচে প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। তবে জেটচালিত ‘শাহেদ-২৩৮’ বা রাশিয়া যেটিকে ‘জেরান-৩’ নামে ডাকছে তা প্রচলিত ড্রোনকে আরও দ্রুত ও কৌশলী করে তুলেছে। এতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রতিরোধ ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে ইউক্রেইনের পুরানো কৌশল রাশিয়ার জেটচালিত ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রতিরোধী এ ধরনের হামলাকারী ড্রোনের বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর নয়। তবে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে ইউক্রেইনের।
‘জেরান-৩’সহ বেশ কয়েকটি বিধ্বস্ত রাশিয়ান ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেছে ইউক্রেইন। এদিকে, রুশ সাইট ‘রুএভিয়েশন’-এ দেওয়া নতুন ড্রোনটির তথ্য অনুসারে, নতুন ড্রোনটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১১ ফুট, ডানার ব্যাস ৮ ফুট এবং এতে ৯০ কিলো শক্তিশালী ‘হাই-এক্সপ্লোসিভ ফ্র্যাগমেন্টেশন ইনসেনিয়ারি’ শেল রয়েছে। ড্রোনটির অপারেশনাল রেঞ্জ প্রায় এক হাজার কিমি ও সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে এটি।
এ ছাড়াও, জেরান-৩-এর কিছু ওয়ারহেডকে ‘থার্মোবারিক’-এ আপগ্রেড করেছে রাশিয়া। ফলে এটি আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত উপায়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। ‘জেরান-৩’‑এর উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কনট্রামেজার স্যাটেলাইট সিগনাল জ্যামিংয়ের মাধ্যমে টার্গেটে কী রয়েছে তা আরও ভালোভাবে চিনতে পারে।
এসব ড্রোন বিভিন্ন জ্যামিং জোন শনাক্ত করে সেগুলো এড়িয়ে যেতেও সক্ষম। এগুলোর ধ্বংসাবশেষে বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা প্রায় ৫০টি বিদেশি উপাদান ব্যবহার করেছে রাশিয়া। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বেশিরভাগ উপাদান এসেছে চীন থেকে।