Published : 25 Mar 2026, 11:53 AM
প্রায় ১৮ কোটি মাইল দূরের এক গ্রহাণু থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে এক মহাকাশযান পাঠিয়েছিল জাপান, ওই অভিযানের খবরটি হয়ত অনেকেরই মনে আছে।
পৃথিবী থেকে সেই দীর্ঘ যাত্রার ৬ বছর পর সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনা থেকে এখন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য মিলেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে কীভাবে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল তার রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে ওই ধূলিকণায়।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মহাকাশের রহস্যময় গ্রহাণু থেকে শুরু করে হাবল টেলিস্কোপের চোখে ধূমকেতুর ভাঙন– বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে গত কয়েক দিনে ঘটে গেছে কিছু রোমাঞ্চকর ঘটনা।
একদিকে জাপানি মহাকাশযানের আনা রিউগু গ্রহাণুর ধূলিকণায় মিলেছে প্রাণের মৌলিক উপাদান ডিএনএ’র সন্ধান, যা পাল্টে দিতে পারে প্রাণের আদি ইতিহাস। অন্যদিকে, হাবল টেলিস্কোপের চোখে ধূমকেতুর ভাঙন দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
রিউগু গ্রহাণুতে ডিএনএ’র উপাদান
২০২০ সালে জাপানি মহাকাশযান ‘হায়াবুসা-২’ ক্যাপসুলের মাধ্যমে রিউগু গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসে। সৌরজগতের শুরুর দিকের অবস্থা সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা গত কয়েক বছর ধরে এসব উপাদান বিশ্লেষণ করছেন।
এ সপ্তাহে জাপানের গবেষকরা রোমাঞ্চকর এক আবিষ্কারের কথা বলেছেন। রিউগু থেকে আনা নমুনায় ডিএনএ ও আরএনএ তৈরির পাঁচটি প্রধান উপাদান মিলেছে।
সাম্প্রতিক অন্যান্য গবেষণার সঙ্গে এ আবিষ্কারটি যোগ হওয়ায় কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রাণের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে এসেছিল তা বোঝার ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে।
এ গবেষণায় নিউক্লিওবেস অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন ও ইউরাসিল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান গত বছর ‘বেন্নু’ নামের অন্য এক গ্রহাণু এবং এরও আগে ‘মার্শিসন’ ও ‘ওরগুইল’ নামের উল্কাপিণ্ডে মিলেছিল।

গবেষকরা বলেছেন, এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, এসব নিউক্লিওবেস আদি সৌরজগতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল। বিষয়টি এ ধারণাটিকেও সমর্থন করে যে, রিউগু ও বেন্নুর মতো কার্বনওয়ালা গ্রহাণুগুলোই এসব উপাদানকে পৃথিবীতে বহন করে নিয়ে এসেছিল। নমুনায় অ্যামোনিয়াও মিলেছে, যা এসব নিউক্লিওবেস গঠনে সম্ভবত ভূমিকা রেখেছে।
‘জাপান এজেন্সি ফর মেরিন আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র প্রধান গবেষক তোশিকি কোগা বলেছেন, এসব উপাদান পাওয়ার মানে এই নয় যে ‘রিউগুতে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল’, বরং এগুলোর উপস্থিতির মানে হচ্ছে, আদিম বিভিন্ন গ্রহাণুতে প্রাণের উৎপত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিভিন্ন অণু তৈরি হতে পরে এবং সেগুলো টিকেও থাকতে পারে।
হাবল টেলিস্কোপের চোখে ধূমকেতুর ভাঙন
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু ছবিতে ধূমকেতু ‘সি/২০২৫ কে১ অ্যাটলাস’ সংক্ষেপে ‘কে২’-এর অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
গেল বছরের নভেম্বরে ধূমকেতুটি সৌরজগত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। গবেষকদের একটি দল অন্য এক ধূমকেতু পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেলিস্কোপের লক্ষ্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ঠিক তখনই ধূমকেতু ‘কে২’কে ভেঙে চুরমার হওয়ার শুরুর অবস্থায় দেখতে পান।
২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে হাবল টেলিস্কোপ ২০ সেকেন্ডের তিনটি ছবি তোলে।
গবেষক দলের ধারণা, প্রথম ছবিটি তোলার কেবল আট দিন আগে ধূমকেতুটি খণ্ডবিখণ্ড হতে শুরু করেছিল। পর্যবেক্ষণের সময়ই এর ছোট এক অংশ আরও টুকরা হয়ে ভেঙে যেতে দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, একেই বলে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকা!
‘অবার্ন ইউনিভার্সিটি’র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা অধ্যাপক জন নুনান বলেছেন, “এর আগে ধূমকেতু ভেঙে যাওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যে হাবল কখনোই কোনো ছবি তুলতে পারেনি।
“বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস পর ঘটনাটি জানতে পারি। তবে এবার আমরা এমন ঘটনা ঘটার কেবল কয়েক দিনের মধ্যেই তা দেখতে পেয়েছি।”