Published : 11 Jan 2026, 10:46 AM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডিপফেইক নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ ঘিরে অ্যাপ স্টোর নীতিমালা ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রযুক্তি সাইট ভার্জে এ বিষয়ে একটি কলাম লিখেছেন সাইটটির বিজ্ঞান সম্পাদক এলিজাবেথ লোপাটো। লেখাটিতে তিনি অ্যাপল ও গুগলের প্রধান নির্বাহীদ্বয় টিম কুক ও সুন্দার পিচাইয়ের নৈতিক অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন।
এক্স ব্যবহারকারীরা গ্রক নামের এআই টুল দিয়ে নারীদের নগ্ন ডিপফেইক ছবি তৈরি শুরু করার পর স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছিল, অ্যাপ স্টোর নীতিমালা ভাঙার কারণে এক্সকে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু তা হয়নি। এই বাস্তবতাই, লোপাটোর মতে, সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি লেখেন, টিম কুক ও সুন্দার পিচাই ইলন মাস্ককে ভয় পান বলেই এক্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তার ভাষায়, “এই নীরবতা দেখিয়ে দেয়, তারা কতটা দুর্বল এবং ক্ষমতার কাছে নিজেদের নীতিকে কতটা বিক্রি করে দিয়েছেন।”
প্রতিবেদনে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর গাইডলাইন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, কোনো অ্যাপে “আপত্তিকর, অস্বস্তিকর বা ভয়ংকর কনটেন্ট” থাকা উচিত নয়। গুগল প্লের নীতিমালাও আরও কঠোর, যেখানে শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংশ্লিষ্ট কনটেন্টে যে অ্যাপ জড়িত, তাকে “তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার” কথা বলা আছে।
তবু কেন এক্স এখনো বহাল? লেখক বলছেন, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক হিসাব। তিনি লিখেছেন, এক্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে ইলন মাস্ক এবং তার নিয়ন্ত্রিত ডানপন্থী মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে অসন্তুষ্ট করা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবও এখানে বড় বিষয়।
চীনের ওপর অ্যাপলের উৎপাদন নির্ভরতা এবং সম্ভাব্য শুল্ক ঝুঁকি টিম কুককে আরও সতর্ক করে তুলেছে বলেও দাবি লেখকের। অন্যদিকে গুগল প্রধান সুন্দার পিচাইকেও ট্রাম্পের ক্ষোভের আশঙ্কায় নানা বিষয়ে নরম অবস্থান নিতে হচ্ছে বলে তিনি লিখেছেন।
এক সময় ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি প্রতিবেদক হিসাবে কাজ করা লোপাটো আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে শিশুদের অশালীন ছবি থাকার অভিযোগে টাম্বলারকে অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দিয়েছিল অ্যাপল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “তাহলে এক্সের ক্ষেত্রে নিয়ম কেন আলাদা হবে?”
এক পর্যায়ে তিনি অ্যাপল বনাম এপিক গেইমস মামলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অ্যাপল তখন অ্যাপ স্টোরের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে শিশু সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই যুক্তিই এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনের শেষে লেখক টিম কুকের ‘প্রাইভেসি একটি মানবাধিকার’ শীর্ষক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, এমন নৈতিক অবস্থানে তখনই ভরসা করা যায়, যখন তা বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়। তার মতে, অ্যাপল ও গুগল এখন মূলত ‘শেয়ারহোল্ডার ভ্যালু’ ছাড়া আর কোনো স্পষ্ট মূল্যবোধ দেখাতে পারছে না।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও অ্যাপল ও গুগল কেউই সাড়া দেয়নি।