Published : 23 Dec 2025, 11:57 AM
ভিনগ্রহবাসী এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছে এমন ধারণায় বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে। একাধিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকের বেশি সময়ে এই বিশ্বাস ধীরে ধীরে মূলধারার আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
এ বছর নভেম্বরে করা ইউগভের এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বলেছেন, এলিয়েনরা নিশ্চিতভাবে বা সম্ভবত কোনো না কোনো সময় পৃথিবীতে এসেছে। ২০১২ সালে একই সংখ্যক অংশগ্রহণকারী নিয়ে করা কেলটন রিসার্চের জরিপে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ। গ্যালাপের ২০১৯ ও ২০২১ সালের জরিপেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
জরিপের আরেকটি দিকও নজর কেড়েছে। অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের সংখ্যা কমছে। ২০১২ সালে যেখানে ৪৮ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না, নতুন জরিপে সেই হার নেমে এসেছে ১৬ শতাংশে। একই সঙ্গে এলিয়েনরা আসেননি বলে বিশ্বাসীদের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১২ সালের ১৭ শতাংশ থেকে তা এখন হয়েছে ৩৭ শতাংশ।
কেন এমন পরিবর্তন, জরিপের সংখ্যা থেকে তার সরাসরি উত্তর মেলে না। তবে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মিলিত প্রভাবকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সাময়িকী ওয়্যার্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বাসের জরিপ, অভিজ্ঞতার নয়।
ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান ও আমেরিকান স্টাডিজের অধ্যাপক ও লেখক সুসান লেপসেলটার বলেন, “এটি বিশ্বাস নিয়ে করা জরিপ। এখানে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বা অনুভূতির কোনো তথ্য নেই।”
“আমরা শুধু দেখছি, সংখ্যার হিসাবে মানুষের অবস্থান এক দিক থেকে আরেক দিকে সরে গেছে।”
তবু কেন মানুষ আগের চেয়ে বেশি খোলা মনে ভাবছে, সে প্রশ্ন এড়ানো যাচ্ছে না। অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মূলধারার গণমাধ্যমের অবস্থান বদলানো একটি বড় কারণ। ২০১৭ সালে পেন্টাগনের ইউএপি বা আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ, কংগ্রেসে শুনানি এবং নাসার স্বাধীন গবেষণা বিষয়টিকে নতুন করে বৈধতা দিয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনা ইউনিভার্সিটি উইলমিংটনের ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক ও লেখক ডায়ানা ওয়ালশ পাসুলকা বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনীর বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিরা যখন ইউএফও নিয়ে কথা বলেন, তখন মানুষ সেটিকে আর পুরোপুরি কল্পনা বলে উড়িয়ে দেয় না।
এর পাশাপাশি পপুলার কালচারের ভূমিকাও কম নয়। ২০২৫ সালজুড়ে সুপারহিরো সিনেমা, শিশুতোষ ছবি, এমনকি আর্টহাউস সিনেমাতেও এলিয়েনদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। স্টার ট্রেক, এলিয়েন, প্রিডেটরের মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিও নতুন কনটেন্ট এনেছে। এই ধারাবাহিক উপস্থিতি মানুষের কল্পনা ও বাস্তববোধে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন গবেষকেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বিশ্বাস গঠনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। পডকাস্ট, ইনফ্লুয়েন্সার ও অনলাইন কমিউনিটিতে এলিয়েন নিয়ে আলোচনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান। তবে এর ঝুঁকির কথাও বলছেন অনেকে। তথ্যের ভিড়ে গুজব আর যাচাই করা তথ্য আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইউএফও নিয়ে কাজ করা পডকাস্টার জিম হ্যারল্ডের মতে, খোলা মন রাখা ভালো, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস বিপজ্জনক। তার কথায়, “মন খোলা রাখুন, কিন্তু এতটা নয় যে সবকিছুই সত্য বলে মনে হবে।”
তাহলে কি এটি বড় কোনো বিশ্বাসগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত? লেপসেলটারের মতে, এখনই তেমন কিছু বলা কঠিন। তার ভাষায়, বিষয়টি হয়তো এখন ‘ভাবা যায়’ এবং ‘বলা যায়’ এমন এক পর্যায়ে এসেছে। তবে পাসুলকা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই বিশ্বাস আরও বাড়বে।