১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জেমস ওয়েবের চোখে ‘হেলিক্স’ নীহারিকার অপার্থিব দৃশ্য

নীহারিকায় ছবিতে মৃত্যুর এমন এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে, যা নতুন জন্মের ভিত্তি তৈরি করেছে। মহাকাশে একটির মৃত্যু মানে অন্য কিছুর শুরু।

জেমস ওয়েবের চোখে ‘হেলিক্স’ নীহারিকার অপার্থিব দৃশ্য
এখন পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন ছবির মধ্যে এখানেই নীহারিকাটির সেরা দৃশ্য ফুটে উঠেছে। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2026, 05:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:37 PM

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের চোখে ধরা পড়েছে হেলিক্স নীহারিকার এক অপূর্ব দৃশ্য।

উনিশ শতকের শুরুর দিকে খোঁজ পাওয়া হেলিক্স নীহারিকাটি ‘অ্যাকোয়ারিয়াস’ তারামণ্ডলে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এ নীহারিকাটি আমাদের সবচেয়ে কাছের গ্রহসমৃদ্ধ নীহারিকাগুলোর মধ্যে একটি।

কেন এটিকে ‘ঈশ্বরের চোখ’ বা ‘সাউরনের চোখ’ বলা হয় তা দূর থেকে তোলা নীহারিকাটির এ ছবি দেখলেই বোঝা যায়। ২০০৪ সালে হাবল টেলিস্কোপের তোলা নীহারিকাটির এ ছবি সেই বিষয়টিই ফুটিয়ে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

এ নীহারিকায় মৃত্যুর এমন এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে, যা নতুন জন্মের ভিত্তি তৈরি করেছে। মৃতপ্রায় তারাটি মহাকাশে প্রচুর গ্যাস ও ধূলিকণা ছড়িয়ে দেয়। এসব ধূলিকণাই পরবর্তী কয়েক কোটি বছরে জমাট বেঁধে আবার নতুন তারা বা গ্রহ গঠন করে। মহাকাশে একটির মৃত্যু মানেই অন্য কিছুর শুরু।

নীহারিকাটিকে কেন ‘ঈশ্বরের চোখ’ বা ‘সাউরনের চোখ’ বলা হয় তা এ ছবি দেখলেই বোঝা যায়। ছবি: নাসা

নীহারিকাটিকে কেন ‘ঈশ্বরের চোখ’ বা ‘সাউরনের চোখ’ বলা হয় তা এ

ওয়েব টেলিস্কোপের ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড’ ক্যামেরা থেকে পাওয়া নতুন ছবিটি নীহারিকাটিকে আরও কাছ থেকে দেখার ও উচ্চ-রেজুলিউশনের দৃশ্য উপহার দিয়েছে।

ছবিতে স্তম্ভের মতো যেসব অংশ দেখা যাচ্ছে সেগুলোকে বলে ‘কমেটারি নটস’। এখনও পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন ছবির মধ্যে এখানেই নীহারিকাটির সেরা দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা বা ইএসএ বলেছে, “এখানে মৃতপ্রায় তারা থেকে ধেয়ে আসা তপ্ত গ্যাসের প্রচণ্ড বাতাস আগে নির্গত হওয়া ধুলা ও গ্যাসের ঠান্ডা আস্তরণের ওপর আছড়ে পড়ছে, যা নীহারিকাটিকে এ অসাধারণ গঠন দিয়েছে।”

এ ‘নট’ বা পিণ্ডগুলোর রং মূলত এদের তাপমাত্রা ও রাসায়নিক গঠন প্রকাশ করেছে। নীলাভ আভা মানে এখানে থাকা গ্যাস সবচেয়ে উত্তপ্ত, যা অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শক্তি পায়। হলুদ বিভিন্ন অঞ্চলে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো অণু গঠন করে, যা নীহারিকার কেন্দ্র থেকে বেশ দূরে অবস্থিত ও তুলনামূলক ঠান্ডা।

একদম কিনারের দিকে লালচে-কমলা বিভিন্ন অংশ সবচেয়ে ঠান্ডা উপাদানগুলো রয়েছে, যেখানে গ্যাসের উত্তাপ কমতে শুরু করে ও ধূলিকণা তৈরি হয়।