১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেদ ঝরার সময় জানিয়ে দেবে এই পোর্টেবল ডিভাইস

যন্ত্রটি মানুষের নিশ্বাসে থাকা অ্যাসিটোনের মাত্রা মেপে দেহ কখন চর্বি বা ফ্যাট পোড়াচ্ছে তা নির্ভুলভাবে জানিয়ে দেবে।

মেদ ঝরার সময় জানিয়ে দেবে এই পোর্টেবল ডিভাইস
নতুন তৈরি এই ‘ব্রেথঅ্যানালাইজার’ বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান ছেঁকে ফেলতে পারে। ছবি: অ্যালিভিয়ন

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 02:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

নিঃশ্বাসে থাকা কেমিক্যালের মাত্রা মেপে দেহ কখন চর্বি পোড়াচ্ছে তা সঠিকভাবে জানিয়ে দেবে এমন এক বহনযোগ্য ডিভাইস তৈরির দাবি করেছেন গবেষকরা।

দেহের চর্বির পরিমাণ পরিমাপ করতে স্মার্ট স্কেল বা স্মার্টওয়াচে সাধারণত ‘বায়োইলেকট্রিক্যাল ইমপিডেন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা দ্রুত কাজ করলেও ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে প্রায়ই সংশয় থেকে যায়।

অন্যদিকে, দেহ ঠিক কখন চর্বি বা মেদ পোড়ানো শুরু করছে তা নিখুঁতভাবে জানা কঠিন কাজ। এ জায়গাতেই নতুন ধরনের এ পোর্টেবল ডিভাইস চমক দেখাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ডিভাইস’-এ প্রকাশিত ও ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এ সংগৃহীত গবেষণা অনুসারে, অ্যান্ড্রিয়াস গুন্টনারের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিশেষ এক ‘ব্রেথঅ্যানালাইজার’ বা শ্বাস পরীক্ষার যন্ত্র তৈরি করেছেন।

যন্ত্রটি মানুষের শ্বাসে থাকা অ্যাসিটোনের মাত্রা মেপে দেহ কখন চর্বি বা ফ্যাট পোড়াচ্ছে তা নির্ভুলভাবে জানাবে। ১২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর তাদের খাদ্যভ্যাস ও ব্যায়ামের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষাটি চালিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় উঠে এসেছে, হাতের তালুতে ধরে ব্যবহারযোগ্য এ ডিভাইসের ফলাফল ল্যাবরেটরির প্রথাগত ও জটিল পরীক্ষার ফলাফলের মতোই।

দেহে জমা চর্বি ভেঙে শক্তিতে পরিণত হতে শুরু করলে বিজ্ঞানের ভাষায় সেই অবস্থাকে বলে ‘কিটোসিস’। রক্তে ‘কিটোন’ বা নিঃশ্বাসে থাকা ‘অ্যাসিটোন’-এর মাত্রা মেপে চিকিৎসকরা মেদ ঝরার এ প্রক্রিয়া চিহ্নিত করেন, যা চর্বি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার উপজাত।

‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এর তথ্য অনুসারে, নিঃশ্বাসে অ্যাসিটোনের সঠিক মাত্রা জানতে সাধারণত গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের প্রয়োজন, যেখানে আর্দ্রতা বা শ্বাস নেওয়ার ধরন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

তবে এ নতুন গবেষণায় পোর্টেবল ডিভাইসেই সেই বাধা পেরোতে পেরেছেন গবেষকরা।

তাদের তৈরি ‘ব্রেথঅ্যানালাইজার’ বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান ছেঁকে ফেলতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে বিশেষ এক মোবাইল অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীকে ঠিকভাবে শ্বাস নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেয়।

অ্যাপটি কেবল ফুঁ দেওয়ার চাপ ঠিক আছে কি না তা-ই পর্যবেক্ষণ করে না, বরং সঠিক মুহূর্তের বাতাস পরীক্ষা করে রক্তের ল্যাব টেস্টের মতো প্রায় শতভাগ নিখুঁত ফলাফল নিশ্চিত করে।

গবেষকদের তৈরি এ ডিভাইসের বাণিজ্যিক নাম ‘নিউট্রিয়ন’, যা কাজ করার দিক থেকে ‘লুমেন’ নামের পুরানো ডিভাইসের মতো হলেও, লুমেন যেখানে কার্বন ডাই অক্সাইড মেপে কাজ করত, নিউট্রিয়ন সেখানে মাপছে অ্যাসিটোন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ঘরে বসেই এভাবে ঘন ঘন বিপাকক্রিয়া পরিমাপের এ সুযোগ স্বাস্থ্য খাতে নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।

ওজন কমানোর চিকিৎসায় ‘জেএলপি-১’ থেরাপি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা বোঝা থেকে শুরু করে ক্রীড়াবিদদের নিজস্ব মেটাবলিজম গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ভূমিকা রাখবে এ প্রযুক্তি।