Published : 28 Jul 2026, 10:47 AM
মসৃণ পারফরম্যান্স, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের চমৎকার মেলবন্ধন ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটির কারণে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীই আইফোনের দিকে ঝুঁকছেন।
অ্যান্ড্রয়েড ছেড়ে আইওএসে আসার বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক। তবে অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার করে আসা বেশ কিছু অভ্যাস ও কাজের ধারা আইফোনে বদলে যাবে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, আইফোন খারাপ বলে এমনটা নয়, বরং দুটি প্ল্যাটফর্মের কাজের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা বলেই এ ভিন্নতা।
ফলে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইওএসে রূপান্তরের প্রথম দিনেই যাতে অপ্রীতিকর কোনো বিস্ময়ের মুখে পড়তে না হয় সে জন্য কিছু মৌলিক পার্থক্য জেনে রাখা জরুরি–
নোটিফিকেশন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা
অ্যান্ড্রয়েড ছেড়ে আইফোনে এলে সবচেয়ে বড় বিরক্তির জায়গা হচ্ছে নোটিফিকেশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
আইফোনে লক স্ক্রিন থেকে সরাসরি কোনো মেসেজকে ‘রিড’ বা পঠিত হিসেবে চিহ্নিত করা বা কুইক রিপ্লাই পাঠানোর সুবিধা পাওয়া যায় না। মেসেজ দেখেছেন বোঝাতে সংক্ষেপে ‘লাইক’ দেওয়ার সুযোগও নেই।
এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ ভেদে ক্যাটেগরিভিত্তিক নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে, যেমন কোনো ই-কমার্স অ্যাপ থেকে কেবল ডেলিভারির খবর নেওয়া ও বিজ্ঞাপনী মেসেজ বন্ধ রাখার অপশন থাকে।
আইওএসে এ সুযোগ এত সুনির্দিষ্ট নয়। আইফোনে অ্যাপ ধরে পুরো নোটিফিকেশনের ব্যানার, সাউন্ড ও ব্যাজ চালু বা বন্ধের প্রাথমিক বিভিন্ন অপশনই বেশি কার্যকর।
নেভিগেশন ও টাইপিং অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে স্ক্রিনের ডান বা বাম যে কোনো পাশ থেকে সোয়াইপ করলেই পেছনে বা ‘ব্যাক’ অপশনে যাওয়া যায়, যা সব অ্যাপে একইভাবে কাজ করায় সহজেই হাতের অভ্যাসে পরিণত হয়।
আইওএসেও বাম পাশ থেকে সোয়াইপ করার সুবিধা থাকলেও সব অ্যাপে তা সমর্থন করে না। কিছু অ্যাপের ক্ষেত্রে পেছনে যাওয়ার জন্য একদম উপরে বাম বা ডান কোণে থাকা ছোট বোতামে স্পর্শ করতে হয়। বড় স্ক্রিনের ফোনে এক হাতে যা বেশ কষ্টসাধ্য।
বিষয়টি খুব বড় মনে না হলেও, বহুদিনের অভ্যস্ততা বা ‘মাসল মেমোরি’ পরিবর্তন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
টাইপিং অভিজ্ঞতায় ভিন্নতা
অ্যান্ড্রয়েড থেকে এসে আইওএসের কিবোর্ডে মানিয়ে নেওয়া অনেকের জন্যই কিছুটা বিরক্তির কারণ হয়।
এর ‘অটো-কারেক্ট’ সুবিধা মাঝেমধ্যে বাড়াবাড়ি করছে বলে মনে হতে পারে ও শব্দ অনুমানের সক্ষমতাও তুলনামূলক কম মনে হতে পারে। আইফোনে ‘জিবোর্ড’ বা ‘সুইফটকি’র মতো থার্ড-পার্টি কিবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও অ্যাপল এগুলোর সিস্টেমে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখে।
পূর্ণ সুবিধার জন্য বিভিন্ন অ্যাপকে ‘ফুল অ্যাক্সেস’ দিতে হয়। এরপরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর লেখার মতো ক্ষেত্রে আইওএস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘থার্ড-পার্টি’ কিবোর্ড সরিয়ে অ্যাপলের নিজস্ব কিবোর্ড চালু করে দেয়।
কাস্টমাইজেশন ও চার্জিং গতিতে পিছিয়ে
আইওএস এখন আগের চেয়ে বেশি কাস্টমাইজ করা যায়, যেমন অ্যাপের আইকনের রং বদলানো বা লক স্ক্রিনের কন্ট্রোল পরিবর্তন করা।
তবে অ্যান্ড্রয়েডে পছন্দমতো থার্ড-পার্টি ‘লঞ্চার’ ইনস্টল করে ফোনের পুরো ইন্টারফেইস ও ব্যবহারের ধরন একেবারে নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব, যা আইফোনে সম্ভব নয়।
ধীরগতির চার্জিং ব্যবস্থা
আধুনিক বিভিন্ন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বেশ ভালো হলেও প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও ফোন চার্জে দিতে হয়। অ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় চার্জিং স্পিড বা গতি এখনও আইফোনের দুর্বল দিক।
সর্বশেষ আইফোন মডেলগুলোতে ৪০ ওয়াট পর্যন্ত ওয়্যার্ড চার্জিং সাপোর্ট করলেও স্যামসাংয়ের এস২৬ আল্ট্রা’তে ৬০ ওয়াটের চার্জিং রয়েছে, যা দিয়ে কেবল আধা ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ শতাংশ চার্জ পাওয়া সম্ভব।
চার্জিংয়ের বেলায় অ্যাপল বা স্যামসাং উভয়েই শাওমি বা ওয়ানপ্লাসের মতো অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডের তুলনায় পিছিয়ে। এসব চীনা ব্র্যান্ড এরইমধ্যে ৮০ থেকে ১২০ ওয়াট পর্যন্ত দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধা দিচ্ছে।
এসব পার্থক্যের মানে এই নয় যে, আইফোনে পরিবর্তন করাটা ভুল সিদ্ধান্ত। আইফোনের সেই মসৃণ পারফরম্যান্স, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের অনন্য মেলবন্ধন ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি এখনো বহাল রয়েছে, যা মানুষকে অ্যাপলের দিকে আকৃষ্ট করে।
মূল বিষয়, অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে আসার এ পরিবর্তনে কিছু বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে। সেসব পরিবর্তন ব্যবহারকারীর জন্য কতটুকু যৌক্তিক তা নির্ভর করবে স্মার্টফোনে আপনি ঠিক কোন ফিচারকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তার ওপর।