বার্সেলোনা-নেগ্রেইরা মামলায় অনেক তথ্য-উপাত্ত দিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ
মাদ্রিদের ক্লাবটির বিশ্বাস, এইসব নথিপত্র উয়েফার তদন্তে গতি আনবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
স্প্যানিশ ফুটবলে বহুল আলোচিত চলমান নেগ্রেইরা মামলা সংশ্লিষ্ট অনেক তথ্য-উপাত্ত উয়েফার কাছে জমা দিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।
১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরা। ওই দুই দশকের বেশি সময়কাল নিয়ে ২০২৩ সাল থেকে তদন্ত করছে উয়েফা। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে স্প্যানিশ ফৌজদারি মামলাও চলছে।
বার্সেলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নেগ্রেইরার কোম্পানি ‘ডিএএসএনআইএল নাইন্টি ফাইভ’-কে ৭০ লাখ ইউরো প্রদান করেছিল, যা সামনে আসার পর স্প্যানিশ ফুটবলে বইতে শুরু করে ঝড়। কাতালান ক্লাবটির অবশ্য দাবি, ‘টেকনিক্যাল রেফারিং প্রতিবেদনের’ জন্য তারা ওই অর্থ দিয়েছে।
স্পর্শকাতর ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই তীব্র সমালোচনা করে আসছে রেয়াল মাদ্রিদ। তাদের দাবি, লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে তারা।
গত মে মাসে ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসে জানান, নেগ্রেইরা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০০ পৃষ্ঠার একটি নথি উয়েফার কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন তারা, যেখানে দেখানো হবে ম্যাচ অফিসিয়ালরা কীভাবে বার্সেলোনাকে সুবিধা দিয়ে থাকেন।
এবার উয়েফার পক্ষ থেকে তেমন কিছুই পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হলো।
“উয়েফা নিশ্চিত করছে যে, হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরার সঙ্গে ঘটনায় বার্সেলোনার জড়িত থাকার বিষয়ে যে তদন্ত চলমান রয়েছে, সেই বিষয়ে রেয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে অনেক নথিপত্র পাওয়া গেছে।
“উয়েফার এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি পরিদর্শকরা এইসব নথিপত্র গ্রহণ করেছেন, যা তারা এখন তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করবেন।”
উয়েফার কাছে পাঠানো সব তথ্য-উপাত্তের বিষয়ে রেয়াল মাদ্রিদ বলেছে, “এসব নথিপত্র ও প্রমাণাদি এতটাই গুরুতর যে, এগুলো সরাসরি প্রতিযোগিতাটির নিরপেক্ষতা এবং রেফারিং সিস্টেমের ওপর আস্থায় (নেতিবাচক) প্রভাব ফেলে।
“রেয়াল মাদ্রিদ এর গুরুত্ব বোঝে, (আশা করে) এখন যেহেতু উয়েফার কাছে এই নথিপত্র আছে, সেহেতু এই তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে, শেষ পর্যন্ত।”
নির্দিষ্ট দায়িত্বে যারা আছেন, তারা পুরো বিষয়টির গুরুত্ব ও মাত্রা বুঝে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও আশা করে রেয়াল মাদ্রিদ।
লা লিগার রেফারিং নিয়ে অনেক বছর ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে রেয়াল মাদ্রিদ। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই যেমন আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে হারের পর রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রেয়ালের প্রধান কোচ জুজে মরিনিয়ো।
গত মে মাসে পেরেস যেমন বলেছিলেন, তাদের থেকে সাতটি লা লিগা শিরোপা চুরি করা হয়েছে। নেগ্রেইরা মামলা প্রসঙ্গেই ওই মন্তব্য করেন তিনি, সেটা আবার ভালোভাবে নেয়নি বার্সেলোনা। এর পরপরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল গত দুইবারের লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।
