‘শুধু রেয়াল মাদ্রিদই এভাবে জিততে পারে’
সহজ জয়ই বেশি পছন্দ জুজে মরিনিয়োর, তবে রেয়াল মাদ্রিদ কোচ গর্ব নিয়ে বললেন, কেবল তার দলই পারে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়ে এমন নাটকীয় জয় আদায় করে নিতে।
সহজ জয়ই সবসময় কাম্য থাকে সব কোচের। তবে পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ সময়ে জয়ের অন্যরকম এক মজা আছে। সেই রোমাঞ্চেই মজেছেন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচ গর্ব নিয়েই বললেন, পরাজয় বা ড্রয়ের মুখ থেকে বারবার এভাবে জয় আদায় করে নিতে পারে কেবল তার দলই।
খেলা যারা দেখেছেন বা খোঁজ রেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মরিনিয়োর এমন উচ্ছ্বাসের কারণ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার এইকে এথেন্সের বিপক্ষে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু তাদের সেই ঘুরে দাঁড়ানো ‘ডিএনএ’ আরও একবার ফুটে উঠে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয় তারা ৩-২ গোলে।
ঘরের মাঠে উজ্জীবিত এইকে এথেন্স এগিয়ে যায় দ্বাদশ মিনিটে। ৩২তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের নান্দনিক গোলে সমতায় ফেরে রেয়াল। এরপর তার বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করে। কিলিয়ান এমবাপের শট ফিরে আসে পোস্ট কাঁপিয়ে। রেয়ালকেও কয়েক দফায় বিপদ থেকে উদ্ধার করেন থিবো কোর্তোয়া। এসবের ফাঁকেই ৭৫তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় গ্রীসের দলটি।
রেয়াল ফিরে আসে দ্রুতই। ৭৭তম মিনিটে জালের দেখা পান এমবাপে। এরপর ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো এক গোলায় রেয়ালকে জেতান বদলি নামা ফেদে ভালভের্দে।
এভাবে জয় রেয়ালের জন্য নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর এমন নজির তারা অসংখ্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। এবারের আসরের শুরুতেও রোমার মাঠে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ম্যাচ জিতে নেয় ৪-৩ গোলে, ঠিক নিজেদের মতো করেই।
এবারের এইকে এথেন্সকে হতাশ করার পর নিজেদের সেই দিকটিই তুলে ধরলেন মরিনিয়ো। দলকে নিয়ে তৃপ্তিও ফুটে উঠল তার কণ্ঠে।
“প্রথম ম্যাচটা শেষ মিনিটে জিতেছিলাম আমরা। অবশ্যই আরও সহজে জিততে পছন্দ করি আমি, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই ম্যাচগুলো জেতা... শুধু রেয়াল মাদ্রিদই এভাবে জিততে পারে। যখন প্রয়োজন হয়, আমরা সবসময় সঠিক জায়গায় থাকি।
“আমরা এটা করতে পারি, এর কারণ হলো, আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে আমরা পারব। আমাদের ছেলেদের সেই সাহস আছে। এই মানের ফুটবলারদের পেয়ে আমি ভাগ্যবান। খুবই ভাগ্যবান।”
জয়টা স্বস্তির হলেও তুলনামূলক এতটা দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে রেয়ালের আরও বড় জয়ও ছিল প্রত্যাশিত। তবে এইকে এথেন্সকে কৃতিত্ব দিয়েই মরিনিয়ো বললেন, এই ফলাফলে তিনি খুশি।
“(ফলাফলে) অবশ্যই খুবই সন্তুষ্ট। আমরা খুব কঠিন একটা দলের বিপক্ষে খেলেছি, যারা খুব ভালো খেলেছে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। প্রথম মিনিট থেকেই তারা খুব জমাট ছিল, সরাসরি ফুটবল খেলছিল অসাধারণ ম্যাচ ছিল। তারা ছিল শক্তিতে ভরপুর, দারুণ তীব্রতায়। তাদের কারণেই আমরা নিখুঁত খেলাটা খেলতে পারিনি। তারা দুর্দান্ত খেলেছে।
“কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও, আমরা সবসময় খেলায় ছিলাম। দুটি সংকটময় মুহূর্তে আমরা দেখিয়েছি, কীভাবে সাড়া দিতে হয়। পিছিয়ে থেকেও দৃঢ়তা দেখিয়েছি আর। শেষ সময়ে, যখন খেলাটা ছিল পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং উভয় দলই জিততে চাইছিল... যে দলের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বেশি ছিল, তারাই জিতেছে।”
৭৮তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর দল যেভাবে বাড়তি তাড়না দেখিয়েছে, সেটির প্রশংসা করলেন কোচ। এখন তিনি তাকিয়ে সামনের পথচলায়।
“যখন স্কোর ২-২ ছিল, আমরা তা মেনে নিইনি। ওই ফলাফলটা গ্রহণযোগ্যই হতো, কারণ তাতে আমরা ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে এড়ানোর জন্য ভালো অবস্থায় থাকতাম। কিন্তু আমরা আরও বেশি চেয়েছি, ঝুঁকি নিয়েছি এবং সেই পয়েন্টগুলো পেয়েছি, যা আমাদের উপযুক্ত করে তুলেছে সরাসরি পরের ধাপে যেতে। এখন আমাদের কাজ হলো, প্লে-অফ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাকি পয়েন্টগুলো অর্জন করা।”
