Published : 23 Mar 2026, 05:08 PM
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন দুর্গম পাহাড় বা সমুদ্রের মাঝখানে যেখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই নেই সেখান থেকেও যোগাযোগ করা সম্ভব। আইফোনে উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যোগ করেছে অ্যাপল, যা জরুরি অবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মেসেজ আদান-প্রদানের সুবিধাও দিচ্ছে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, আইওএসের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্করণে অ্যাপল এই সুবিধা আরও বাড়িয়েছে। ফলে পাহাড়ে হাইকিংয়ের সময়, গ্রামাঞ্চলে বা সমুদ্রের মতো প্রত্যন্ত জায়গা থেকেও বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে।
এ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে, যা আইফোনের ভেতরেই জুড়ে দেওয়া আছে। যখনই সাধারণ সিগনাল থাকবে না তখন তা নিজে থেকেই কাজ শুরু করবে। এ পদ্ধতি সাধারণ মেসেজিংয়ের বিকল্প না হলেও নেটওয়ার্ক না থাকলে তা চমৎকার ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মেসেজ পাঠানোর নিয়ম
নেটওয়ার্কহীন এলাকায় যাওয়ার আগেই আইমেসেজ অপশনটি চালু করে নিতে হবে। ফোনের ‘ইমার্জেন্সি কনট্যাক্ট’ বা জরুরি যোগাযোগ ও ‘ফ্যামিলি শেয়ারিং’ গ্রুপে থাকা সদস্যদের নাম আগেভাগেই সেট করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, আপনি আগে মেসেজ না পাঠালেও তারা আপনাকে এসএমএস পাঠাতে পারবে।
প্রথমে আপনার ফোনে যখন কোনো সেলুলার নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই থাকবে না তখন আইমেসেজ অ্যাপটি খুলুন। আপনার এলাকায় এই সুবিধা থাকলে অ্যাপটি আপনাকে একটি নোটিফিকেশন দেখাবে যে, এখন স্যাটেলাইট মেসেজিং ব্যবহার করা সম্ভব।
এরপর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগ হওয়ার অপশনটি বেছে নিলে স্ক্রিনে একটি নির্দেশিকা আসবে। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার জন্য আপনার আইফোন আপনাকে রিয়াল টাইমে দিকনির্দেশনা দেবে। সংযোগ হলে আপনি মেসেজ টাইপ করে পাঠাতে পারবেন। তবে তা পৌঁছাতে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে।
মেসেজটি সফলভাবে পাঠানো হলে আইফোন আপনাকে তা জানিয়ে দেবে। যতক্ষণ স্যাটেলাইট সংযোগটি সক্রিয় থাকবে ততক্ষণ অপর প্রান্তের ব্যক্তির পাঠানো উত্তরগুলোও আপনি স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই পাবেন।
স্যাটেলাইট মেসেজ পাঠানোর জন্য যা যা প্রয়োজন
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মেসেজ পাঠাতে আপনার একটি উপযুক্ত আইফোন ও সঠিক সফটওয়্যার সংস্করণ থাকতে হবে। ফিচারটি আইফোন ১৫ ও এর পরবর্তী বিভিন্ন মডেলে কাজ করবে। কারণ এগুলোতে প্রয়োজনীয় স্যাটেলাইট হার্ডওয়্যার রয়েছে।
এ ছাড়া আপনার ফোনে আইওএস ১৮ বা তার পরবর্তী সংস্করণ থাকতে হবে, যা অ্যাপল প্রতিনিয়ত আপডেট করছে। এ সুবিধাটি বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু অংশে সীমাবদ্ধ।
তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলেও তা চালু করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে। গাছপালা, বড় দালান বা পাহাড় এ সংযোগে বাধা তৈরি করতে পারে।
স্যাটেলাইট মেসেজিং সাধারণ চ্যাটিং বা দীর্ঘ আলাপের জন্য তৈরি করা হয়নি। এখানে বিভিন্ন মেসেজ সংকুচিত হয়ে যায় ও সাধারণ মেসেজের তুলনায় ধীরগতিতে আদান-প্রদান হয়। পরিবেশের অবস্থা ও স্যাটেলাইটের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মেসেজ পৌঁছানোর সময় কম-বেশি হতে পারে।
আইফোনে স্যাটেলাইট মেসেজিং যেভাবে কাজ করে
আইফোন যখন মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়াই ফাই সিগনাল হারিয়ে ফেলে তখন সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুঝতে পারে, এখন কেবল স্যাটেলাইট সংযোগই সম্ভব। মেসেজ পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার বদলে ‘আইমেসেজ’ অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেবে।
স্ক্রিনে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা ব্যবহারকারীকে ফোনটি সঠিক অবস্থানে ধরতে সাহায্য করে। সাধারণত ডিভাইসটি উপরের দিকে ধরে রাখতে ও একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগের জন্য ফোনের নির্দেশিত বিভিন্ন দিক অনুসরণ করতে হয়। মেসেজ পাঠানোর সময় সংযোগ ধরে রাখতে ফোনটি তার ভেতরে থাকা বিশেষ বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাঠানো বিভিন্ন মেসেজ কেবল টেক্সট বা লেখা হয়ে থাকে। নির্ভরযোগ্যভাবে পাঠানোর সুবিধার্থে এসব মেসেজকে একটি ছোট ডেটা ফরম্যাটে সংকুচিত করে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ছবি, ভিডিও, অডিও মেসেজ বা বড় কোনো ফাইল পাঠানো সম্ভব নয়।
স্যাটেলাইট মেসেজ কারা গ্রহণ করতে পারবেন?
পরিচিতজনদের কাছে স্যাটেলাইট মেসেজ পাঠানো সম্ভব। তবে প্রাপকের ডিভাইস ও সেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে আইমেসেজ বা সাধারণ এসএমএস হিসেবে পৌঁছাবে। প্রাপক যদি আইফোন বা অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহার করেন এবং তার আইমেসেজে চালু থাকে তবে মেসেজটি অ্যাপলের নিজস্ব সিস্টেমের মাধ্যমে পৌঁছাবে। অন্যথায় তা এক সাধারণ টেক্সট মেসেজ হিসেবে যাবে।
মেসেজটি যিনি গ্রহণ করবেন তার ফোনে স্যাটেলাইট সুবিধা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের কাছে এ মেসেজটি সাধারণ এক টেক্সট মেসেজের মতোই দেখাবে। তবে মেসেজটি তাদের কাছে পৌঁছাতে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে।