Published : 07 Jun 2024, 01:19 PM
গবেষকরা এমন এক বিদ্যুচ্চালিত ‘স্পঞ্জ’ বানিয়েছেন, যা সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন শুষে নিতে পারে।
এটি কাজ করে কাঠকয়লাকে ‘চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে’, যা অনেকটা ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার মতোই। আর এতে চার্জ দেওয়া শেষ হলে কাঠকয়লার ‘স্পঞ্জ’ সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শুষে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে।
এক্ষেত্রে বাসা বাড়ির পানির ফিল্টারে ব্যবহৃত সক্রিয় কাঠকয়লা ব্যবহার করা যেতে পারে। এ গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত গবেষকরা বলেছেন, তারা উপাদানটি পরীক্ষা করে দেখেছেন কারণ এটি ‘সাশ্রয়ী, স্থিতিশীল ও বড় পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব’।
নির্মাতাদের দাবি, এটি কার্বন শুষে নেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর কার্যকর বিকল্প হতে পারে কারণ একে গরম করার তেমন বাধ্যবাধকতাও নেই।
“নির্গত কার্বনকে বায়ুমণ্ডল থেকে ধরে ফেলাই আমাদের শেষ রক্ষা করতে পারে। তবে, জলবায়ুর জরুরী অবস্থার কথা বিবেচনায় নিলে আমাদের এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন,” বলেন এ গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের অধ্যাপক আলেকজান্ডার ফোরস।
“এজন্য আমাদেরকে সবার আগে গোটা বিশ্ব থেকে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। আর নিঃসরণের মাত্রা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে গ্রিনহাউজ গ্যাস সরিয়ে ফেলাও খুব গুরুত্বপূর্ণ যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বাজে প্রভাবগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করলে, আমাদের যা করা প্রয়োজন, সেগুলো সবই করতে হবে।”
ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় বিভিন্ন আয়নকে একটি ইলেকট্রোডে সমন্বিত করা হয়। কাঠকয়লার প্রক্রিয়াও একইভাবে কাজ করে, যেখানে হাইড্রোক্সাইড নামের উপাদান চার্জ করা হয়, যা কার্বন ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে বিপরীতমুখী বন্ধন তৈরি করে।
গবেষকরা যখন সক্রিয় কাঠকয়লার পিণ্ডকে হাইড্রোক্সাইড আয়নের মাধ্যমে চার্জ করেছেন, তখন সেইসব আয়ন কাঠকয়লার ছোট ছোট ছিদ্রে জমা হতে থাকে।
আর হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে কার্বন ডাইঅক্সাইডের বন্ধন সৃষ্টি হওয়ায় তারা বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করতে পেরেছেন।
“এটা উপাদান তৈরির নতুন এক উপায়, যেখানে ব্যাটারির মতো প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে, ” বলেন ফোরস।
“তবে এ প্রক্রিয়াটিতে এর চেয়েও বেশি সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, এতে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার বিষয়টি। কারণ এতে কার্বন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহে উচ্চ তাপমাত্রা রাখা বা নতুন কাঠকয়লার স্পঞ্জ তৈরির মতো বাধ্যবাধকতা নেই।”