Published : 28 Jun 2026, 12:23 AM
বরিশাল সদর উপজেলায় বাড়ির এসির ভেতর থেকে চারটি মৃদু বিষধর ‘কালনাগিনী’ প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি সাপ পালিয়ে গেছে।
শনিবার বিকালে উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুল হক সেন্টুর বাড়ির শোবার ঘর থেকে সাপগুলো উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’। তারাই সাপগুলো ‘কালনাগিনী’ প্রজাতির বলে নিশ্চিত করেছে।
বিভিন্ন লোককাহিনি, চলচ্চিত্র ও উপকথায় কালনাগিনীকে অত্যন্ত বিষধর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ সাপ হিসেবে দেখানো হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাস্তবের এর কোনো ভিত্তি নেই।
কালনাগিনী প্রজাতির এই সাপ বাতাসে ভেসে এক গাছ থেকে অন্য গাছে যেতে পারে। এদের প্রধান খাদ্য টিকটিকি, গিরগিটি ও ছোট পোকামাকড়। এই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই।
মজিবুল হক সেন্টু বলেন, শুক্রবার রাতে শোবার ঘরের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্ষটি বন্ধ করে দেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। সেখান থেকে উদ্ধারকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ পান।
‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, “শনিবার বিকাল ৩টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আড়াই থেকে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে অবস্থান নেওয়া আরো একটি সাপ ধরার আগেই পালিয়ে যায়।
“বাড়ির সামনে ও পেছনে ঝোপঝাড় থাকায় সেখান থেকে এসির পাইপ বা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে সাপগুলো ঘরের ভেতরে ঢুকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
উদ্ধার করা সাপগুলো বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তথ্য দেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বরিশাল নগরীর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ডিআইজির কক্ষ থেকে চারটি এবং সাগরদী এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে একটি একই ধরনের সাপ উদ্ধার করা হয়।