Published : 28 Jun 2026, 12:27 AM
বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘ দুই বছর পর আবার চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা। এ সিদ্ধান্তে ব্যবসা পুনরুজ্জীবনের আশায় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত নিউ মার্কেটসহ মারকুইজ স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকা।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন এক অনুষ্ঠানে ২৮ জুন রোববার থেকে বাংলাদেশিরা আবার পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন বলে ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।
শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ সংক্রান্ত এক খবরে বলা হয়, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়ায় কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই সিদ্ধান্তকে কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং কলিন লেন অঞ্চলের প্রায় ৩৫০টি হোটেলের জন্য একটি ‘লাইফলাইন’ বা ‘সঞ্জীবনী’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“২০২৪ সালে বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করায় গত প্রায় দুই বছর ধরে এই অঞ্চলের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং দোকানপাটগুলো টিকে থাকার জন্য তীব্র সংগ্রাম করছিল। গত দুই বছর এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ৭০ শতাংশের বেশি ধসে পড়েছিল। হোটেলগুলোর বোর্ডার সংখ্যা এবং গড় রুম ভাড়া প্রায় নেমে এসেছিল অর্ধেকে। এছাড়া রেস্তোরাঁ, মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন অপারেটর, কাপড়ের দোকান এবং নিউ মার্কেটের প্রায় ৩ হাজার দোকানদারও এখন তাদের ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন।”

কলকাতার নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, গোটা নিউ মার্কেটে দৈনিক ব্যবসার পরিমাণ আগে যেখানে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি ছিল, তা গত দুই বছরে কমে মাত্র ৫০ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে।
‘ক্যালকাটা হোটেলস, গেস্ট হাউসেস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরমিত সিং বলেন, “এই ঘোষণা (ভিসা শুরু) মধ্য কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ ও আমেজ বদলে দিয়েছে। কারণ এ এলাকা মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।”
তিনি বলেন, গত দুই বছরে নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় হোটেলগুলোতে বোর্ডার থাকার হার এবং গড় রুম ভাড়া ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
“আগে যেখানে গড় ভাড়া ছিল প্রায় ২০০০ রুপি, তা নেমে দাঁড়ায় ৯০০ থেকে হাজার রুপিতে। কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁতো বন্ধই হয়ে গেছে। মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন অপারেটর এবং কাপড়ের দোকানগুলো এখন সাগ্রহে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় আছে।”
হোটেল মালিকরা বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রত্যাবর্তন কেবল হোটেলের রুম বুকিংই বাড়াবে না, বরং রুমের ভাড়াও আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করবে। কারণ ভারতের ভ্রমণকারীরা সাধারণত মাত্র এক বা দুই দিন থাকেন। সেখানে বাংলাদেশি দর্শনার্থীরা সাধারণত কলকাতায় অন্তত এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় কাটান।

নিউ মার্কেটের এসএস হগ মার্কেট ট্রেইডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চকলেট, ড্রাই ফ্রুটস এবং প্রসাধন সামগ্রী বিক্রেতা অশোক গুপ্ত বলেন, “এখানকার প্রায় তিন হাজার দোকান গত কয়েক বছর ধরে কোনোমতে টিকে রয়েছে। এর আগে, এখানকার ব্যবসার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশি পর্যটকদের হাত ধরে। দুই-তিন বছর আগে একদিনে আমাদের যে বিক্রি হতো, এখন সেই বিক্রি এক মাসেও করতে পারছেন না।”
এদিকে আশার পাশাপাশি ব্যবসায়ী মালিকরা এখনও কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়।
কলকাতা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগেও একবার কথা উঠেছিল ৬ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
গেস্ট হাউসেস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ শেঠি বলেন, “মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। একবার ভিসা দেওয়া শুরু হলে হোটেল মালিকেরা বন্ধ থাকা রুমগুলো আবার খুলবেন। দোকানদাররাও নতুন মালামাল তুলতে শুরু করবেন দোকানে।”
আরও পড়ুন-
ফের চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা, আবেদন নেওয়া হবে ২৮ জুন থেকে