Published : 22 Jul 2026, 04:24 PM
বছর খানেক আগে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে হত্যার মামলার এক আসামি আদালতের প্রতি অনাস্থার বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে।
আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির আগামি ২৭ জুলাই শুনানির দিন ঠছিক করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আজকে আদালতের প্রতি আসামির অনাস্থা বিষয়ে আবেদনের ওপর শুনানির দিন ছিল। তবে আসামি পক্ষের এক আইনজীবীর দাদা মারা গেছেন। এজন্য শুনানি পেছানোর আবেদন করে আসামিপক্ষ। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নতুন করে এ দিন ধার্য করেছেন। ’
গত ১২ জুলাই সোহাগ হত্যা মামলার ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। ১৯ জুলাই রাখা হয় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন।
সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিনেই মাহমুদুল হাসান মাহিন নামের এক আসামি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরকে আদালতের প্রতি অনাস্থার কথা জানান।
কারণ হিসেবে মাহিনের আইনজীবী মাশরুর হোসাইন জানিয়েছিলেন, গত ১২ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। ওইদিন যে পরিমাণে বৃষ্টি, আদালতে আসতে পারেননি। তিনি সাত আসামির পক্ষে মামলা দেখেন।
এ আইনজীবীর ভাষ্য, “একটা দিন সময় দিলে কী ক্ষতি হত। অভিযোগ গঠন করে দিছে। সেই আদালতের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এজন্য তারা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেছেন।”
মামলার আসামিরা হলেন—মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও শেষের আটজন পলাতক রয়েছে। তিন আসামি জামিনে রয়েছে।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। সেই ঘটনার এই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন একসময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এমন ভয়ংকরভাবে কাউকে হত্যা করা হতে পারে, তা পরিচিতজনদের ধারণারও বাইরে।
এ ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। গত ৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।
অবশ্য অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা জানিয়ে মামলাটি ফের তদন্তে পরে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তাই। ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার গত ২০ জানুয়ারি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর মাঝে বদলি করা হয় পরিদর্শক মনিরুজ্জামানকে। মামলার তদন্তভার পড়ে ওই থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদের ওপর। তিনি ২১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর ১২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ।