Published : 13 Apr 2026, 10:53 AM
বিজ্ঞান ও ফ্যাশনের এক অনন্য মেলবন্ধনে টি-রেক্স ডাইনোসরের জীবাশ্ম থেকে পাওয়া কোলাজেন দিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক হ্যান্ডব্যাগ।
বৃহস্পতিবার ডাইনোসরের হাড়ের কোলাজেন থেকে তৈরি এ হ্যান্ডব্যাগটি উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানী ও ডিজাইনাররা। ল্যাবরেটরিতে তৈরি চামড়ার গুরুত্ব ও আধুনিক বিজ্ঞানের সক্ষমতা তুলে ধরতেই এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
রয়টার্স লিখেছে, সবুজাভ-নীল রঙের এ ব্যাগটি অ্যামস্টারডামের আর্ট জু মিউজিয়ামে এক খাঁচার ভেতর পাথরের ওপর প্রদর্শিত হয়েছে। ১১ মে পর্যন্ত প্রদর্শনী চলার পর এখন তা নিলামে তোলা হবে, যার প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ডাইনোসরের অবশিষ্টাংশ থেকে প্রাচীন প্রোটিনের কণা সংগ্রহ করে তা এক অজ্ঞাত প্রাণীর কোষে বসানো হয়েছিল, যা থেকে উৎপাদিত কোলাজেন পরে চামড়ায় রূপান্তরিত হয়।
এ ‘টি-রেক্স লেদার’ ব্যাগ তৈরির পেছনে থাকা তিনটি কোম্পানির একটি ‘দ্য অর্গানয়েড কোম্পানি’র সিইও টমাস মিচেল বলেছেন, “ব্যাগটি তৈরিতে আমাদের অনেক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
জেনোমিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ‘অর্গানয়েড’ ও ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ‘ভিএমএল’ এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
এর আগে, ২০২৩ সালে ম্যামথের ডিএনএ’র সঙ্গে ভেড়ার কোষের সংমিশ্রণে বড় এক ‘মিটবল’ তৈরি করতে সহযোগিতা করেছিল এসব কোম্পানি।
‘ল্যাব-গ্রোন লেদার লিমিটেড’-এর সিইও চে কনন কোলাজেন থেকে হ্যান্ডব্যাগের চামড়া উৎপাদনের প্রকৌশলী বিষয়গুলো দেখেছেন।
তিনি বলেছেন, টি-রেক্সের উৎস এর সঙ্গে এক বিশেষ ‘আকর্ষণ’ যোগ করেছে।
ল্যাবরেটরিতে তৈরি চামড়া সম্পর্কে কনন বলেছেন, “ব্যাগটি কেবল চামড়ার এক পরিবেশবান্ধব বিকল্প নয়, বরং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষও।”
সংশয়
প্রকল্পের বাইরের কিছু বিজ্ঞানী ‘টি-রেক্স লেদার’ বা ডাইনোসরের চামড়া শব্দটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তাদের মতে, এ উপাদানটি তৈরির জন্য অন্যান্য প্রাণীর উপাদানেরও প্রয়োজন ছিল।
অ্যামস্টারডামের ‘ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি’র ডাচ মেরুদণ্ডী জীবাশ্মবিদ মেলানি ডিউরিং বলেছেন, ডাইনোসরের হাড়ে কোলাজেন কেবল খণ্ডিত চিহ্ন হিসেবে টিকে থাকতে পারে, যা দিয়ে টি-রেক্সের ত্বক বা চামড়া পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়।
একইভাবে ‘ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড’-এর জীবাশ্মবিদ টমাস আর হোল্টজ জুনিয়র বলেছেন, টি-রেক্সের জীবাশ্মে পাওয়া যে কোনো কোলাজেন হাড়ের ভেতর থেকে আসে, চামড়া থেকে নয়। এসব প্রোটিন পুরোপুরি মিলে গেলেও এতে সেই বড় আকারের তন্তুর বিন্যাস থাকবে না, যা পশুর চামড়াকে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দেয়।
তবে মিচেল বলেছেন, “আমি বলতে চাই, আপনি যখন প্রথমবার নতুন কিছু করবেন তখন সেখানে সব সময়ই সমালোচনা থাকবে।
“এ সমালোচনার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। বিষয়টি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ভিত্তি... আমার মতে, টি-রেক্সের কাছাকাছি কোনো কিছু তৈরির ক্ষেত্রে যে কেউ যতটুকু পৌঁছাতে পেরেছে বা ভবিষ্যতে পারবে সেটিই এর সবচেয়ে কাছাকাছি।”