Published : 31 May 2026, 11:52 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নিখুঁত ও বাস্তবধর্মী ডিপফেইক বিজ্ঞাপনের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারকদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা অধিকার সংগঠন।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত আসল ভিডিও ও ডিপফেইক ভিডিওর পার্থক্য ধরতে পারছেন না।
ডিপফেইক সাধারণ মানুষকে ‘প্রতারকদের দয়ার পাত্র’ বানিয়ে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক শীর্ষ সংগঠন ‘হুইচ?’।
শত শত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট বা ভিডিও শনাক্ত করতে না পারার পর সংগঠনটি এ সতর্কবার্তা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ‘হুইচ?’ এখন জোর দাবি জানাচ্ছে, তারা যেন নিশ্চিত করে, যেসব প্রযুক্তি কোম্পানি এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ বন্ধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ যেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
‘হুইচ?’-এর পক্ষ থেকে ৫১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এক জরিপ চালানোর পর এই সতর্কবার্তা এল।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আসল ভিডিও ও এআইয়ের তৈরি ডিপফেইক ভিডিও মিশিয়ে দেখানোর পাশিাপাশি আসল কনটেন্টটি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল।
ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই সবকটি আসল ও নকল ভিডিওর মধ্যে সঠিক পার্থক্য করতে পারেননি। যার মধ্যে ৮ শতাংশ মানুষ প্রতিটি ভিডিও ভুল শনাক্ত করেছেন এবং ২১ শতাংম মানুষ কেবল কেবল একটি সঠিক ক্লিপ চিহ্নিত করতে পেরেছেন।
এর মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য ডিপফেইক ভিডিওতে দেখা গেছে, জনপ্রিয় রিটেইলার কোম্পানি ‘বুটস’-এর কর্মীরা এক ওজন কমানোর পণ্যের অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন।
এ পণ্য বিক্রেতা কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “এসব বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ ভুয়া ও আমরা গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
“আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং কোনোটি নজরে এলে প্ল্যাটফর্মের মালিকদের জানাই ও সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করি।”
জরিপের এসব ভিডিও ‘কিংস্টন ইউনিভার্সিটি’র বিশেষজ্ঞদেরও দেখানো হয়েছিল। তারাও সবগুলো কনটেন্ট সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।
জরিপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন এমন অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক বলেছেন, তাদের ধারণা, তারা দিনে অন্তত একবার হলেও এমন ডিপফেইক ভিডিও দেখেন।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি কৌশল বিষয়ক গবেষণা কোম্পানি ‘জুনিপার রিসার্চ’-এর অনুমান বলছে, কেবল ২০২৫ সালেই ইউরোপে এ ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম কোম্পানি প্রায় ৩৮০ কোটি পাউন্ড আয় করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘হুইচ?’ বলেছে, এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতারণা-বিরোধী কৌশলটি মানুষের কাছে এ ধরনের স্ক্যাম পৌঁছানো শুরুতেই আটকে দিতে ব্যর্থ হবে।
সংগঠনটি সরকারকে অনুরোধ করেছে, যেসব প্রযুক্তি কোম্পানি এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ বন্ধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ যেন ‘অনলাইন সেইফটি অ্যাক্ট’ বা অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
‘হুইচ?’-এর পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান রোসিও কনচা বলেছেন, “সামাজিক মাধ্যমের ডিপফেইক নিয়ে আমাদের এ জরিপে উঠে এসেছে, সাধারণ মানুষ, এমনকি বিশেষজ্ঞরাও ক্রমাগত সেসব প্রতারকদের দয়ার পাত্রে পরিণত হচ্ছেন যারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে।
“বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ আমাদের ধারণা, যেসব প্রযুক্তি জায়ান্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে হওয়া এসব প্রতারণা থেকে মুনাফা লুটছে, তারা আইনগতভাবে বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত জালিয়াতদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেবে না।”
এ জনমত জরিপটি গত ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে পরিচালনা করেছিল গবেষণা সংগঠন ‘ডেল্টাপোল’।