Published : 14 Feb 2026, 02:31 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চাকরি কেড়ে নেবে এমন আশঙ্কায় নতুন বা এন্ট্রি-লেভেল কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এখন স্পষ্ট। অনেক বড় বড় কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই বা নিয়োগ কমানোর কথা ভাবছে তখন ঠিক উল্টো পথে হাঁটার ঘোষণা দিল হার্ডওয়্যার জায়ান্ট আইবিএম।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশণা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ তিন গুণ করার পরিকল্পনা করেছে সিলিকন ভ্যালির গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিটি।
মঙ্গলবার এ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন ‘চার্টার্স লিডিং উইথ এআই সামিট’-এ আইবিএম-এর প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা নিকেল ল্যামোরো।
তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ, আমরা সেইসব পদের জন্যই নিয়োগ দিচ্ছি যেসব কাজ এআই করতে পারবে বলে আমাদের জানানো হচ্ছে।”
ল্যামোরো বলেছেন, আইবিএম আগে যেসব এন্ট্রি-লেভেল বা প্রবেশিকা পর্যায়ের চাকরি দিত এসব কাজ হবে তার চেয়ে কিছুটা আলাদা। নিজেই এ চাকরির বিবরণগুলো পরিবর্তন করেছেন তিনি। এখন যেসব কাজ এআই সহজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে, যেমন কোডিংয়ের মতো বিষয়গুলো বদলে মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন এমন কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা, যেমন গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ লিখেছে, এ কৌশলটি যুক্তিসঙ্গত। আইবিএম-এর মতো বড় কোম্পানির হয়ত আগের মতো অনেক সংখ্যক নতুন কর্মীর প্রয়োজন নেই। তবে কম অভিজ্ঞ কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে উচ্চপদস্থ ভূমিকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ উদ্যোগের অধীনে ঠিক কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি আইবিএম। এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে টেকক্রাঞ্চের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি দ্য বিগ ব্লু নামে পরিচিত কোম্পানিটি।
এ বছরটি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২০২৫ সালের ‘ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা এমআইটি-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রায় ১১.৭ শতাংশ কাজ এরইমধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, টেকক্রাঞ্চ-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন ২০২৬ সাল থেকেই শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রকৃত প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। তবে, তাদের সরাসরি শ্রমবাজার নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।