Published : 08 Jul 2026, 06:19 PM
ওপেনএআই ও গুগল মতো প্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিতে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য প্রথমবারের মতো উন্নত এআই ইমেজ জেনারেশন টুল চালু করেছে মেটা।
এ টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন মেটা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে সাধারণ লিখিত নির্দেশ বা প্রম্পট বা স্কেচের সাহায্যে সহজেই যে কোনো ছবি তৈরি ও এডিট করতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’-এর তৈরি এ জেনারেটিভ এআই ফিচারটির নাম ‘মিউজ ইমেজ’, যা মেটার নিজস্ব চ্যাটবট ‘মেটা এআই’য়ের সঙ্গে যোগ হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিটি অ্যাপরেই তিনশ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। তবে এ চমৎকার ফিচারটি প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ব্যবহারকারীরাই উপভোগ করতে পারবেন।
এক ব্লগ পোস্টে মেটা বলেছে, “মিউজ ইমেজ আপনার কল্পনার এক দারুণ সৃজনশীল সঙ্গী হিসেবে কাজ করবে, যার সাহায্যে আপনার মনের যে কোনো ভাবনাকে সহজেই জীবন্ত ও উচ্চ-মানের ছবিতে রূপান্তর করা যাবে। এসব ছবি ডাউনলোড করে সরাসরি নিজের ফিড, স্টোরি বা চ্যাটিংয়ে শেয়ারও করা যাবে।
“আপনি একদম নতুন কোনো ছবি তৈরি করতে চান বা পুরানো কোনো ছবি বদলে নিতে চান তা সবই সম্ভব। কেবল সাধারণ ও সহজ ভাষায় আপনার মনের কথাটি বুঝিয়ে বললেই হল, বাকি চমৎকার কাজটুকু মেটা এআই নিজেই করে দেবে।”
আপাতত সীমিত কিছু দেশে ফিচারটি চালু করা হলেও মেটা বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা বিশ্বজুড়ে সবার জন্য চালু হবে।
নিজেদের অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যাপ যেমন ফেইসবুক ও মেসেঞ্জারেও এ ইমেজ জেনারেশন ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা করছে মেটা।
এ বিষয়ে মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগের যে অভিজ্ঞতা মেটা সবচেয়ে ভালো বোঝে, এ প্রযুক্তি সেটিকেই আরও শক্তিশালী করবে। মানুষ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে ও নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করতেই মেটার বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন, আর ‘মিউজ ইমেজ’ তাদের ঠিক সেই কাজটিই আরও নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে করার সুযোগ দেবে।
এ ফিচারের আওতায় ইনস্টাগ্রাম স্টোরির জন্য থাকছে ৩০টিরও বেশি নতুন এআইচালিত ইফেক্ট ও হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি ‘মেটা এআই’-এর সঙ্গে চ্যাটিংয়ের সময় তাৎক্ষণিকভাবে ছবি তৈরি করে নেওয়ার সুবিধা।
এ ছাড়া মেটা তাদের নতুন এআই ভিডিও জেনারেশন টুল ‘মিউজ ভিডিও’র আগাম ঝলকও দেখিয়েছে, যা খুব শিগগিরই সবার জন্য চালু হবে।
মেটা বলেছে, নতুন ফিচারটি তাদের ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
২০২৪ সালে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ঘোষণা করেছিলেন, তার কোম্পানি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।
ওই সময় থেকেই ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ ছিল মেটার মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে ২০২৫ সালের জুনে জাকারবার্গ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ চালু করেন।
এরপর থেকে অ্যানথ্রপিক, গুগল ডিপমাইন্ড ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শীর্ষস্থানীয় এআই বিশেষজ্ঞদের নিজেদের দলে ভেড়াতে কোটি কোটি ডলারও খরচ করেছেন।