Published : 30 Aug 2025, 01:07 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে বা চাকরির বাজার এমনভাবে পাল্টে দিতে পারে যে, তা আর চেনার উপায় থাকবে না বলে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক– এমনই উঠে এসেছে নতুন এক জরিপে।
জরিপটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’ বা টিইউসি। তারা বলেছে, জরিপের ফলাফল মন্ত্রিসভার জন্য এমন এক সতর্কবার্তা হওয়া উচিত, যাতে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে তারা।
জরিপে উঠে এসেছে, এআইয়ের কারণে নিজেদের চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্যের ৫১ শতাংশ কর্মরত প্রাপ্তবয়স্ক। তরুণ কর্মীদের মধ্যে এ উদ্বেগ আরও বেশি। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ উদ্বেগ রাজনৈতিক মতাদর্শ ভেদেও স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট। লেবার, কনজারভেটিভ ও রিফর্ম যুক্তরাজ্যের এ তিনটি দলের প্রায় অর্ধেক ভোটারই এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জরিপটি এমন সময়ে এল যখন বিটি, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটসহ বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন কোম্পানি সতর্ক করে বলেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআইয়ের অগ্রগতি ভবিষ্যতে চাকরি ছাঁটাইয়ের কারণ হতে পারে।
টিইউসি’র সহকারী মহাসচিব কেইট বেল বলেছেন, “এআইয়ের রয়েছে পরিবর্তন আনার আমূল সম্ভাবনা। তবে এ প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে উন্নয়ন করা গেলে এর কারণে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে কর্মীরাও উপকার পেতে পারেন।
“তবে এর বিকল্প চিত্রটি অন্ধকার। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না গেলে বা ভুল হাতে পড়লে এই এআই বিপ্লব বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন– চাকরির বাজার নষ্ট বা মানহীন হয়ে পড়তে পারে। আর ওই সময়ে কেবল কোম্পানি মালিকরাই আরও ধনী হয়ে উঠবে।”
টিইউসি আহ্বান জানিয়েছে, এআইয়ের অগ্রগতির ফলে যেন কর্মীরা পিছিয়ে না পড়েন। এজন্য তারা চাইছে, বিভিন্ন কোম্পানি যেন নিজেদের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের প্রভাব বিভিন্ন খাতে ভিন্নভাবে পড়বে। রুটিন প্রশাসনিক কাজ ও কিছু ডিজিটাল পরিষেবা বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কারণ এ ধরনের কাজ সহজেই স্বয়ংক্রিয় করা যায়। অন্যদিকে, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও বিশেষজ্ঞদের মতো বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে চাকরির চাহিদা বাড়তে পারে।
টিইউসি সতর্ক করেছে, ব্যবস্থা না নিলে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শ্রমবাজারে ঢুকে পড়বে ব্রিটেন, যেখানে কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থাকবে না।
গত বছর ‘টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট’ এক পূর্বাভাসে বলেছিল, বেসরকারি খাতে কয়েক লাখ চাকরি প্রতিস্থাপন করতে পারে এআই। তবে তারা এও উল্লেখ করেছে, প্রযুক্তি খাতে যে প্রবৃদ্ধি ঘটবে এবং এতে যে নতুন ধরনের চাকরি তৈরি হবে তা অনেকাংশে এই প্রভাবকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলবে।
আগামী কয়েক দশকে বেসরকারি খাতে ১০ থেকে ৩০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে বেকারের সংখ্যা বাড়বে কয়েক লাখের মতো।
‘টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট-এর বিশ্লেষণ অনুসারে, সর্বোচ্চ পরিবর্তনের সময় বছরে প্রায় ৬০ হাজার থেকে দুই লাখ ৭৫ হাজার পর্যন্ত চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে এ সংখ্যাকে ‘তুলনামূলক সামান্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা। কারণ গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার চাকরি হারানোর রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে তিন লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছেন।
এ বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যে এআই নিয়ে ৫০-দফার এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ওই সময় তিনি বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ও জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই তবে এ প্রযুক্তিগত বিপ্লবে আমাদের বিদ্রোহীর ভূমিকাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে হবে।”