Published : 26 Mar 2026, 10:36 AM
মার্কিন প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান নীতিতে নতুন মোড় দিতে মেটার মার্ক জাকারবার্গ, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও গুগলের সার্গেই ব্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দিচ্ছেন।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বসেরা রাখতেই এক টেবিলে বসছেন সিলিকন ভ্যালির এই শীর্ষ নেতারা।
‘প্রেসিডেন্টস কাউন্সিল অফ অ্যাডভাইজরস অন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামের এ কমিটিতে ট্রাম্পের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে নিজেদের মতামত জানাবেন এসব প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানরা।
মেটা প্রধান জাকারবার্গ ও এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং ছাড়াও এ প্যানেলে যোগ দিচ্ছেন ডেল প্রধান মাইকেল ডেল এবং ওরাকল প্রধান ল্যারি এলিসন। তাদের পাশাপাশি থাকছেন গুগলের সহ প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন ও এএমডি’র প্রধান নির্বাহী লিসা সু।
এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রিসেনও এই প্যানেলে থাকছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোকে অনুদান দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৩ জন। তবে ভবিষ্যতে তা ২৪ জন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
যৌথভাবে এ পরিষদের সভাপতিত্ব করছেন হোয়াইট হাউসের এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক প্রধান ডেভিড স্যাকস ও ট্রাম্পের বিজ্ঞান উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাতসিওস।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস থেকে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এ উপদেষ্টা পরিষদ উদীয়মান বিভিন্ন প্রযুক্তি মার্কিন কর্মীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ বা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে সেদিকে নজর দেবে।
“এ ছাড়া উদ্ভাবনের এই স্বর্ণযুগে যেন সকল আমেরিকান সমৃদ্ধ হতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।”
জাকারবার্গ বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এ পরিষদে যোগ দিতে পেরে ও এআইয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে বিশ্বের শীর্ষে রাখতে অন্য শিল্পনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি ‘সম্মানিত’।
২০০১ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জর্জ ডব্লিউ বুশ এ পরিষদ গঠন করেছিলেন। এর আগে অনেক নামী ব্যক্তিত্ব এ প্যানেলে কাজ করেছেন।
বারাক ওবামার সময়ে গুগলের তৎকালীন নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক শ্মিড ও মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান গবেষক ক্রেইগ মান্ডি এই পরিষদে ছিলেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডিজনির সাবেক সিইও বব আইগার ও জো বাইডেনের সময়ে লিসা সু এই প্যানেলের সদস্য ছিলেন।
স্বার্থের দ্বন্দ্ব
মার্কিন ফেডারেল বা সরকারি নিয়মকানুন এসব প্রধানদের বা তাদের ব্যবসার ওপর এই পদের প্রভাব এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ‘বলরুম’ তৈরির খরচ মেটাতে মেটা, গুগল ও হুয়াং অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানের কমিটিতে গুগল, মেটা ও এনভিডিয়া প্রত্যেকে ১০ লাখ ডলার করে অনুদান দিয়েছে।
অন্যদিকে, ল্যারি এলিসনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এলিসনের পরিবার গত কয়েক বছর ধরে বড় মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে, যার মধ্যে প্যারামাউন্ট ও সম্ভবত ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিও অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।
এ ছাড়া টিকটকের মার্কিন সংস্করণ কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যেসব কোম্পানি সমর্থন দিয়েছিল ওরাকল তাদের মধ্যে অন্যতম। এ চুক্তিতে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অনুমোদন দিয়েছিলেন।
এ মাসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এ কেনাবেচার মধ্যস্থতা করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ১ হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে।