Published : 16 Jun 2026, 06:40 PM
আকস্মিক নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
পরে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নতুন তত্ত্বাবধায়ক না দেওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পরিবেশ খোঁজ খবর নেন।
হাসপাতালে সেবার মান, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবার মান, বাথরুমের অবস্থা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুদ এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মান ও খাবার পর্যবেক্ষণ করেন।

হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার আকস্মিক এই উপস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বেড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি।
“পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।”
এ সময় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করারও তাগিদ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।