Published : 15 Jan 2026, 11:55 AM
২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতি ও ব্যবসার জন্য বাণিজ্য যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাবই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে।
বুধবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট’ অনুসারে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বৈশ্বিক সক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কৌশলগত বিভিন্ন অচলাবস্থাকেই বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে অনুসারে, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নেতাদের অর্ধেকই মনে করছেন, আগামী দুই বছর অত্যন্ত টালমাটাল কাটবে। কেবল ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। সব মিলিয়ে বর্তমান চিত্রটি এমন যে, পুরো বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ বিপদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
পরিবর্তনশীল এক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রতিবেদন বলছে, আগামী দুই বছরে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের তালিকায় সবার উপরে উঠে এসেছে ‘ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত’।
বিশ্বির বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়কে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা থেকেই এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। যেমন শুল্ক বাড়ানো, কঠোর নিয়মকানুন, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা ও পুঁজি বা বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে সতর্কতা রয়েছে প্রতিবেদনে।
‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর ব্যবস্থপনা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ সাদিয়া জাহিদি এ প্রতিবেদনে লিখেছেন, “বিভিন্ন দেশ যখন ঋণের বিশাল বোঝা ও অস্থির বাজারের মুখে তখন অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সম্পদ বা পুঁজির বাজারে বুদবুদ তৈরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।”
বুধবার নাম পরিবর্তন করে ‘মার্শ ম্যাকলেনান’ নামে নতুন ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম বীমা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ’। বৈশ্বিক ঝুঁকি নিরূপণে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর অংশীদার হিসেবে কাজ করে তারা।
মার্শ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ডয়েল বলেছেন, “বর্তমান সময়টি কেবল কোনো বড় এক বৈশ্বিক সংকটের মুহূর্ত নয়, বরং তা পলিক্রাইসিস বা বহুমুখী সংকটেরই মুহূর্ত।”
বর্তমান ব্যবসার প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ, সাংস্কৃতিক যুদ্ধ, দ্রুত প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও চরম আবহাওয়ার প্রভাবকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডয়েল।
“বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এতসব প্রতিকূলতা একসঙ্গে ঠেকানো ও নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।”
এ জরিপে অন্য যে কোনো বিষয়ের চেয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে দ্রুত ও প্রবলভাবে সামনে এসেছে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব।
গত বছর স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন ঝুঁকির তালিকায় ৩০তম স্থানে থাকলেও এবারের র্যাংকিংয়ে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে এআই।
‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর প্রতিবেদন বলছে, শ্রমিক বা কর্মসংস্থান প্রতিস্থাপন বা মানুষের বদলে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আয়ের ব্যবধান অনেক বেড়ে যেতে পারে, সামাজিক বিভাজন, ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক মন্দার চক্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মেশিন লার্নিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখন একে অপরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে এবং এদের উন্নয়নের গতিও বিস্ময়করভাবে বাড়ছে। জোরালো এক পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিবেদন বলছে, এ পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে, যেখানে ‘মানুষের হাতে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না’।
এতসব ঝুঁকির মধ্যেও, জরিপে অংশ নেওয়া নেতাদের মতে আগামী এক দশকের জন্য চরম জলবায়ু পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০২৫ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। এ সংখ্যা টানা ষষ্ঠ বছরের মতো ১০ হাজার কোটি ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল, যা এ শতকের শুরুর তুলনায় বড় বৃদ্ধি।