Published : 18 Jan 2026, 04:37 PM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভিডিও গেইম সম্ভবত অল্পবয়সী বা টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ নয়– এমনই উঠে এসেছে বড় পরিসরে করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর ডিজিটাল বিশ্বের প্রভাব নিয়ে মা-বাবা বা অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে থাকা ব্যাপক উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তাকে ভুল বলে দাবি করেছে ‘ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি’র এই গবেষণা। গবেষণাটি প্রচলিত ধারণার ঠিক বিপরীত তথ্য দিচ্ছে।
‘#বিওয়েল’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ২৫ হাজার টিনএজারের ওপর টানা তিন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন গবেষকরা।
এ প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্মের মানসিক সুস্বাস্থ্য বা ভালো থাকার বিষয়টি বোঝা ও তার উন্নতি করা বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
শিক্ষার্থীরা টানা তিন বছর ধরে নিজেদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস, কতবার তারা গেইম খেলে ও তাদের কোনো মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যা হচ্ছে কি না সেসব তথ্য নিজেরাই গবেষকদের কাছে জমা দিয়েছে।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় সামাজিক মধ্যম ব্যবহার বা ঘনঘন ভিডিও গেইম খেলার কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে ছেলে বা মেয়েদের মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার লক্ষণ বেড়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এ গবেষণার সহ-গবেষক অধ্যাপক নিল হামফ্রি বলেছেন, “আমাদের এ গবেষণার ফলাফল থেকে ইঙ্গিত মেলে, টিনএজারদের সামাজিক মধ্যম বা গেইমিং সংক্রান্ত বিভিন্ন পছন্দ হয়ত তাদের মনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। তবে বিষয়টি সবসময় উল্টোভাবেও হতে পারে, মন খারাপ থাকলে হয়ত কেউ বেশি সামাজিক মাধ্যম বা গেইম খেলেন। তবে সামাজিক মাধ্যম বা গেইম খেললেই যে তাদের মন খারাপ হবে– বিষয়টি এমনভাবে কাজ করে না।
“প্রযুক্তিকে সরাসরি দোষারোপ করার বদলে আমাদের খেয়াল করা প্রয়োজন তরুণরা অনলাইনে ঠিক কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে ও তাদের দৈনন্দিন জীবনে তারা কতটা মানসিক সমর্থন বা সাপোর্ট পাচ্ছে।”
এ গবেষণার প্রধান গবেষক ড. কিউকি চেং বলেছেন, “আমরা জানি, বিভিন্ন পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। তবে আমাদের গবেষণার ফলাফল এই ধারণাকে সমর্থন করে না যে কেবল সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানো বা গেইম খেলা তাদের মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়। আসলে পুরো বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বেশি জটিল।”
তবে গবেষণায় একটি বিষয় উঠে এসেছে, যেসব মেয়েরা বেশি গেইম খেলে তারা পরবর্তী বছরে সামাজিক মাধ্যম তুলনামূলক কম সময় কাটিয়েছে। অন্যদিকে, যেসব ছেলেরা বেশি মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যায় ভুগেছে পরবর্তীতে গেইম খেলার সময় কমিয়ে দিয়েছে তারা।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের আচরণের কারণ হতে পারে মন খারাপ থাকলে শখের বিভিন্ন কাজের প্রতি কারো আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা সন্তানের মানসিক অবস্থা খারাপ দেখে মা-বাবার পক্ষে তাদের সন্তানদের জন্য স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দেওয়া।
সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে চ্যাটিং বা কথা বলা বা কেবল অলসভাবে স্ক্রল করে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না সেটিও গবেষণা দলটি খতিয়ে দেখেছে।
তারা বলছেন, গবেষণার সার্বিক ফলাফল একই ছিল, কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন অভ্যাস টিনএজারদের মানসিক সমস্যার মূল কারণ বলে গবেষণায় উঠে আসেনি।
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে, ইন্টারনেটের সব অভিজ্ঞতাই ক্ষতিহীন। বরং কটু কথা বা অনলাইন হয়রানি, সামাজিক চাপ ও উগ্র বা নেতিবাচক কনটেন্ট এসবকিছুরই মানসিক সুস্বাস্থ্যের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের যুক্তি, কেবল ‘স্ক্রিন টাইম’ বা কত সময় ফোনের পর্দায় কাটানো হচ্ছে সেটির ওপর নজর দিলে মূল সমস্যাটি আড়ালে থেকে যায়।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জার্নাল অফ পাবলিক হেলথ’-এ।