Published : 14 Jul 2026, 02:48 PM
ইংল্যান্ড দলে বিভাজনের খবর যুগে যুগে নানা সময়েই বেশ আলোচিত হয়েছে। এবারও বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছুটা ঝড় উঠলেও পরে তা থেমে যায়। কিন্তু কোয়ার্টার-ফাইনালের পর কোচ টমাস টুখেল ও জয়ের নায়ক জুড বেলিংহ্যামের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ঘিরে মনোমালিন্যের গুঞ্জন ডালপাল মেলতে থাকে। সেমি-ফাইনালের আগে অবশ্য সেই বিভাজনের খবর উড়িয়ে দিয়ে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের দাবি, দল দারুণ একতাবদ্ধ।
নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে পিছিয়ে পড়ার পর বেলিংহ্যামের দুই গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি কিছূ সমালোচনাও করেন টুখেল। দল কিছুটা ‘অগোছালো’ ছিল এবং জয়টা ভাগ্যের ছোঁয়ায় এসেছে, এমন মন্তব্য করেন তিনি।
কোচের মন্তব্যের প্রসঙ্গে বেলিংহ্যামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “যে যা-ই বলুক, এটা একটা কঠিন দায়িত্ব, তাই যে ছেলেররা মাঠে কঠিন লড়াইটা করেছেন, তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা রইল।”
শেষ নয় সেখানেই। পরে মিক্সড জোনে আবার বেলিংহ্যামকে জিজ্ঞেস করা হয় টুখেলের মন্তব্য নিয়ে। এবার বেশ কড়া জবাব দেন বিশ্বকাপে ছয় গোল করা এই মিডফিল্ডার, “হয়তো সে জানে না হলান্ড, ওদেগোর, নুসা, সর্লথের মতো ফুটবলারদের বিপক্ষে এই ধরনের পরিস্থিতিতে খেলাটা কেমন! ওদের বিপক্ষে খেলাটা কোনো দলের জন্যই সহজ নয়।”
বিশ্বকাপের আগেও টুখেলের সঙ্গে বেলিংহ্যামের কিছুটা দূরত্বের খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল। এবারের মন্তব্যের ঘটনায় টানাপোড়েনের গুঞ্জন শুরু হয় নতুন করে।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে কেইন তীব্র ভাষায় এসবের জবাব দিলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জোর গলায় বলেন, একতাই তার দলের মূল চালিকাশক্তি।
“এরকম একটি ম্যাচ খেলার পর এবং শেষ বাঁশি বাজার মিনিট পাঁচেক পর, তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোচ আদতে কী বলেছেন, তা সে নিজেও ঠিক জানত না, তখন আপনি জুডের কাছে কি শুনতে চাইবেন? মাত্রই কঠিন এক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে এসেছি আমরা। মাঠের পরিস্থিতি সত্যিই খুব কঠিন ছিল।

এই বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করাটা সহজ -- এটিকে বলে ইংরেজ মানসিকতা, এই ধরনের বড় টুর্নামেন্টে ইংরেজদের করার মতো একটা ব্যাপার বলে মনে হয় এটিকে। কিন্তু ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টো। আমরা আজ যেখানে আছি, তা আমাদের একতার কারণেই -- শুধু ফুটবলার, কোচ এবং স্টাফদের কারণে নয়। মাঝে মাঝে বিষয়গুলোকে যতটা বড় করে দেখানো হয়, আসলে তা ততটা নয়।”
কোচের কণ্ঠে যে দলের অনেক স্তুতিও ছিল, তা মনে করিয়ে দেন অধিনায়ক।
“আমরা ব্যাপারটা বুঝি। মাঠে থাকা ফুটবলারই সবচেয়ে ভালো জানে, কখন তারা ভালো খেলছেন, আর কখন ভালো খেলছেন না; এটাই ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বস কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটাও আমরা বুঝতে পেরেছি, তিনি তো দলের অনেক প্রশংসাও করেছেন।
‘তিনি বলেছেন যে, দলের মানসিকতা, যা কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন অংশ, তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই এমন আছি।”
স্পষ্টভাষী হিসেবে টুখেলের পরিচিতি আছে বরাবরই এবং অনেকেই মনে করেন, তার এত ভালো কোচ হয়ে ওঠার পেছনে সেটিও একটি কারণ ও ধরন। কেইন বললেন, তারাও কোচের সেই ধরন সম্পর্কে জানেন এবং সম্মান করেন।
“তিনি মনের কথা অকপটে বলেন এবং লোকে তা পছন্দ করে। তিনি যখন কথা বলেন, কখনোই তা পূর্বপরিকল্পিত থাকে না। এটাই তাকে তার মতো করে তুলেছে।
যখন তিনি সহজাতভাবে কথা বলেন, তখন তা বিশ্বাস করতে হয়, তার কথা ও তার ধরনকে বিশ্বাস করতে হয়। তিনি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ম্যানেজার, সেটির তো কারণ আছে। আমরা তা বুঝি। গত দুই বছরে আমরা তাকে চিনেছি এবং খুব ভালো করেই জেনেছি, কোন জিনিসে তিনি খুশি হন।”