১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের সীমান্তে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

থামার সঙ্কেত দেওয়ার পরও তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে।

ভারতের সীমান্তে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার
আটক ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 03:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

ভারতের বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়া নেপালে প্রবেশের চেষ্টাকালে জর্ডান ব্রাউন নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি) । 

আটক ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন।

কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় সোনৌলি থানা এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এসএসবির একটি ব্যাটালিয়ন তাকে থামার সংকেত দেয়। 

এ সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।

জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন (৩৬) পুলিশকে জানান, তিনি পর্যটক ভিসায় প্রথমে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন আর সেখানে তার পাসপোর্টটি হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কা যান এবং সেখান থেকে গত বছরের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথেই ভারতে পৌঁছান। 

ভারত ভ্রমণের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকলেও তখন থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন। এর অর্থ হলো, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি প্রায় সাত মাস ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ জানায়, গোয়া থেকে তিনি প্রথমে বেঙ্গালুরু যান এবং সেখান থেকে নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান।

এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, ব্রাউনের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা দেখাতে পারেননি। 

এসএসবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য সোনৌলি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 

পুলিশ তার দাবিগুলো যাচাই করছে এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের ২১/২৩ ধারায় মামলা হয়েছে।

এদিকে ভিন্ন আরেকটি ঘটনায়, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেইনীয় এবং এক মার্কিন নাগরিককে গত ৩ জুলাই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা প্রথমে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে মিজোরাম রাজ্য হয়ে মিয়ানমারে যান। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংস্পর্শে আসেন।

এনআইএ-র দাবি, আসামিরা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন আর এই ঘটনার তদন্ত চলছে।