Published : 08 Jul 2026, 08:14 PM
যুক্তরাষ্ট্র দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে, কিন্তু তাদের স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত নিয়ে যে তীব্র বিতর্কের জন্ম হয়েছে, সেটার থামাথামির নাম নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়ে ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা’ যেভাবে ওই ফুটবলারের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে, সেই বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন কয়েক ডজন ইউরোপিয়ান আইনপ্রণেতা।
শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগন। নিয়ম অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় তার। ফলে, শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা ‘শেষ হয়ে যায়।’
তবে খেলা দেখে ট্রাম্পের মনে হয়, সেটি ফাউল হয়নি। তাই তিনি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি যেন পর্যালোচনা করা হয়। এবং এখান থেকে শুরু হয় চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত অধ্যায়ের।
এরপর, যুক্তরাষ্ট্র দলের পক্ষ থেকে কোনো আপিলও করা হয়নি। অবশ্য নিয়মানুযায়ী, আপিল করার কোনো সুযোগও ছিল না। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে বালোগনের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
ফিফার ওই সিদ্ধান্ত বেলজিয়াম দলে তো বটেই, পুরো ফুটবল বিশ্বের তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়, শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতা ব্যারি অ্যান্ড্রুস, লারা ভল্টার্স ও নাইলস ফুগলসাং যৌথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফিফা যেভাবে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার আইন পরিবর্তন করেছে, তা রীতিমতো অসম্মানজনক ও সুবিচারের ব্যত্যয়।
“আরও একবার, আমরা ইনফান্তিনো ও ফিফাকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পন করতে দেখলাম।”
ইনফান্তিনোর বিষয়ে এবং বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল কি-না, সেই বিষয়ে পূর্ণ তদন্ত করার জন্য ফিফা এথিকস কমিটির কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলো যেন আবেদন জানায়, সেটাই চান এই আইনপ্রণেতারা।
গত বছর ফিফা শান্তি পুরস্কার নামে নতুন একটা পুরস্কার দেওয়া শুরু করে এবং প্রথমবার সেটা দেওয়া হয় ট্রাম্পকে। এর পেছনেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনোরকম নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করা হয়েছে কি-না, সেটারও তদন্ত চান তারা।
ফিফা অবশ্য ইতোমধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছে, বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এর ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
এইসব আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এই চিঠিতে এখন পর্যন্ত তাদের ৩৫ জন সহকর্মী স্বাক্ষর করেছেন।
“খেলার সৌন্দর্যই হলো, এটা চলবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ আইনের দ্বারা। কিন্তু ইনফান্তিনো যখন রাজনৈতিক চাপে পড়ে নির্ধারণ করেন কে খেলবে, তখন ন্যায্যতার পুরো বিষয়টি হারিয়ে যায়।”
তুমুল সমালোচনার মাঝেই বালোগনকে শুরুর একাদশে রেখে শেষ ষোলোয় খেলতে নামে যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি ৪-১ হেরে ছিটকে পড়ে তারা।