Published : 08 Jul 2026, 04:40 PM
কৌশল বদলে ফেলেছেন বেলজিয়াম কোচ হুদি গাহসিয়া। কেভিন ডে ব্রুইনা, রোমেলু লাকাকুর মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখে, তিনি কাজে লাগাচ্ছেন শার্লে ডি কেটলারে, নিকোলা হাসনিকদের । দলটিও ছুটতে শুরুরু করেছে দুর্বার গতিতে। শুরুর ছন্দহীনতা ঝেড়ে, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শক্তিশালী দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বেলজিয়াম।
বেলজিয়ামের এই দাপটের দেখা সবশেষ মিলেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, শেষ ষোলোর ম্যাচে। প্রতিপক্ষকে তারা স্রেফ খড়কুঁটোর মতো ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ডে কেটলারে।
সিয়াটলের এই ম্যাচে অভিজ্ঞ তারকাদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে শুরু করেছিল বেলজিয়াম। ডে ব্রুইনা, জেরেমি ডোকু, লুকাকুর জায়গা হয়নি সেরা একাদশে। এমনকি, মাঝমাঠের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডে ব্রুইনাকে মাঠেই নামাননি গাহসিয়া।
তিনি বরং সুযোগ দেন নিকোলা হাসনিক, আমাদু ওনানা, দদি লুকবোকিওকে। তাতে বেঞ্চে জায়গা হয় হন্স ফনা, ডে ব্রুইনা ও ডোকুর। ডে কেটলারেকে খেলান সেন্টার ফরোয়ার্ডে। দুই গোল করে কোচের প্রত্যাশার প্রতিদান দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের সামর্থ্যের জানানও ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
গ্রুপ পর্বে অবশ্য কিছুটা ধুঁকতে হয়েছিল বেলজিয়ামকে। টানা দুই ড্রয়ের পর, নিউ জিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে, গ্রুপ সেরা হয়েছিল তারা। এরপর, নকআউট পর্বের শুরুতে, সেনেগালের বিপক্ষেও জিততে ঘাম ছুটে যায় তাদের। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে গাহসিয়ার দল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছকে বদল এনে নিজেদের ফিরে পেয়েছে বেলজিয়াম। এই ম্যাচ শুরুর আগে দলটির কোচ গাহসিয়া বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের অনুশীলনের ফর্ম এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী কৌশল বিবেচনায় রেখে একাদশ সাজাবেন তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, সে ভাবনা কাজেও দেয় পুরোপুরি। চলতি আসরে, নিজেদের সেরা ফুটবলই বেলজিয়াম মেলে ধরে এই ম্যাচে।
বেলজিয়ামের খেলার ধরণে, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র নিস্তেজ ও হতবিহ্বল হয়ে পড়ে শুরু থেকে। অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্সের সঙ্গে বেলজিয়ামের মাঝমাঠ হয়ে ওঠে আরও আগ্রাসী এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ও হারানো পজেশন দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে থাকে। উইংয়ের জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণে তারা চাপ দিতে থাকে ক্রমাগত।
এমনকি প্রথমার্ধের মাঝামাঝি ওনানা হাটুঁর চোটে মাঠ ছাড়লেও, বেলজিয়ামের খেলার ধার কমেনি একটুও। তিন ডিফেন্ডারের সামনের ওই জায়গাটুকু হন্স ফানাকে পূরণ করে দেন দারুণভাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর গাহসিয়া বলেছিলেন, ম্যাচ শুরুর আগে সেরা একাদশ নিশ্চিত করে রেখেছিলেন তিনি। সিয়াটলে কীভাবে খেলবে, জানতেন সেটাও।
“আমরা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলাম। পরিকল্পনা ছিল ডে ব্রুইনাকে নামানোর, কিন্তু গোল পেয়ে যাওয়ার কারণে, তাকে নামানোর আর প্রয়োজন ছিল না।
“এবং যখন ওনানা চোট পেল, আমরা শারীরিক গঠনের কারণে ফনাকেকে খেলালাম। যাই হোক, তার গোল নিয়ে আমি খুবই খুশি। কেননা, জাতীয় দলে সবসময় ডাক না পাওয়ার পর, এই ৩৩ বছর বয়সে এসে গোল করা, অনেক বড় বিষয়।”
সব মিলিয়ে, গ্রুপ পর্বের বিবর্ণতা, নকআউট পর্বের শুরুর এলোমেলোভাব বেলজিয়াম কাটিয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে। কৌশল বদলের খেলায় এখন পর্যন্ত জয়ী গাহসিয়া। কোয়ার্টার-ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের পরীক্ষায় তিনি জয়ী হবেন কিনা, তা সময়ই বলে দিবে। তবে, এই ম্যাচ তার দল ঠিকই নামবে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে।