যে শঙ্কায় ছিলেন ভিনিসিউস-রদ্রিগো

ক্লাব ফুটবলে প্রতিপক্ষের ‘বাজে’ সব চ্যালেঞ্জ ছিল ব্রাজিলের দুই তরুণ ফরোয়ার্ডের ভয়ের কারণ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 11:34 AM
Updated : 19 Nov 2022, 11:34 AM

একেতো মৌসুমের মাঝামাঝি হচ্ছে বিশ্বকাপ। তারওপর জমকালো এই আসর মাঠে গড়ানোর আগের সপ্তাহেও খেলতে হয়েছে ক্লাব ফুটবল। প্রতিপক্ষের কোনো বাজে ট্যাকলে শেষ মুহূর্তে এসে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে না যায়, সেই শঙ্কা পেয়ে বসেছিল ব্রাজিলের দুই ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র ও রদ্রিগোকে। 

চলতি লা লিগায় সবচেয়ে বেশিবার ফাউলের শিকার হয়েছেন ভিনিসিউস। তালিকায় দুই নম্বরে থাকা গেতাফের এনাস উনালের চেয়ে তাকে ১০ বার বেশি ফাউল করা হয়েছে। ভিনিসিউস মনে করেন, তার ফর্মের কারণেই প্রতিপক্ষরা তাকে বেশি আক্রমণ করে। 

করিম বেনজেমার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের বড় অস্ত্র এখন ভিনিসিউস। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। গত মাসে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে হন অষ্টম। 

চলতি মৌসুমেও ছন্দ ধরে রেখেছেন ভিনিসিউস। এবারের লা লিগায় এখন পর্যন্ত তিনি ৬টি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৩টি। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন বার্সেলোনার রবের্ত লেভানদোভস্কি (১৭) ও রিয়াল বেতিসের বোর্হা ইগলেসিয়াস (১০)। 

কাতার বিশ্বকাপে তিতের ব্রাজিল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিনিসিউস। ২০১৯ সালে জাতীয় দলের অভিষেক হওয়ার পর এখন পর্যন্ত খেলেছেন তিনি ১৬টি ম্যাচ। 

ইউরোপীয় ফুটবল মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক দিন থেকেই হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্লাব ফুটবলে এই সময় এক মাসের বেশি বিরতি বের করতে গিয়ে ঠাসা সূচিতে খেলতে হয়েছে দলগুলোকে। তাতে খেলোয়াড়দের ওপর পড়েছে বাড়তি চাপ। 

ফ্রান্সের পল পগবা ও এনগোলো কঁতের মতো ফুটবলাররা আগেই ছিটকে গেছেন চোট পেয়ে। শেষ মুহূর্তে একই কারণে দলের সেরা তারকা সাদিও মানেকে হারিয়েছে সেনেগাল। আর্জেন্টিনা হারিয়েছে জোড়া খেলোয়াড়, তাদের পাওলো দিবালাকে নিয়েও আছে দুর্ভাবনা। 

ভিনিসিউস সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এবং তার ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগোকে খুব খারাপ সব চ্যালেঞ্জ করতেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা। 

“মাঠে ঘটে যাওয়া সবকিছু আমরা মাঠেই ফেলে আসি। তবে এবার (প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ) অনেক মারাত্মক ছিল। সবসময়ই আরও ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, কিন্তু প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জগুলো বেশ বাজে ছিল। রদ্রিগো ও আমি শেষ কয়েকটি ম্যাচে অনেক ভুগেছি। চোটে পড়ে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যায় কিনা, অনেক ভয়ে ছিলাম।” 

“যখন কেউ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে শুরু করে, তখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার ওপর আরও শক্তভাবে চেপে বসে। এটা সামলানো শিখতে হবে। আমি নেইমারের কাছ থেকে অনেক শিখেছি। বার্সেলোনায় খেলার সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যখন রিয়ালের হয়ে খেলেছে, তাকেও ভুগতে হয়েছে।” 

কেন শুধু তাদেরই তাড়া করছে প্রতিপক্ষ, শুরুতে বুঝে উঠতে পারছিলেন না ভিনিসিউস। পরে রিয়ালের সতীর্থ বেনজেমা তাকে সেটা বুঝিয়ে দেন। 

“করিম বেনজেমা আমাকে শান্ত থাকতে বলেছিলেন। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা যদি কাউকে তাড়া করে, তাহলে বুঝতে হবে সে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে তারা ভয় পায়।” 

“এই কারণে যখন আমি বল নিয়ে সামনে ছুটে যাই, তখন মনে প্রতিশোধ নেওয়ার তাড়নাও কাজ করে। হ্যাঁ, এতে আমি চোট পেতে পারি। তবে আমি প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।” 

রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তোলার অভিযান আগামী বৃহস্পতিবার সার্বিয়া ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে ব্রাজিল। 

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অপরাজেয় ছুটে চলার রথটাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য তাদের সামনে। বৈশ্বিক আসরে গ্রুপ পর্বে সবশেষ ১৫ ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল; জিতেছে ১২টি, ড্র ৩টি। তাদের সবশেষ হার ১৯৯৮ সালে, নরওয়ের বিপক্ষে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক