১০ আসর কাভার করা ব্রাজিলিয়ানের কাছে ফেভারিট আর্জেন্টিনা!

৭৭ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নে দিয়েগো মারাদোনার চেয়ে এগিয়ে রাখলেন স্বদেশি পেলেকে।

মোহাম্মদ জুবায়েরমোহাম্মদ জুবায়েরদোহা থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2022, 01:12 PM
Updated : 21 Nov 2022, 01:12 PM

ব্রাজিলের অনুশীলন কেন্দ্রে দেখা তার সঙ্গে। ভদ্রলোকের নাম বাতিস্তা নাদাল। ব্রাজিলের রেডিও লাগোয়া দৌরাদার হয়ে বিশ্বকাপ কাভার করতে এসেছেন। এতটুকুতে মনে হয়, তার পরিচয় পরিষ্কার করা গেল না। কিন্তু যখন জানবেন, সেই ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন মাঠে বসে, তখন তার কথা আমলে না নিয়ে উপায় কোথায়?

অভিজ্ঞতার আতঁশী কাঁচের নিচে এবারের বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্য থেকে ফেভারিট বেছে নিলেন বাতিস্তা। নিজের দেশ ব্রাজিলকে আমলেই নিলেন না, বরং ৭৭ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ানের দৃষ্টিতে শিরোপার সেরা দাবিদার আর্জেন্টিনা!

বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের যেখানে সাফল্যের শেষ, সেই ১৯৭০ সালে বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর কাভার করা শুরু বাতিস্তার। মেক্সিকোর ওই আসরের পর ১২টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়িয়েছে, তার মধ্যে ১০টির চাক্ষুস সাক্ষী তিনি। মানে কাতারে তিনি পা ফেলেছেন দশম বিশ্বকাপ কাভার করতে।

বাতিস্তার সঙ্গে দেখা আল আরাবি স্পোর্টস ক্লাবে। এই ক্লাবের মাঠে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল। স্বাভাবিকভাবে নেইমার-আলিসন-সিলভাদের নিউজ সংগ্রহ করতে বয়সের ভার উপেক্ষা করে তিনি ছুটে এসেছেন মাঠে। ক্লাব ভবনের ভেতরে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য বানানো মিডিয়া সেন্টারে তার সঙ্গে আলাপ।

পরণে ঠিক ব্রাজিলের জার্সি নয়, কিন্তু হলুদ রংয়ের এক রাঙা টি-শার্ট, যেটি বলা যায় ব্রাজিলের হলুদ জার্সিরই অনুরূপ। বয়সের ছাপ তার মুখের ভাজে বেশ স্পষ্ট। চেয়ারে বেশ আয়েশী ভঙ্গিতে বসে আছেন। বিশ্বকাপ কাভার করতে আসা স্বদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। মূলত জার্সির রঙ দেখে তার সঙ্গে আলাপ জমাতে গেলাম বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ কাভার করতে আসা আমরা কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিক। তিনিও সাড়া দিলেন আন্তরিকতার সঙ্গে।

ব্রাজিল দলকে নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা কঠিন কিছু নয়। তাছাড়া পেলে-মারাদোনার শ্রেষ্ঠত্বের সেই চিরন্তন বিতর্ক তো আছেই। স্রেফ একটু উস্কে দিলেই যে কারো মুখে খই ফুটবে। কিন্তু বয়সী এই লোকটি যে কারো মতো নন, তা পরিষ্কার করে দিলেন দুটি প্রশ্নের উত্তরেই।

কৌতুহলী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রায় সবার প্রশ্ন ছিল পেলে না মারাদোনা সেরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বলতে গেলে একক প্রচেষ্টায় শিরোপা এনে দেওয়া মারাদোনাকে সিংহাসনে বসাতে রাজি নন তিনি। দুজনের জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ের শৈল্পিক ফুটবল দেখার অভিজ্ঞতা থেকে এক টানে উত্তর দিয়ে দিলেন বাতিস্তা।

“এদসন আরেন্তোস দো নাসিমেন্তো পেলে। মারাদোনা নয়। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দুর্দান্ত, কিন্তু পেলেই সেরা।”

পরের প্রশ্নের উত্তর বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। উত্তরটা ছোট কিন্তু বিস্ময়ে ভেসে যাওয়ার মতো। ফেভারিটের প্রশ্নে যে তিনি বেছে নিলেন চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের।

আর্জেন্টিনার সর্বশেষ সাফল্যের গল্পটা হয়ে গেছে ৩৬ বছরের পুরানো। লিওনেল মেসি নামের জাদুকরের হাত ধরে এত বছরের জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নতুন গল্প লিখতে উন্মুখ তারা।

ওদিকে ফ্রান্স মুখিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের সুরে কাতারেও সাফল্যের গান গাইতে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, কিংবা ১৯৬৬ সালে প্রথম ও সবশেষ বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ডকে নিয়েও উচ্ছ্বাসের শেষ নেই অনেকের।

রেকর্ড পাঁচ বিশ্বকাপের সর্বশেষটি ২০০২ সালে জেতা ব্রাজিল এবার খরা কাটাতে মরিয়া। তাদের পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে সম্ভাবনার পাল্লায় এগিয়ে রাখছেন অনেকে। বাতিস্তা দুই শব্দেই টেনে দিলেন সমাপ্তি, “আর্জেন্টিনাই ফেভারিট।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক