২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিপজ্জনক' স্কটল্যান্ড ও স্নায়ুর চাপকে হারাতে পারবে জার্মানি, বিশ্বাস নাগেলসমানের

প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড দলে তারকার সমাবেশ না থাকাই তাদেরকে বিপজ্জনক দলে পরিণত করেছে, মনে করেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 03:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:46 AM

ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি জার্মানির ওপর চাপও নেহাত কম নয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। ইতিহাস, ঐতিহ্যে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর খেলোয়াড়ের দিক থেকে দলটি পিছিয়ে থাকলেও তাদের বিপজ্জনক মনে করেন ইউলিয়ান নাগেলসমান। তবে প্রতিকূল স্রোতে সাঁতরে দল ডাঙায় উঠতে সক্ষম, এই দৃঢ় বিশ্বাসও আছে জার্মানি কোচের।

ইউরোর এবারের আসর মাঠে গড়াবে শুক্রবার। উদ্বোধনী দিনে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

জার্মানির অর্জনের ঝুলিতে সাফল্যের গল্প আছে অনেক, কিন্তু সেগুলোর ওপর সময়ের ধুলোও জমেছে অনেক। সবশেষ ইউরো তারা জিতেছে ১৯৯৬ সালে। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো সাফল্য পায়নি তারা।

বিশ্বকাপের গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার বিষাদ সঙ্গী জার্মানির। গত ইউরোয় তাদের পথচলা থেমেছিল শেষ ষোলোয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে।

এবার নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে জার্মানির দৌড় কতদূর হবে, সে প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের হাতে তোলা থাকছে। তবে ‘বিপজ্জনক’  স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে নাগেলসমানের কণ্ঠে দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের স্ফুরণ স্পষ্ট।

“তারকায় ঠাসা দল স্কটল্যান্ড নয়, কিন্তু এটাই তাদেরকে বিপজ্জনক দল তৈরি করেছে। কেননা, তাদের দলে ক্ষিপ্র গতির, ধ্রুপদী স্কটিশ মানসিকতার খেলোয়াড় আছে, যারা সবটুকু নিংড়ে দেয়।”

“যখন আমি নিজের খেলোয়াড়দের চোখে তাকাই…আমি তাদের চোখে দেখি অনেক বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস, এটাই আমি দেখতে চাই…নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা আমাদের আছে, আমরা জিততে চাই। আমরা চাপকে হারাতে পারি এবং স্কটল্যান্ডকেও হারাতে পারি।”

জার্মানির প্রাপ্তির শোকেসে দ্যুতি ছড়াচ্ছে চারটি বিশ্বকাপ, তিনটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপের সাফল্যের পর তারা ছুটছে উল্টোরথে। গত অক্টোবরে জার্মানির হাল ধরা নাগেলসমানের উপলব্ধি, স্কটল্যান্ডের চেয়েও দলকে সাফল্যের পথে ফেরানোর বড় চাপ আছে তাদের কাঁধে।

“প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের চেয়ে আরও বড় চাপ আমাদের ওপর আছে এবং তারা সেটাই পুঁজি করার চেষ্টা করবে। তাদের ক্রসগুলো এড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে আমাদের।” 

প্রথম ম্যাচ অনেকটাই বেঁধে দেয় টুর্নামেন্টের বাকি পথচলার সুর। জার্মান অধিনায়ক ইলকাই গিনদোয়ান তাই স্কটল্যান্ড ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন। বললেন, তিক্ত অতীত পেছনে ফেলার তাগিদ অনুভব করছেন তারাও।

“কোচ আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন; পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন; আমাদের করণীয় কী, তা আলোচনা করেছেন…প্রত্যেকে জানে, তাদের কাছে প্রত্যাশা কী এবং তারা মাঠে সবটুকু নিংড়ে দিতে পারে। যেটা আমাদের বিগত টুর্নামেন্টগুলোর নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।”

“কোনো ম্যাচই প্রথম ম্যাচের মতো নয়। কেননা, প্রথম ম্যাচের প্রেরণা ও উচ্ছ্বাস আপনি পরের ম্যাচগুলোতে টেনে নিতে পারবেন। এ কারণে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে, আগামীকালের ম্যাচটি জেতা।”