এশিয়ান কাপ বাছাই
Published : 18 Nov 2025, 11:40 PM
শেষের বাঁশি বাজতেই ডাগআউট থেকে কোচ, খেলোয়াড়, টিম স্টাফ সবাই ছুটলেন মাঠে। কেউ জয়ের নায়ক শেখ মোরসালিনকে, কেউ হামজা চৌধুরীকে আলিঙ্গনে বাঁধলেন। নির্ধারিত ও যোগ করা সময় মিলিয়ে ৮৪ মিনিট গোল আগলে রাখার ক্লান্তি ঝেড়ে জয়ের আনন্দে মাতলেন মিতুল-তপুরা। গ্যালারি মুখরিত করে রাখলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠে সবকিছু উপভোগের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেও যেন একই ছবি দেখলেন হামজা।
গণমাধ্যমকর্মীরা যে করতালিতে সম্মেলন কক্ষে বরণ করে নিলেন হামজাকে। তৃপ্তির হাসি চোখে-মুখে ফুটিয়ে ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বললেন, 'এটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের মধ্যে থাকবে।'
জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের ফিরতি লেগে ভারতকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন শেখ মোরসালিন।
সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য মোরসালিন নয়, এলেন হামজা। প্রাণখোলা হাসিতে কঠোর পরিশ্রমের আর অনেক প্রচেষ্টার ফল পাওয়ার অনুভূতি জানালেন তিনি।
“আমি ম্যাচের পরই বলেছি, আমি তো আসলে ক্যাম্পে একেবারে শেষে যোগ দিয়েছি। কোচ, কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়রা প্রায় ২৩ দিন ধরে এখানে আছে-কোচ বলেছেন পাঁচশ ঘণ্টারও বেশি। পরিবার থেকে দূরে, হোটেলে থেকে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছে সবাই। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তার ফল মিলেছে।”
“(দলের সাথে) আমি আর শোমিত একটু দেরিতে যোগ দিয়েছি, এসে শুধু কিছুটা মান, কিছুটা মানসিকতা যোগ করার চেষ্টা করেছি। আজ আমরা সেই মানসিকতাই দেখিয়েছি। শেষ চার ম্যাচে আমরা দারুণ খেলেছি, ট্যাকটিক্যালি খুব ভালো ছিলাম, কিন্তু শেষ ধাপে বারবার হোঁচট খাচ্ছিলাম। আজ উল্টোটা হলো-হয়তো বল পায়ে ততটা ভালো ছিলাম না, কিন্তু দেখিয়েছি আমরা কতটা স্থিতিশীল হতে পারি। এবার সময় এসেছে দুই দিকই একত্র করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, ইনশাআল্লাহ।”
২০০৩ সালের পর এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার উপলক্ষ পেল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ২২ বছর আগের অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে পারার আনন্দও অনুভব করছেন হামজা। তবে বাছাই পেরুতে না পারার আক্ষেপও আছে তার।
“আমরা আজ ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি। পৃথিবীর আর কোথাও এটা সম্ভব নয়। তাই এটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের মধ্যে থাকবে।”
“হ্যাঁ, কষ্ট লাগে অবশ্যই (বাছাই পেরুতে না পারা)। কিন্তু এটিও এক ধরনের ফাইনাল ছিল। ২২ বছর মানুষ অপেক্ষা করে আছে বড় ম্যাচ জেতার জন্য। আজ সেটাই হয়েছে। আমরা সবাই জানতাম-পারফরম্যান্স তো হচ্ছেই, এবার দরকার ফল। আজ হয়তো পারফরম্যান্সটা পুরোদমে হয়নি, কিন্তু ফল এসেছে। এখন মার্চে আবার নতুন করে তৈরি হবো এবং দুইটিকে একসাথে মিলিয়ে আরও শক্ত দল হয়ে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।”
আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাইয়ে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে জিতে একটি স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি নিয়ে হামজা এখন তাকাচ্ছেন সামনের দিকে।
“অবশ্যই, এটি স্বপ্ন পূরণ। তবে আপনার একাধিক স্বপ্ন থাকতে পারে। এটি তার একটি। ইনশাআল্লাহ, খুব তাড়াতাড়ি আমরা বড় কোনো টুর্নামেন্টেও কোয়ালিফাই করব। আমরা এখন প্রমাণ করেছি আমরা সক্ষম। শুধু সময় আর ধৈর্য দরকার।”
বাংলাদেশ কোচের চোখে, 'পুরো দল ম্যাচসেরা'