অ্যানফিল্ড জয়ের মিশন উপভোগ করছে আর্সেনাল
লিভারপুলের চাপ সামলে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে সাফল্য পাওয়ায় আরও বেশি ভালো লাগছে মিকেল আর্তেতার।
বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছিল, লিভারপুলের মাঠে জয়ের স্বাদ কিছুতেই পাচ্ছিল না আর্সেনাল। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের সেই খরা এবার কাটাতে পারায় আনন্দে ভাসছে তারা। দলটির কোচ মিকেল আর্তেতার কণ্ঠেও ধরা দিল সেই উচ্ছ্বাস।
দুই দশকের বেশি সময় পর, এবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রোববার লিভারপুলের মাঠে নামে আর্সেনাল। আগের অনেকবারের মতো লক্ষ্য ছিল একটাই, অ্যানফিল্ড দূর্গ জয় করা।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন কাই হাভার্টজ। পিছিয়ে পড়ার পর চাপ তৈরি করে লিভারপুল, গোলের জন্য ১৭টি শট নেয় তারা; কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে এই প্রথম একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ দৃঢ়তায় খেলা নিয়ন্ত্রণে রেখে ১-০ গোলে জয় তুলে নেয় আর্সেনাল।
এই মাঠে প্রিমিয়ার লিগে আগের ১৩ ম্যাচের আটটিতেই হারে আর্সেনাল, এবং আগের ২৭ ম্যাচের কেবল একটিতে জাল অক্ষত রাখতে পারে তারা।
এসব পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, লিভারপুলের আঙিনা কতটা কঠিন হয়ে উঠেছিল আর্সেনালের জন্য। সেখানেই এবার জয়ের গল্প লিখতে পেরে তাই আনন্দে আত্মহারা দলটির সবাই, ম্যাচের বলেন আর্তেতা।
“তারা (খেলোয়াড়রা) এই অভিযান খুব উপভোগ করছে। আর অভিযানটাও তো ছিল খুব তাৎপর্যপূর্ণ, যা আমরা ১৪ বছরে সফল করতে পারিনি। এর পিছনে কিছু কারণও ছিল, কিছু ছিল মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা। আবার কিছু ছিল মানের ঘাটতি, যা আজ আমরা এখানে দেখাতে পেরেছি, বিশেষ কিছু মুহূর্তে ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে।
“আমরা জানতাম, সফল হতে হলে সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে। এবং ম্যাচে (বেশিরভাগ সময়) আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আবার কিছু সময় আমাদের ভুগতেও হবে, কারণ তারাও কাজটা (ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের) দারুণভাবে করার ও সোজাসুজি আক্রমণে ওঠার সামর্থ্য রাখেঠ।”
প্রতিপক্ষের দেওয়া চাপ সামলে, নিজেদের কৌশল কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে খুব খুশি আর্তেতা।
“আমার মতে, যেভাবে আমরা লড়াই করেছি, খেলেছি এবং যেসব সুযোগ তৈরি করেছি, এই সবকিছুই দারুণ ব্যাপার ছিল। তাই আমি সত্যিই খুব খুশি।”
দারুণ এই জয়ের মাধ্যমে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানও মজবুত করেছে আর্সেনাল। ৯ ম্যাচে আট জয়ে ২৪ পয়েন্ট তাদের। ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি।
১৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে লিভারপুল।
