Published : 13 May 2026, 09:09 PM
আদালতে বিচারাধীন ‘নেগ্রেইরা মামলা’ প্রসঙ্গে রেয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসের মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি বার্সেলোনা। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে কাতালান ক্লাবটি।
স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে বার্সেলোনার অর্থ প্রদানের প্রসঙ্গে পেরেস মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান, নেগ্রেইরা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০০ পৃষ্ঠার একটি নথি উয়েফার কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন তারা। তিনি আবারও বলেন, নেগ্রেইরার ঘটনা ‘ফুটবলের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি।’
“এটা এমন এক মামলা, যা অমীমাংসিত এবং এখনও চলমান। কারণ এতে শুধু মাদ্রিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বার্সাও লাভবান হয়েছে, যদিও বার্সা বরাবরই লাভবান হয়ে আসছে।”
“তিন বছর আগে আমরা নেগ্রেইরা মামলা সম্পর্কে জানতে পারি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। তারা দুই দশক ধরে অর্থ দিয়েছে, কিন্তু এখন এই তৃতীয় দশকেও সেই একই রেফারি। আমরা উয়েফার কাছে একটি বিশদ নথি পেশ করব, যাতে তারা এই সমস্যাটির মূল থেকে সমাধান করতে পারে এবং বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থে মামলাটির নিষ্পত্তি করতে পারে।”
ওই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে পেরেস বলেন, এই লড়াইয়ে ক্লাবের সদস্যরা তার পাশে আছেন।
“আমরা ৫০০ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রস্তুত করছি, যা প্রতিযোগিতা শেষ হলে আমি উয়েফার কাছে পাঠাব। ইতোমধ্যেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনার কোনো নজির নেই। এটা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির মামলা।”
“নেগ্রেইরা মামলায় আমার এই লড়াইয়ে রেয়াল মাদ্রিদের সদস্যরা আমার সঙ্গে আছে। সবসময় যে শুধু রেয়াল মাদ্রিদকেই ভুগতে হয় তা নয়; অন্য দলগুলোকেও ভুগতে হয়। বার্সা সবসময়ই লাভবান হয়। দেখা যাক, উয়েফা এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কি না। আমি এজন্য এখানে আসিনি যে রেফারিরা বার্সেলোনার টাকায় ধনী হতে পারে।”
গত রোববার ক্লাসিকোয় রেয়ালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা জেতা বার্সেলোনা পেরেসের অভিযোগগুলো চুপচাপ মেনে নেয়নি। শুরু থেকে যেকোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসা ক্লাবটি এক বিবৃতিতে বলেছে, পেরেসের বক্তব্য ও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছে তারা।
“রেয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসের ডাকা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে আমরা জানাচ্ছি যে, আমাদের আইনি বিভাগ তার বক্তব্য ও অভিযোগগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। (তার মন্তব্য) বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং (আমাদের) পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আমাদের অবস্থান ও গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য যথাসময়ে প্রদান করব আমরা।”
১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন নেগ্রেইরা। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তার কোম্পানি ‘ডিএএসএনআইএল নাইন্টি ফাইভ’-কে বার্সেলোনা অর্থ প্রদান করে, যা সামনে আসার পর স্প্যানিশ ফুটবলে বইতে শুরু করে ঝড়।
বার্সেলোনার বিরুদ্ধে রেফারিদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শুধু তাই নয়, নেগ্রেইরার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। যদিও আত্মপক্ষ সমর্থন করে নেগ্রেইরা বরাবরই বলেছেন, দায়িত্বে থাকাকালীন বার্সেলোনাকে কোনো সুবিধা তিনি দেননি। পরামর্শমূলক কাজের জন্য তাকে এই অর্থ প্রদান করেছিল ক্লাবটি।
বার্সেলোনার পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হয়েছিল নেগ্রেইরাকে অর্থ দেওয়ার কথা। তবে তারা বলেছিল, এ ধরনের পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি পেশাদার ক্লাবগুলোর জন্য ‘স্বাভাবিক’ ব্যাপার।
এই মুহূর্তে ভীষণ কঠিন সময় কাটছে রেয়াল মাদ্রিদের। ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা টানা দুই মৌসুম শেষ করছে কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই। এছাড়া ড্রেসিং রুমে অসন্তোসের খবর, ফেদে ভালভের্দে ও অহেলিয়া চুয়ামেনির মারামারির ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের সফলতম ক্লাবটিকে।
এর মধ্যেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন পেরেস। তার দলের ভুল মেনে নেওয়ার বদলে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি স্প্যানিশ গণমাধ্যমের একটি অংশ ও রেফারিদের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
“আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি জানি না কত মৌসুম ধরে এখানে আছি, অথচ আমি মাত্র সাতটি ইউরোপিয়ান কাপ ও সাতটি লিগ শিরোপা জিতেছি, যা ১৪টি হতে পারত, কারণ সেগুলো আমার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। এই মৌসুমে তারা আমাদের কাছ থেকে যে ১৮ পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছে, তা নিয়ে আমরা একটি ভিডিও তৈরি করেছি। এই বিষয়ে আমি চুপ থাকতে পারি না।”
“আমাকে মুখ খুলতেই হবে, এই বছর আমরা কোনো লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিনি, মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুধু এই কারণে গণমাধ্যমের লোকদের যা ইচ্ছা করতে দিতে পারি না আমি। তারা ভুলে গেছে যে, দুই বছর আগে আমি একটি লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলাম। এখন তারা বলছে মাদ্রিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, বিশৃঙ্খলা চলছে... কিন্তু এটা বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব এবং সবাই তা স্বীকার করে। কিছু মহলে গেড়ে বসা এই মাদ্রিদ-বিরোধী মনোভাবের অবসান ঘটাতে চাই। আমরা নির্বাচন দিতে যাচ্ছি।”
'৭ শিরোপা চুরি? পুরোপুরি মিথ্যা', পেরেসকে পাল্টা জবাব বার্সেলোনার