Published : 31 May 2026, 01:44 PM
গাব্রিয়েল মাগালাইসের শটে বল যখন উড়ে গেল ক্রসবারের ওপর দিয়ে, আর্সেনালের স্বপ্নও যেন মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। এক মুহূর্ত আগে যা ছিল জীবন, চোখের পলকে তা শেষ হয়ে গেল। মাঠেই কোচ ও ফুটবলারদের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল সেই হতাশা। তবে সময়ের সঙ্গে ধাতস্থ হয়ে তারা শোনালেন গর্বের কথাও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নরা দারুণ প্রত্যয়ী আগামী মৌসুমে আরও ভালো কিছু করতে।
প্রিমিয়ার লিগে ২২ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর পর আর্সেনালের সামনে হাতছানি ছিল দুর্দান্ত এক ডাবলের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
টাইব্রেকারের পরই বিধ্বস্ত মনে হচ্ছিল মিকেল আর্তেতাকে। হতাশার ব্যাপারটি লুকালেন না আর্সেনাল কোচ। তবে দল নিয়ে গর্বের কথাও তিনি বললেন।
“মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। ফাইনাল পর্যন্ত এতটা ধারাবাহিক থাকার পর শেষে পেনাল্টি শুটআউটে ট্রফি না পাওয়া খুবই কষ্টদায়ক ব্যাপার।”
“আমরা একটা বড় ট্রফি (প্রিমিয়ার লিগ) পেয়েছি এবং সবচেয়ে বড়টা হাতছাড়া করেছি। তবে আমি দল নিয়ে খুব গর্বিত। এই মৌসুমে আমরা যা করেছি… ছেলেরা আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছে। এই ছেলেদের কোচিং করানোটা একটা বিশেষ সৌভাগ্য।”
মৌসুম শেষে আপাতত কদিন ফুটবল থেকে দূরে থাকতে চান আর্তেতা। তবে সামনের মৌসুমে আর্সেনালের নীতি নির্ধারকদের প্রতি বার্তাও দিয়ে রাখলেন কোচ।
“প্রথমত, পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিন সময় কাটাব। তারপর আমরা যা করেছি, তা পর্যালোচনা করার প্রক্রিয়া শুরু করব। যদি পরবর্তী স্তরে পৌঁছাতে হয়, তবে আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষা দেখাতে হবে, কারণ আমরা তা করতে সক্ষম। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, দ্রুত এবং বিচক্ষণ হওয়া।”
হতাশা আর গৌরব একসঙ্গে মিশে থাকল ডেক্লান রাইসের প্রতিক্রিয়াতেও। টাইব্রেকারকে তিনি বলছেন লটারি, তৃপ্তির অনেক উপকরণ পাচ্ছেন গোটা মৌসুমের প্রাপ্তি থেকে।
“খুবই হতাশাজনক। পেনাল্টিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল হারাটা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু দল হিসেবে আমরা কতদূর এসেছি, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করি। অসাধারণ এক মৌসুম কাটিয়েছি আমরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই ম্যাচটি ছিল আমাদের ৬১তম ম্যাচ।”

“এটা অনেকটা লটারির মতো। এটাই ফুটবল। সর্বকালের সেরা কিছু দলও ফাইনালে পেনাল্টিতে হেরেছে... আমরা একসাথে জিতি, একসাথে হারি। আমি এই দল এবং এই ছেলেদের নিয়ে খুব গর্বিত। এই মৌসুমে যাত্রাটা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা আবার ফিরে আসব।”
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৪ মিনিট পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেছিল আর্সেনাল। পরে পিএসজি সমতা ফেরালেও রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে শেষ পর্যন্ত আর গোল হজম করেনি তারা। কিন্তু হারতে হলো টাইব্রেকারে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগোরের কণ্ঠে সেই হাহাকার।
“আমরা খেলাটা খুব ভালোভাবে শুরু করেছিলাম। আমরা প্রথম গোলটা পেয়েছিলাম, এবং এরপর আমার মনে হয়েছে আমরা খুব ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছি। পিএসজি স্পষ্টতই অনেকক্ষণ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, কিন্তু কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।”
“এই ধরনের খেলায় সামান্য ব্যবধানই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, আর খেলা যখন পেনাল্টিতে গড়ায়, তখন তো কথাই নেই। এটাই ফুটবলের বাস্তবতা এবং আমাদের তা মেনে নিতে হবে।”
প্রিমিয়ার লিগে ২২ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর মৌসুম শেষে সামনের মৌসুমে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিতে চান ওডেগোর।
“অবশ্যই এই মুহূর্তে আমরা হতাশ। তবে এই মৌসুমে আমরা অসাধারণ কিছু করেছি। এই পরাজয় আমরা কাটিয়ে উঠব এবং আগামী বছর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।”