বাফুফে
Published : 10 Nov 2025, 05:33 PM
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আসিফ আকবরের কিছু মন্তব্যে নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বইছে সমালোচনার ঝড়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আসিফের মন্তব্যের সমালোচনা করে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সের উদ্বোধনী দিনে বক্তৃতায় রোববার আসিফ অভিযোগ করেন, গোটা দেশে ‘ফুটবলারদের কারণে’ ক্রিকেট খেলা যাচ্ছে না এবং জেলা স্টেডিয়ামগুলো ফুটবল ‘দখল করে আছে’ এবং প্রয়োজন পড়লে ফুটবল বা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে ‘মারপিট করে’ হলেও নিজেদের অধিকার আদায় করতে প্রস্তুত তিনি।
এই মন্তব্যের জন্য সামাজিক মাধ্যমে আসিফের তুমুল সমালোচনা চলছে। ক্রীড়াপ্রেমীরা তাকে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন। এবার বাফুফে সভাপতি চিঠি দিয়েছেন বিসিবি সভাপতিকে।
“আপনার মতো অভিজ্ঞ ও শ্রদ্ধাভাজন একজন ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যা আমাদের জন্য এক গর্বের বিষয়। আমি গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্য সম্পর্কে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে ফুটবল খেলাকে নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর, অপমানজনক ও উদ্বেগজনক মন্তব্য করা হয়, যা শুধু ফুটবল নয়, পুরো ক্রীড়া সমাজের জন্যই হতাশাজনক। আমরা এই মন্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এই পত্রকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
চিঠিতে পরবর্তী ছত্রে বলা হয়েছে, “ক্রিকেট কনফারেন্স থেকে এমন মনোভাব প্রকাশ পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। আমরা সবাই খেলাধুলাকে একটি ঐক্যের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা আমাদের জাতিকে একত্রিত করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে গর্ব ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। আমরা উভয়েই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশন একসাথে কাজ করবে একটি সুস্থ, দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।”
“কিন্তু যখন ক্রিকেট বোর্ডের কনফারেন্সে “অভিজাত” শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি সত্যিই জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা বিপ্লবে ঘোষিত বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশের আদর্শে অটল আছি? আর যখন ‘মারামারি’ শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন আরও গুরুতর প্রশ্ন জাগে, এটি কি কোনো ধরনের হুমকি?”
আসিফের মন্তব্য ‘দৃষ্টিকটু ও অশোভন’ এবং ‘ফুটবল ও ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রতি চরম অসম্মানজনক, যা ক্রীড়ার মৌলিক মূল্যবোধ ও চেতনার পরিপন্থী’ উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। মুক্তিযুদ্ধে ফুটবল দলের অবদানও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। দেশের ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে বিসিবি সভাপতির কাছে ‘আনুষ্ঠানিক ও সর্বসম্মুখে ব্যাখ্যা’ প্রত্যাশা করার কথাও উল্লেখ করেছেন তাবিথ।