Published : 17 Aug 2025, 12:23 PM
ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলা শুরু সেই ১৯৯৫ সালে। পেশাদার ফুটবলে বিচরণ ১৯৯৭ সাল থেকে। সেই ফাবিও খেলে যাচ্ছেন এখনও। আগামী মাসেই তার বয়স পূর্ণ হবে ৪৫। কিন্তু থামাথামির নাম নেই। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই পথচলায় ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার এবার স্পর্শ করলেন অসাধারণ এক মাইলফলক।
ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে শনিবার ফ্লুমিনেসির হয়ে মাঠে নেমেই ইতিহাসে খোদাই হয়ে যায় ফাবিওর নাম। এটি তার ক্যারিয়ারে ১ হাজার ৩৯০তম ম্যাচ।
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে তিনি নাম লেখালেন পিটার শিল্টনের পাশে। তিনিও ছিলেন গোলকিপার। সর্বকালের সেরা গোলকিপারদের একজন বলে বিবেচিত এই ইংলিশ তারকা ১৯৬৬ থেকে খেলেছেন ১৯৯৭ পর্যন্ত।
ফোর্তালেজাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাবিওর রেকর্ডের ম্যাচ রাঙিয়ে রাখে ফ্লুমিনেসি।
আগামী মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচে ফ্লুমিনেসির হয়ে মাঠে নেমেই শিল্টনকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় উঠতে পারেন ফাবিও।
ফ্লুমিনেসি ক্লাবের গবেষণায় তার ম্যাচ সংখ্যা হিসেব করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্ত।
রেকর্ড ছোঁয়ার ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত ফাবিও কৃতজ্ঞতা জানালেন স্রষ্টা ও কাছের মানুষদের প্রতি।

“ঈশ্বর আমাকে এই উপহার দিয়েছেন। আমাদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে আমার- বাবা, মা, বোনেরা, বন্ধুরা, আমার স্ত্রী… আমি চেষ্টা করি ভালো মানুষ হতে। সতীর্থদের সহায়তা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি কৃতজ্ঞ, ঈশ্বরের সহায়তা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।”
“এই ম্যাচগুলি খুবই কঠিন ও আমরা শক্তিশালী দলগুলির বিপক্ষে লড়ছি। লক্ষ্য অর্জনের তাড়না নিয়ে আমরা সবসময় এগিয়ে যাই, যেটি হলো শিরোপা জয়।”
১৯৯৭ সালে উনিয়াও বান্দেরাঞ্চের হয়ে পেশাদার ফুটবলে ফাবিওর বিচরণ শুরু। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি ক্রুজেইরোর হয়ে। ২০০৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ৯৭৬টি ম্যাচ। ২০২২ সাল থেকে ফ্লুমিনেসির হয়ে খেলেছেন এখনও পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচ।
ব্রাজিলের বাইরের ক্লাবে কখনও খেলেননি তিনি। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেললেও দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার কখনোই। বয়সভিত্তিক দলে রোনালদিনিয়ো, জিওভানিরা ছিলেন তার সতীর্থ।
২০২৩ সালে স্বয়ং শিল্টন বলেছিলেন, তার রেকর্ডের কাছাকাছিই আছেন ফাবিও এবং রেকর্ডটি করতে পারলে তাকে সবার আগে অভিনন্দন জানাবেন তিনিই।
শিল্টনের রেকর্ড নিয়ে সংশয় না থাকলেও ম্যাচের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ও বিভ্রান্তি আছে। শিল্টন নিজে সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, তার ম্যাচ সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৭টি। তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ও পরিসংখ্যানভিত্তিক আরও বেশ কিছু সংস্থার হিসেবে সংখ্যাটি ১ হাজার ৩৯০।
গিনেস রেকর্ডে শিল্টনের ১৬টি আনঅফিসয়াল ম্যাচও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে আবার সেই ম্যাচগুলোকে হিসেবে নেননি। তবে তিনি আবার গোণায় ধরেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ১৩টি ম্যাচ, যা সাধারণত আনুষ্ঠানিক বিবেচনায় থাকে না। গিনেস রেকর্ডেরটিই তাই সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত।
শিল্টনের ম্যাচ সংখ্যা যেটাই হোক, ফাবিওকে নিয়ে সংশয় নেই। এখনও তিনি ফ্লুমিনেসির প্রথম পছন্দের গোলকিপার, নিয়মিতই মাঠে নামছেন ম্যাচের পর ম্যাচে। নিশ্চিতভাবেই তাই রেকর্ডটি এগিয়ে নেবেন আরও অনেক দূর।