উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 05 Jun 2026, 08:21 PM
পাঁচ দিনের ব্যবধানে ফের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। এবার দ্বৈরথ উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। পাঁচ দিন আগের স্মৃতি অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ভীষণ তেতো। ৩-০ গোলে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল পিটার জেমস বাটলারের দল। তবে, ওই হারের প্রভাব ফাইনালে পড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। রেকর্ড শিরোপাধারী ভারত মাঠে নামবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের আকাঙ্খা নিয়ে। বাংলাদেশ উন্মুখ হ্যাটট্রিক ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিতে শুক্রবার সকালে ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। চারদিকে নানা মানুষের আনাগোনা, কারো কারো ক্যামেরা হাতে মাঠে ঢুকে পড়া, নিরাপত্তার বালাই না থাকা- এসব নিয়ে ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে শুরুতে ক্ষোভ উগরে দিলেন বাটলার।
“আসলে, অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কিছুই নয়; সকালে আমরা কেবল একটা হালকা সেশন করেছি। গতকাল একটা ভিডিও অ্যানালাইসিস করেছি এবং আগামীকাল সকালে আরেকটি করার পরিকল্পনা আছে। তবে, আমরা মূলত এখানকার পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর সবচেয়ে বড় কথা, আজ সকালে আমাদের একটা পাবলিক স্টেডিয়ামে, উন্মুক্ত মাঠে অনুশীলন করতে হয়েছে, যা মোটেও আদর্শ ছিল না।“
“দেখুন, আসলে কাউকে ওভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; ওই লোকটা ক্যামেরা নিয়ে মাঠে চলে এসেছিল এবং আমি খেয়াল করেছি, সে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ম্যাচের ভিডিও করছিল, যা আমার কাছে একটু সস্তা মানসিকতার মনে হয়েছে। উন্মুক্ত বা পাবলিক স্টেডিয়াম হলে মানুষকে ভেতরে আসা থেকে আটকানো কঠিন। সম্ভবত সাফের উচিত নয়, ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য পাবলিক স্টেডিয়াম বুক করা। এটি তাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে। ওই লোকটাকে সরাসরি মাঠে হেঁটে আসতে দেওয়াটা ভুল ছিল। যেকোনো কিছু ঘটতে পারত। আমরা জানি না, সে কে ছিল। তবে, আমার মনে হয়েছে, এটি ভুল এবং বিপজ্জনক ছিল।”
প্রস্তুতি কিছুটা বিঘ্ন হলেও, প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে নিয়েছেন বাটলার। চলতি আসরে প্রতিপক্ষের জালে ১৫ গোল দিয়ে নিজেদের পোস্ট অক্ষত রাখা ভারতের শক্তিশালী আক্রমণভাগ, নিজেদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা, বিগত ম্যাচগুলোতে রক্ষণের মাঝেমধ্যে এলোমেলো হয়ে পড়া- সবকিছু নিয়ে কাজ সেরে নিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে মুষড়ে পড়া দল সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জিতে ফিরে পেতে শুরু করেছে আত্মবিশ্বাস। সাদামাটা ফুটবলের বৃত্ত ভেঙে নেপাল ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে আগ্রাসী ফুটবলের পসরা মেলেছিলেন রিপা-সাগরিকারা। প্রশংসা পেয়েছিলেন প্রতিপক্ষ কোচেরও। তা থেকেও অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন মারিয়া-আফঈদারা। সব মিলিয়ে ফাইনাল ভিন্ন এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে বাটলারের।
“দেখুন, মাঠের ভেতরে-বাইরে আমাদের সমস্যা ছিল, চোট ছিল-তারপরও আমরা এমন ফলাফল বের করে এনেছি, যেখানে সবাই আমাদের নিয়ে আশাবাদী। অথচ অনেকেই চান, আমরা হেরে যাই। আমি বরং গ্লাসটি অর্ধেক খালি না দেখে, অর্ধেক পূর্ণ দেখার মতো ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলি এবং পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী থাকি। আমরা ফাইনালে উঠেছি; আমরা সেখানে দারুণ ফুটবল খেলে এসেছি নাকি জঘন্য ফুটবল খেলে এসেছি, তা কোনো ব্যাপার নয়। আমরা ফাইনালে আছি।”
“মেয়েরা অসাধারণ মানসিকতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিমত্তা দেখিয়েছে এবং এটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর আগামীকাল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিস্থিতি। ভারতের কাছে আমরা যে আগের ম্যাচটি হেরেছিলাম, সেটার সাথে এই ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে পথচলায় সেরা দলগুলো যে সবসময় তাদের সেরা ফুটবলটা খেলে, তা কিন্তু নয়। এখানে মূল বিষয় হলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সবচেয়ে বড় কথা, কাঙ্ক্ষিত ফলাফলটা তুলে নেওয়া।”