Published : 08 Feb 2026, 01:37 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও আলোচনায় আছে।
গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলামের এনসিপির সঙ্গে শফিকুর রহমানের জামায়াত জোট বেঁধে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পটভূমিতে চমক দেখাতে পারবে? নাকি তিন দশক পর বিএনপির একাধিপত্য ফিরবে।

বছর দেড়েক আগে আওয়ামী লীগ সররকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল যেসব দল, তাদের শীর্ষ নেতারা ঢাকায় কেমন ফল করবেন?
জামায়াত-এনসিপির ‘চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বিরোধী কার্ড’ বিএনপিকে রুখতে পারবে? ভোটের ইতিহাস আর মাঠের বাস্তবতা কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, ঢাকার আসনগুলোতে বিএনপির জেতার সম্ভাবনাই বেশি। আবার কেউ কেউ বলেছেন, জামায়াত এবার কয়েকটি আসন পেয়ে যেতে পারে।
তাছাড়া রাজধানীর তিনটি আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় সেগুলোতে ধানের শীষের ভোটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনে ১৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষনেতারা রাজধানীর বিভিন্ন আসনে লড়ছেন।
ঢাকায় বিএনপি তার যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের দুটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত তাদের জোট শরিকদের সাত আসন ছেড়েছে।

নব্বইয়ের পর পঞ্চম থেকে অষ্টম সংসদ পর্যন্ত ঢাকায় আসন ছিল ১৩টি। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকার সব আসনে জিতেছিল বিএনপি। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাতটি ও বিএনপি ছয়টি আসনে জয় পায়।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আসন বেড়ে হয় ২০টি। সে বছর নবম সংসদ নির্বাচনে সব আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা।
অর্থাৎ জামায়াত স্বাধীনতার পর কখনো ঢাকায় কোনো আসনে জয় পায়নি। এবার আওয়ামী লীগ না থাকার সুযোগ কী কাজে লাগাতে পারবে দলটি?
এনসিপির ৬ প্রার্থীর আসনে বিএনপি অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
ঢাকার ৮, ৯, ১১, ১৮, ১৯ ও ২০ আসনে লড়ছেন এনসিপির প্রার্থীরা। দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকার তিনটি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এনসিপি।”
তার হিসাবে সে আসনগুলো হল, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-২০।
এনসিপির একজন প্রার্থীর নির্বাচনি টিমের প্রভাবশালী সদস্য, জামায়াতের একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর নিয়ে এই আসন। এই আসনে ভোটে লড়ছেন ১১ জন।
অবিভক্ত ঢাকার মেয়র ও দুই বার এমপি নির্বাচিত হওয়া মির্জা আব্বাস বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন।
এখানে জামায়াতের নির্বাচনি টিমের একাধিক সদস্য বলেছেন, এবারও মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ‘সুযোগ নেই’।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল বারেক বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, “মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখন প্রকৃত অর্থে এই আসনে কেউ নেই। তিনি এই আসনের জনগণের মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বারবার এই এলাকার নির্বাচিত এমপি তিনি।”
তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, তারা (জামায়াত) ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে চাইবে। জেনুইন ভোট যদি না হয়, তাহলে তো অন্য কথার সুযোগ নেই।”
গত সপ্তাহের শনিবার প্রচার সভায় মির্জা আব্বাস এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই ঘন্টায় রেজাল্ট না দিতে পারলে, সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা লাগতে পারে। ১২ ঘন্টা পার হলেই বুঝবো অসৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক শাহীন খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোরডটকমকে বলেছেন, তারাও ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কা করেন, তবে তা বিএনপির তরফে।
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ ১২ জন প্রার্থী।
এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ও জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা এলাকা নিয়ে এ আসনের ভোট বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
বিএনপির মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন, সবুজবাগ, খিলগাঁও এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার জনপ্রিয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে হাবিবুর রশিদের ভোটে প্রভাব পড়তে পারে। তবে মুগদা ও মান্ডা থানা এলাকায় হাবিবুর রশীদ একতরফাভাবে এগিয়ে থাকবেন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।
এই আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির জাবেদ মিয়ার অবস্থান খুব একটা ‘শক্ত নয়’ বলেছেন তার নিজের দলের কয়েকজন কর্মী।
হাবিবুর রশীদ হাবিব নির্বাচনি টিমে সক্রিয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন যুগ্ম সম্পাদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের অনুসারী রয়েছে। এই ভোটগুলো প্রার্থীদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবে।”
এ আসনে সবশেষ এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী।

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতা হিসেবে নাহিদ ইসলামের জনপ্রিয়তা থাকলেও ভোটের বাজারে তিনি কাইয়ুমের পেছনে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
যদিও কাইয়ুম বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কা করছেন।
এ আসনে জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
বাড্ডা থানা, ভাটারা থানা, রামপুরা থানা, হাতিরঝিল থানার একাংশ নিয়ে এ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ অন্যতম, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে মনে করছেন।
ঢাকা-১৮ আসনটি উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ থানা নিয়ে গঠিত। এখানে জামায়াত জোটের এনসিপির আরিফুল ইসলাম ও নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরকে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা।
ঢাকা-১৯ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত।
এই আসনে বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের মুল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল। এ আসনে জোটের শরিক এলডিপিও প্রার্থী দিয়েছে। ফলে জোটের ভোট ভাগ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
আসনটিতে সাবেক এমপি হিসেবে সালাউদ্দিনের বিজয় আশা করছে বিএনপি। দিলশানা পারুল এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হলেও তার ব্যাপারে আশাবাদী নন দলের নিবাচনি কার্যক্রমে যুক্ত একাধিক নেতা।
হাসান সারওয়ার্দী সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের সময় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার কারণে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে তার কিছু ভোট রয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয় বলে এলডিপির কেন্দ্রীয় একজন নেতা মনে করেন।

ঢাকা-২০ আসনে জামায়াতজোটের প্রার্থী এনসিপির নাবিলা তাসনিদ। বিএনপির প্রার্থী ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. তমিজ উদ্দিন।
এ আসনে তমিজ উদ্দিনের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচনি রাজনৈতিক লিয়াঁজো উপ-কমিটির প্রধান আকরাম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ঢাকাসহ সারাদেশেই ভালো করবো। আমরা জনগণের ভালো সাড়া পাচ্ছি।”
তার অভিযোগ, প্রশাসন বিএনপিকে অনেক জায়গায় ‘সুযোগ’ করে দিচ্ছে।
এনসিপির এই কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, “সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসায় বিএনপির অবাধে প্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচনে কালো টাকা উড়ছে। নগদ টাকা ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব।”
৪ আসনে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই দেখছে জামায়াত
জামায়াত ঢাকার যে ১৩টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে চারটিতে তারা বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকার ৭, ১০, ১২ ও ১৫-এই চারটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাঠ ভালো থাকায় বিএনপির প্রার্থীরা চাপের মুখে পড়েছেন বলে জামায়াত জোট দাবি করছে।
এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার নির্বাচনি টিমের একাধিক সদস্যের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের ‘শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ গড়ে তোলার বাস্তবতা রয়েছে।
তবে বিএনপির নেতাকর্মী ও অনুসারীরা বলছেন, এসব আসনে ‘চাপ’ থাকলেও বিজয়ের ব্যপারে তারা আশাবাদী।
ঢাকায় জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম বিত্তশালী ঢাকা-৭ আসনে মো. এনায়াত উল্লা আলোচনায় আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হামিদুর রহমান।
স্থানীয়রা বলছেন, পুরান ঢাকার মশলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এনায়াত উল্লা কাজ করছেন। ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি রাজনীতিক হিসেবে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তার কারণে ধানের শীষের সঙ্গে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই হতে পারে।
এছাড়া এখানে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ফুটবল প্রতীকে লড়ছেন। যে কারণে দলের প্রার্থী হামিদ চাপে আছেন।
এই আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে পরিচিত মুখ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন।

ঢাকা-৭ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর আংশিক, কোতোয়ালির আংশিক থানা অঞ্চল নিয়ে এ আসনে ‘বিদ্রোহীকে’ মূল লড়াইয়ে দেখছেন না বিএনপির স্থানীয় কর্মীরা।
তারা বলছেন, পুরান ঢাকার ১০-১৫ হাজার ভোট থাকলেও তাতে মূল লড়াইয়ে ইসহাক সরকার আসতে পারবেন না।
ঢাকা-১০ আসন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত।
এখানে বিএনপির রবিউল আলম রবির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জসিমউদ্দিন সরকার। এই আসনে জামায়াতের নির্ধারিত ভোট থাকার পাশাপাশি পাশাপাশি নতুন করে নারীদের মধ্যেও কাজ আছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, জামায়াতের নারী ভোটার নিয়ে তাদের খুব একটা ধারণা নেই।
তবে একজন বিএনপির নেতার দাবি, জামায়াতের কিছু ভোট থাকলেও রবির জিতে আসার ‘সুযোগ’ বেশি। স্থানীয়ভাবে তার ‘গ্রহণযোগ্যতা’ রয়েছে।
ঢাকা-১২ আসনে তিন সাইফুলের মধ্যে লড়াই হবে।
তারা হলেন বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন।
সরেজমিন ঘুরে ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় দলের সাইফুল আলম নীরব ও শেরে বাংলা নগর এলাকায় সাইফুল হক এগিয়ে থাকবেন। আর মগবাজার ও ইস্কাটন এলাকায় তিন সাইফুলই ভোট পাবেন।
তবে এই লড়াইয়ে জামায়াতের প্রার্থী মিলন এগিয়ে যেতে পারেন বলে নীরবের ঘনিষ্ঠ একজন যুবনেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোরডটমকে বলেছেন।
তার দাবি, এলাকার ছেলে হিসেবে নীরবকে বেছে নেবে ভোটাররা।
এছাড়া নীরবের পক্ষে বিএনপির ভোটও আসতে পারে। সাইফুল হকও বিএনপির ভোট পাবেন। ফলে জামায়াতের প্রার্থী ভোট কাটাকাটির এই সুবিধা পেয়ে যেতে পারেন।
জানতে চাইলে বিএনপিসমর্থিত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, “জামায়াতের প্রার্থীর প্রকাশ্যে ব্যানার, ফেস্টুন প্রচারণা থাকলেও প্রকাশ্য কাজ তেমন একটা নেই। নীরবে গণসংযোগ করছে তারা।”

সাইফুল আলম নীরবের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই আসনে নীরবের প্রভাব পড়বে না। তাদের প্রচার বিভ্রান্তিও তৈরি করছে। তারা তারেক রহমানের নামে, খালেদা জিয়ার নামে ভোট চাইছে। কিন্তু বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ আমাকে গ্রহণ করেছেন, তা আমি প্রচারে, সংযোগে দেখতে পাচ্ছি।”
নীরবের নির্বাচনি সমন্বয় টিমের সদস্য তেজগাঁও কলেজের সাবেক ভিপি আবু সুফিয়ান দুলাল বলেন, ‘সাইফুল আলম নীরব দীর্ঘদিন ছাত্রদল করছেন, দল করেছেন। দল নমিনেশনও দিয়েছিল। উনি তো জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি তারেক রহমানকে ওউন করেন।
“এজন্য আমরা দোয়া চাইতেই পারি। আমরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইতেই পারি।”
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী দলটির আমির শফিকুর রহমানকে নিয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মিরপুর-কাফরুল থানা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
তার দলের নেতাকর্মীদের দাবি, জামায়াত আমির ভোট পাবেন কিন্তু তাতে জিততে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বিএনপিতে কোন্দল কম থাকায় আমিরকে বেশ বেগ পেতে হবে।
স্থানীয় ভোটারদের কারো কারো মত, ২০০৮ সাল থেকে আসনটিতে টানা এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার। তাদের ভোট দুইদিকে যেতে পারে।
শনিবার মিরপুর-শেওড়াপাড়া এলাকায় কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা হয়।
এরমধ্যে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামায়াত আমিরের আসনে বিএনপির মিল্টন জিতবে। এমনকি সারাদেশে জামায়াতের যেভাবে প্রচার হচ্ছে, সেভাবে আসন জিতবে না।”

১০ আসনে বিএনপির স্বস্তি?
এনসিপি ও জামায়াতের চাপের আসনগুলোর বাইরে ঢাকার অপর ১০ আসনে বিএনপি কি স্বস্তিতে আছে?
দলটির নেতারা মনে করছেন, তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো শক্ত অবস্থানে নেই কোনো দল।
তারা যে আসনগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো হল খোন্দকার আবু আশফাকের ঢাকা-১, আমান উল্লাহ আমানের ঢাকা-২, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ঢাকা-৩, তানভীর আহমেদের ঢাকা-৪, মো. নবী উল্লার ঢাকা-৫, ইশরাক হোসেনের ঢাকা-৬, আমিনুল হকের ঢাকা-১৬ ও তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসন।
তবে ববি হাজ্জাজের ঢাকা-১৩ ও সানজিদা ইসলাম তুলির ঢাকা-১৪ আসন নিয়ে ‘অস্বস্তি’ রয়েছে বিএনপির।
ঢাকা-১ আসনে বিএনপির সঙ্গে মাঠে আছেন জামায়াতের মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলামসহ পাঁচজন।
বিএনপির আমান উল্লাহ আমানের সঙ্গে ঢাকা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মো. জহিরুল ইসলাম ও জামায়াতের মো. আব্দুল হক।
এ আসনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন (তারানগর, কলাতিয়া, হযরতপুর, রুহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দী, ও বাস্তা) এবং সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (আমিনবাজার ইউনিয়ন, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন)।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মশিউর রহমান দাবি করেন, আমান উল্লাহ আমানের সঙ্গে লড়াই করার মতো ‘শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই’।
ঢাকা-৩ আসনটি কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এই পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
এখানে বিএনপির গয়েশ্বর ছাড়াও ভোটের মাঠে আছেন জামায়াতের মো. শাহীনুর ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, ইসলামী আন্দোলনের মো. সুলতান আহাম্মদ খাঁনসহ আটজন।
জানতে চাইলে একজন প্রার্থী নিজেই স্বীকার করেন, এই আসনে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর, কদমতলী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির তানভীর আহমেদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী দলটি। তার বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ এই আসনের সাবেক এমপি, এ কারণে তাকে এগিয়ে রাখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
দলের স্থানীয় একাধিক কর্মী বলছেন, এখানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রায় ২৫ হাজার ‘রেডিমেইড’ ভোট রয়েছে। এটিও তানভীর আহমেদের দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড (যাত্রাবাড়ী, ডেমরা) নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক কমিশনার হিসেবে নবী উল্লা।
যাত্রাবাড়ী এলাকা মাদ্রাসাকেন্দ্রিক হওয়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কামাল হোসেন কিছু ভোট পাবেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে তাদের ধানের শীষের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন এই নেতাকর্মীরা।
পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন বাম রাজনীতি থেকে বিএনপিতে আসা সাদেক হোসেন খোকা, তার ছেলে ইশরাক হোসেন এ দল থেকে ঢাকা-৬ আসনে এবার প্রার্থী।
বাবা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, ছেলে আদালতের রায়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে জয়লাভ করলেও শপথ নিতে পারেননি। এবার আর তেমন কিছু ঘটবে না বলেই মনে করছেন ইশরাকের কর্মীরা।
সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালির আংশিক নিয়ে গঠিত এ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থীর সঙ্গে অন্যদের ‘অসম’ লড়াই দেখছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
বিএনপির দৃষ্টিতে তাদের আরেকটি স্বস্তির আসন ঢাকা-১৬। এখানে বিএনপির প্রার্থী জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক। ফুটবল অঙ্গনের প্রিয় মুখ আমিনুলকে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ মনে করছেন তার সমর্থকরা।
মিরপুরের পল্লবী ও রূপনগর এলাকার এ আসনে জামায়াতের আব্দুল বাতেনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লড়ছেন ঢাকা-১৭ আসনে, এখানে তাকেই এগিয়ে রাখছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
নির্বাচনি এলাকার একজন নেতা বলছেন, কড়াইল বস্তির ভোটের ওপর এই আসনের জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে। তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যরা তার হয়ে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।
গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামান, যিনি সম্পতি গানম্যানসহ সেনানিবাসে ঢুকতে চেয়ে বিতর্কিত হয়েছেন।

তবে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা ১৪ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশে এখনও পিছিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা।
ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজকে লড়াই করতে হবে জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সঙ্গে।
ঢাকা উত্তর সিটির ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ মোহাম্মদপুর, আদাবর ও রায়েরবাজার এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। মামুনুল হকের প্রতীক রিকশা।
পাশাপাশি ববি হাজ্জাজের সংযোগ ও প্রচার নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে অসন্তুষ্টি রয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন কেউ কেউ।
এছাড়া মামুনুল হকের প্রতি ‘সম্মান’ জানিয়ে এখানে প্রার্থী দেয়নি তাদের জোটে যোগ না দেওয়া ইসলামী আন্দোলন। ফলে জামায়াত জোটের ভোটের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের ভোট যোগ হলে তিনি বিএনপির প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
আওয়ামী লীগের আমলে ‘গুমের’ শিকার পরিবারগুলোকে নিয়ে ‘মায়ের ডাক’ নামের সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির প্রর্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। ঢাকা-১৪ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ও বিদ্রোহী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজুকে মোকাবিলা করতে হবে।
আরমান একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে র্যাবের টিএফআই সেলে কয়েক বছর গুম করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তার।
তুলি গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন।
আর বিএনপির সাবেক এমপি এস এ খালেকের ছেলে সাজু দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক।
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটির ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড বা মিরপুরের আংশিক নিয়ে এ আসনে সাজু জিতে যেতে পারেন, এমন সম্ভাবনা দেখছেন দলের কর্মীরা।
কেউ কেউ সরাসরি বলছেন, ভোটে সাজুর চেয়ে পিছিয়ে থাকবেন তুলি। এ কারণে দলের চাপ কম বলেও কারো কারো মত।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকেকে বলেছেন, যেখানে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছেন এখনও তারা সেখানে হাল ছাড়ছেন না। প্রার্থী তিনজনকে চূড়ান্ত সময়ের আগে আরও ‘নরম’ করে আনা সম্ভব।
নির্বাচনি টিমের আরেক সদস্য বলেন, “এখনও আমাদের চেষ্টা উদ্যোগ অবাহত আছে।”
যা বলছেন ভোটাররা
ঢাকা-৭, ১১, ১৫, ১২ ও ১০ আসনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে যে ইঙ্গিত মিলছে তাহল, এসব আসনে ধানের শীষের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা ‘কষ্টসাধ্য’।
ঢাকা ১২ আসনের মগবাজার আমবাগান এলাকার মুদি দোকানি শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি এই এলাকার ভোটার। স্থানীয়ভাবে নীরব ভোটার অনেক। তিন সাইফুলে ভোটের লড়াই হবে। তবে যত কথা শুনি, দেখি তাতে ঢাকার আসনে বিএনপি বেশি পাবে।”
মগবাজার এলাকায় ব্যবসা করেন সরকারি কাওখালী মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র নুরুল্লাহ আল হাদী। তিনি মনে করেন, ঢাকায় ১২টি বিএনপির দিকে যাবে, কমপক্ষে ছয়টি যাবে জামায়াতের দিকে।
“আপনি লিখে রাখেন, তাসনিম জারা এমপি হয়ে গেছেন।”
ঢাকা ১৫ আসনের পীরেরবাগ এলাকার ভোটার মাছ ব্যবসায়ী শামসু মিয়া অকপটে বললেন, “আমি দাড়িপাল্লা ভোট দিমু। মানুষ কইতেছে।”
পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি ছোট কাঁচাবাজারে মাছবিক্রি করেন এই ভোটার, মাছ সাজিয়ে রাখার বড় থালা পরিষ্কার করছিলেন তিনি।
তার পাশে থাকা আরেক ব্যবসায়ী বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “ভাই আমি জানি না এসব।”
পাশের একটি ফার্মেসিতে আলাপরত দুজন বললেন, তারা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তবে তারাও কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না।
খন্দকার কাঁচা বাজারের পাশে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের আলাপ চলছিল-‘ধর্মকে বিক্রি করে অনেকে ভোট করছেন’। তাদের ভাষায়, ইসলাম কায়েম এত সহজ না।

‘চূড়ান্ত মতামতের সময় আসেনি’
ঢাকার আসনগুলোয় বিএনপির অবস্থা কেমন, জানতে চাইলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত মতামতের সময় আসেনি। ভোটের দুদিন আগে আমরা স্পষ্ট হতে পারবো।”
তার দাবি, বিএনপির সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই অন্য কোনো দল গড়ে তুলতে পারেনি।
“এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও বুঝতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আশা করি, আগামী নির্বাচনে খুব ভালো জিতে আসবে বিএনপি।”
জামায়াতও মনে করছে, এখনো বলার সময় আসেনি।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন, “এত আগে আমরা মন্তব্য করতে চাই না। সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”
আগের খবর:
ঢাকা-১৪: 'ফুটবলে'র টানে 'ধানের শীষে' বিভক্তি, মসজিদে
মোহাম্মদপুরে 'স্বস্তির আশায়' কোন প্রতীকে কতটা ভরসা?
ঢাকা-৮: প্রতিদ্বন্দ্বী অসম বয়সি, কেমন হবে ফল?
ঢাকা-১১: প্রার্থী ও ভোটারের যত 'ভয়