Published : 15 Jul 2026, 10:04 PM
শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়ার বিধিমালা আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে এসব কোম্পানি তাদের মূল কোম্পানি (প্যারেন্ট কোম্পানি), সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারধারীদের কাছ থেকে সহজে ঋণ নিতে পারবে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন। এর ফলে বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে বিদেশি ঋণ নিতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড), হাইটেক পার্কসহ বিশেষায়িত অঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত উৎপাদন ও সেবা খাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই ঋণ সুবিধা পাবে।
যেভাবে ঋণ নেওয়া যাবে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের কোম্পানিগুলো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে।
এ ছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বার্ষিক ‘অল-ইন-কস্টে’ সুদযুক্ত ঋণও নেওয়া যাবে। এসব ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রোলওভার করা যাবে।
এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনি ব্যয় যেমন—যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি, অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে সুদ প্রযোজ্য হলে এ হার বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হবে।
বকেয়া ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগও রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত ১৩ জুলাই অপর এক সার্কুলারে বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত কোম্পানিগুলোকে বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
‘ফরেন কারেন্সি’ বা এফসি হিসাবের বিপরীতে এখন এই সুবিধা মিলবে।
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই টেক পার্ক অঞ্চলে থাকা সব কোম্পানি এ সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষায়িত অঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাদের ‘রিটেনশন কোটা’ (ইআরকিউ) হিসাব রয়েছে, তারাই এতদিন এ সুবিধা পেত।
এখন সেই সুবিধা এফসি হিসাব পরিচালনাকারী হিসেবে বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিও পাচ্ছে।
এ প্রক্রিয়ায় এক মাসের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিয়ে স্থানীয় সুদ পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।