Published : 26 Jan 2026, 01:53 AM
ঢাকার শ্যামলী এলাকার ‘মুসলিম সুইটস’ এর কর্ণধার মো. সেলিমুজ্জামানের মিষ্টির কারখানা পার্শ্ববর্তী শেখেরটেক এলাকায়। গেল বছরের নভেম্বরে দিনে দুপুরে তার কারখানায় চাপাতি হাতে এক যুবক ঢুকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলতেই প্রবীণ এই ব্যবসায়ী বলছিলেন, “যেই আসুক, আগে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করুক। আমরাতো বেশি কিছু চাই না, নিশ্চিন্তে নিজের ব্যবসাটা করে খেতে চাই। শান্তিমতো চলাফেরা করতে চাই।”

সেলিমুজ্জামান শেখেরটেক এলাকারই বাসিন্দা। তার মতে, ঘনবসতির এই মোহাম্মদপুর এলাকায় গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতার মতো অনেক নাগরিক সমস্যা রয়েছে। তবে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ছিনতাই-চাঁদাবাজির মতো ঘটনাগুলো এখন ‘চরমে’ ঠেকেছে।
ইতোপূর্বে অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় গজিয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়েও অতিষ্ঠ বাসিন্দারা।
যদিও ভোটের সময় সবাই সব সমস্যা সমাধানের ‘আশ্বাস নিয়ে’ হাজির হন, কিন্তু সেলিমুজ্জামানের প্রশ্ন, “বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই পরিস্থিতি আর কত দিন?”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।
নির্বাচনের প্রচার পর্ব শুরুর দিন বৃহস্পতিবার থেকেই পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। মোহাম্মদপুর এলাকায়ও ‘একগাদা আশ্বাস নিয়ে’ ছুটছেন তারা।
পক্ষান্তরে সুযোগ পেলে প্রার্থীদের কাছে বাসিন্দারাও নানান অভিযোগ-অনুযোগ তুলে ধরছেন। তবে প্রায় সবারই প্রথম চাওয়া, ‘যেভাবেই হোক’ মোহাম্মদপুরে শৃঙ্খলা ফিরুক সবার আগে।
চব্বিশের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলালেও ব্যতিক্রম ছিল ঢাকার মোহাম্মদপুর। পুলিশের নানা উদ্যোগেও দিনকে দিন চরম অবনতির দিকে যাওয়া পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
সেখানে দিনে-দুপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অনেক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর পর তুমুল আলোচনাও হয়েছে, সেই সঙ্গে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
দোকানে বসে থাকা লোকজনকে কুপিয়ে একদল লোকের অবাধে চলে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। এমনকি মোহাম্মদপুর ছেড়ে নগরীর অন্য এলাকায় বাড়ি ভাড়া করার চেষ্টার তথ্যও মিলেছে অনেক।
ছিনতাইয়ের জন্য দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা এই মোহাম্মদপুরে এখন ভোটের জোর হাওয়া লেগেছে। পথে পথে চোখে পড়ছে ছোট-বড় প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুন। প্রার্থীদের পক্ষে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক চলতে থাকা গণসংযোগের পাশাপাশি প্রার্থীরা নিজেরাও ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।

মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং শেরেবাংলা নগর থানার আংশিক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসনে এবার ভোটের মাঠে নয়জন থাকার তথ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে।
এরমধ্যে ভোটররা এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ও জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের মধ্যে।
তারা দুজনই মোহাম্মদপুরে ‘শৃঙ্খলা ফেরাতে’ আলাদা পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করার কথা বলেছেন তারা।
বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “আমরা সন্ত্রাস প্রবণ এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ছিনতাইকরীরা কোন জায়গায় বসে আড্ডা মারে, এগুলো এলাকাবাসী জানে। হটস্পটগুলোতে আমরা সিসিটিভি ও লাইট লাগাচ্ছি। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় যে চাঁদাবাজিগুলো হয়, এটা আমরা পুরোপুরি বন্ধ করে দেব।”
তার বিশ্বাস, তার গৃহিত পদক্ষেপে এগুলো ‘বন্ধ হয়ে যাবে বা অনেক কমে আসবে’।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হকের মতে, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে রাজনৈতিক ‘অসৎ নেতৃত্বের প্রশ্রয় থাকে’। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন রুখতে না পারলে এলাকায় শান্তি এবং নিরাপত্তা আসবে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনি প্রধান এজেন্ডাই হল, নিরাপদ মোহাম্মদপুর গড়ে তুলব। আমার এই নির্বাচনি এলাকার মানুষকে সন্ত্রাস, মাদক আর চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত করতে একটা কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নামব। এটাই আমার প্রত্যয়, এটা আমার প্রতিশ্রুতি।”
ঢাকা-১৩ আসনে প্রার্থী কারা
এই আসনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত। এবার এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২, নারী ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন ৮ জন।
আসনটিতে ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নয়জন ভোটের মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা-১৩ আসনে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হকের বাইরে অন্যরা হলেন-স্বতন্ত্র সোহেল রানা, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মো. খালেকুজ্জামান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, স্বতন্ত্র শেখ মো. রবিউল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের ‘সম্মানে’ তার আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রাথী মুরাদ হোসেনকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
মামুনুল হকের দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের শরিক। রিকশা প্রতীকে নির্বাচন করছেন তিনি। এর আগে মামুনুল হক নির্বাচন করেননি। এবার তিনি বাগেরহাটের একটি আসনেও প্রার্থী হয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের-এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক এই উপদেষ্টা এর আগে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা করেন।
ঢাকা-১৩ আসনসহ আটটি আসনে প্রার্থীরা এবার নিজেদের দল ছেড়ে এসে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করছেন। এর বাইরে বিএনপি আরো নয়টি আসন ছেড়েছে আন্দোলন সংগ্রামের শরিকদের।
আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন চান ভোটাররা
কথা প্রসঙ্গে মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের বাসিন্দা মো. আলী রুবেলও ‘আক্ষেপ’ করে বলছিলেন কখনোই এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকার কথা।
তিনি বলেন, “আমি আসলে কী চাই, একটু ঝামেলাহীনভাবে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চাই। কিন্তু এটা কখনোই হয় নাই। ৯০ দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কোনো সময়ই এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল ছিল না। কখনো হয়তো কমে, কিন্তু আবার বাড়ে।”
ভোটে যেই পাস করেছে ‘সাধারণ মানুষ কখনো লাভবান হয় নাই’ মন্তব্য করে রুবেল বলেন, “ধরেন মানুষের হাঁটাচলার জন্য এখানে একটা মাঠ বানিয়েছেন আগের এমপি। কিন্তু সন্ধ্যার পর এখানে হাঁটা যায় না। ছিনতাই হয়, ওপেন বসে ছেলেপেলেরা গাঁজা খায়। এমন অনেক কিছুই বানিয়েছে, যা আইওয়াশ।”
তার মতে, মোহাম্মদপুর ‘ক্রাইমজোন’ হওয়ার ‘প্রধান কারণ’ জেনিভা ক্যাম্প।
“সন্ধ্যার পরে আপনি এই গজনবী রোড দিয়ে হেঁটে যান, একটু পর পর জিজ্ঞাসা করবে কিছু লাগবে কি না। এবার বোঝেন, ভেতরে কী অবস্থা? ক্যাম্পের কারণে এই এলাকাবাসী আজ অব্দি ভালো হইতে পারে নাই।”

এর বাইরে শীত এলেই গ্যাস ‘প্রায় না থাকার’ কথা বলেন আদাবরের বাসিন্দা জসীম খান। তিনি বলেন, “গ্যাস বিলতো ঠিকই নিচ্ছে, কিন্তু কোন বছরই শীতকালে গ্যাস থাকেনা বললেই চলে। প্রতিবার ভোট আসলেই নেতারা এসে ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কোন কাজ হয় না।”
সড়কগুলো দখল করে দোকানপাট তৈরি হওয়ার কারণে যানজট লেগে থাকছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো কারা করতেছে? বিভিন্ন দলীয় লোকজনই চাঁদা নিয়ে দোকানগুলো বসাচ্ছে। আমরা এই নতুন প্রেক্ষাপটে আগের মতো আর আশ্বাস চাই না। আমরা কাজ দেখতে চাই, আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”
১৯৯১ সালের পর গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দল এই এলাকায় জয়লাভ করেছে। ২০০৮ সাল থেকে এখানে আওয়ামী লীগ থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। সবশেষ ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত দলটি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
কী বলছেন ‘প্রধান’ দুই প্রার্থী
ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা পুরো এলাকা জবাবদিহিতার অধীনে আনব। আমরা প্রত্যেক মাসে ‘ওপেন মিটিং’ করব। যেখানে সকল জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ এবং সকল সরকারি সেবার লোকজন ‘ওপেন ফোরামে’ জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।”
জেনিভা ক্যাম্পসহ পুরো এলাকায় থাকা বস্তিগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ব রয়েছে স্বীকার করে জামায়াত জোটের প্রার্থী মামুনুল হক বলেন, “জেনিভা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আমার বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে। ক্যাম্পের ভেতরে যতটুকু না অপরাধ সংঘটিত হয়, ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে তার চারপাশ দিয়ে এই জাতীয় নানা ধরনের অপরাধের চক্র গড়ে উঠেছে।
“ক্যাম্পের জনগণকে নিয়েই আমি মূলত এটার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ক্যাম্পের নেতৃবৃন্দও সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন, আমাকে সেই প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছেন।”
এর বাইরে পুরো এলাকার অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ জমির বিরোধ মেটাতে ‘প্রয়োজনীয়’ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এলাকাজুড়ে নির্বাচনি হালচাল
নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্র ও শনিবার মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শ্যামলীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করতে দেখা গেছে প্রার্থীর অনুসারীদের। পাড়া-মহল্লার বাসা-বাড়িতে ও বাজারগুলোতে ঘুরে ঘুরে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। ভোটারদের নির্বাচনি ইশতেহার সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে।
এবার পোস্টার নিষিদ্ধ থাকলেও পথে পথে দেখা গেছে ব্যানার ও ফেস্টুন। এলাকাভিত্তিক স্থাপিত নির্বাচনি কার্যালয়গুলোতেও রয়েছে মানুষের আনাগোনা।
রোববার সকালে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার ‘গোলাপটি স্টল’ নামে এক চায়ের দোকানেও জমে ওঠে নির্বাচনি আড্ডা। লোকজন চা পান করতে করতে বিভিন্ন প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।
মো. গোলাপ নামে ওই দোকানি বলেন, “লোকজন লিফলেট লইয়া আইতেছে, দোকানে দিয়া যাইতাছে। তখন কাস্টমাররাও এইসব নিয়া আলাপ আলোচনা করে। ধানের শীষ আর রিকশা মার্কারই কথাবার্তা বেশি শুনতাছি।”
শেখেরটেক এলাকার এক ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আতাউর রহমান বলছিলেন, “ভোট চাইতে লোকজন আসা শুরু করছে, তয় এখনো তেমন হয় নাই। সময় আরেকটু ঘনাইলে আরো বাড়ব।”

চলছে প্রার্থীদের কথার লড়াই
শনিবার তাজমহল রোডে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনি ক্যাম্প অফিস উদ্বোধনের সময় ববি হাজ্জাজ বলেছেন, “এই নির্বাচন দুই ভিন্নধর্মী শক্তির নির্বাচন। একদিকে গণতান্ত্রিক শক্তি আরেকদিকে উগ্রপন্থী শক্তি। তাই সামনের নির্বাচন পরিষ্কার দুইটা পন্থার মধ্যে নির্বাচন, একদিকে গণতন্ত্র, আরেকদিকে উগ্রতন্ত্র।
“এই দেশের জনগণকে পরিষ্কার জানায় দিতে হবে যে আমরা পরিষ্কার এই লড়াইয়ের মাঝে আছি।”
‘উগ্রপন্থি’ বলতে তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, “যারা নির্বাচনে জিতলে আগামীতে আর ভোটের অধিকার থাকবে না, তারাই উগ্রপন্থি।”
আলেম ওলামাদের অনেক দল তাদের (উগ্রপন্থি) সাথেও আছে দাবি করে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, “এক দিকে তারা মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে যে, তাদের জন্য ভোট দিলে বেহেশতের টিকেট খোলা হয়ে যাবে। এই কারণে এদেরকে আমি উগ্রপন্থি বলছি। এরা ইসলামপন্থি না ভাই, দ্বীনের আলোতে এরা আলোকিত না।”

অপরদিকে রোববার সকাল থেকে মামুনুল হকের প্রচার কার্যক্রম শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে রায়েরবাজারের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়।
সেখানে এক পথসভায় তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা, শাপলা, হাতপাখাসহ দলমত নির্বিশেষে ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান মার্কা হল রিকশা। আগামী ১২ তারিখ আমরা সবাই রিকশা মার্কাকে বিজয়ী করব, ইনশাআল্লাহ।”
এবার ইসলামী দলগুলো ‘হাতে হাত রেখেছে’ মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, এবারের নির্বাচন আধিপত্যবাদকে রুখে দেওয়ার নির্বাচন।
লুটেরা এবং দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য নিজের ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চান তিনি।
পথসভায়ও মোহাম্মদপুরের আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে মামুনুল হক বলেন, “ঐতিহ্যের মোহাম্মদপুর ঢাকাবাসীর জন্য একটা আতঙ্কের এলাকায় পরিণত হয়েছে, এই এলাকাটাকে ক্রাইমজোনে পরিণত করা হয়েছে।”
তবে এবারের নির্বাচন গুন্ডামি, সন্ত্রাস, মাস্তানি আর চাঁদাবাজিকে না বলার নির্বাচন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।