Published : 31 Jan 2026, 01:45 AM
ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুন নির্বাচনের আমেজ এনে দিলেও চায়ের দোকানের আড্ডায় ভোটের গল্প ততটা শোনা যায় না।
এই সংসদীয় এলাকায় নড়াই নদীর উত্তর পাড়ে আফতাবনগর আর দক্ষিণে বনশ্রী, লোকজনের যাতায়াতের জন্য রয়েছে একাধিক সাঁকো।

সোমবার সন্ধ্যার পর আফতাবনগরে তেমনি একটি সাঁকোর পাশের এক চায়ের দোকানে ভোটের প্রচার নিয়ে কয়েকজন সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়।
তাদের একজন বনশ্রীর একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের খণ্ডকালীন কর্মী। তিনি বলছিলেন, সংঘর্ষ হতে পারে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ‘ঝুঁকি’ আছে।
বনশ্রী আবাসিক এলাকার সি ব্লকের পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিকে ইশারা করলেন তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, “২০১৮ সালেও এই কেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়েছিল। আগামী নির্বাচনেও এর আশঙ্কা রয়ে গেছে।”
কার কার মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে? চা দোকানে থাকা ছয়জনের কেউই সাড়া দিলেন না। খবরে নাম ও পরিচয় দিতে মানা করলেন মুচকি হেসে।
দোকানি প্রথমে নিজের নাম বললেও খবরে প্রকাশ করতে অনীহা দেখালেন।
বনশ্রী ও আফতাবনগর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গেও কথা হয়, ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, গোলযোগের আশঙ্কার কথা বলেছেন। প্রার্থীদের কেউ বলেছেন, ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করা হয়েছে। আর কেউ বলছেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ভয় পাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেছেন ভোটারদের কেউ কেউ। গ্যাসের সংকট, মশার উৎপাত, যানজট, চলাফেরায় নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে প্রার্থীদের পরিকল্পনা না থাকার কথা বলেছেন তারা।

গেল ২৪ জানুয়ারি এই আসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচনি প্রচারে অভিযোগ করে বলেছিলেন, “ঢাকা-১১ আসনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মানা হচ্ছে না।”
এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নাহিদ এও বলেছেন, “মানুষ যাতে ভোট দিতে ভয় না পায়, সেদিকে আমরা জোর দিচ্ছি। আমরা দেখছি, দেশের বিভিন্ন এলাকায়; এমনকি আমার এ নির্বাচনি এলাকাতেও এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে।”
মঙ্গলবার মাগরিবের পর রামপুরার পশ্চিম উলন রোডে প্রচার শুরুর আগে জামায়াত জোটের এই প্রার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘ভয়টা’ আসলে কী নিয়ে?
কোনো দলের নাম না নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের এই প্রার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভয়টা তারা হেরে যাবে হয়তো বা। এ কারণেই হয়তো তারা পরাজয়কে আসন্ন জেনে ভয় পাচ্ছে। আক্রমণ করছে, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।”
নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এই আসনে ভোটের মাঠে আছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) কাজী মো. শহীদুল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. জাকির হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. আরিফুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ভোটে বিএনপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে।
নির্বাচনে শক্তি বাড়াতে জামায়াত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে মোর্চা করেছে, যার শরিকদের অন্যতম অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের দল এনসিপি ও অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে আসন ছাড় দিয়ে নিজেদের সঙ্গে রেখেছে বিএনপি।
গণঅভ্যুত্থানের পর নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। পরে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
তিনি তার আসনে ‘ভয়ের পরিবেশের’ কথা বললেও এনসিপির রামপুরা থানা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হক তালুকদার লিটন সে রকম কিছু দেখছেন না।
মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এই আসনে আল্লাহর রহমতে কোনো হুমকি বা ভয় নেই। এনসিপি, জামায়াতসহ এই এলাকার লোকেরা নাহিদ ইসলামের পক্ষে। বিশেষ করে নারীদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ভয় প্রসঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী এম এ কাইয়ুম বলেন, “ভয়ের বিষয় যেটা এসেছে, আমাদের গতানুগতিক রাজনীতি যেমন…। কিন্তু আমরা ঢাকা-১১ আসনে সহনশীলতার রাজনীতি করতে চাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। কেন নাহিদ সাহেব ভয়ের কথা বলছেন, আমি জানি না।”
বরং ভয়ের অন্য কারণ তুলে ধরলেন বিএনপির এই প্রার্থী, আর তা হল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও বললেন একই ভয়ের কথা।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
বাড্ডা থানা এলাকা, রামপুরা থানার টিভি সেন্টার, আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, বনশ্রীর একাংশ, মহানগর প্রজেক্ট, মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া; ভাটারা থানার নতুন বাজার, বারিধারা সংলগ্ন এলাকা, নুরের চালা ও ছোলমাইদ এলাকা নিয়ে এ আসন।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভয়’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।
ঢাকার আফতাবনগর ও বনশ্রীর মানুষ এ আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রধানত তিনজনকেই চেনেন।
কেউ কেউ মনে করছেন, কাইয়ূম ও নাহিদের মধ্যে লড়াই হবে। আবার কেউ বলছেন, হাতপাখার ফজলে বারী মাসউদও ভোটে ভাগ বসাবেন। তার প্রভাব পড়তে পারে বিএনপি ও এনসিপির ভোটে।
ফজলে বারী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আফতাবনগর, রামপুরা এলাকায় তার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল ইসলামী আন্দোলন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে দলটির প্রার্থী ছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি ৬৭২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। তখন বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছিল। সে সময় গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরেকটি মোর্চাও গঠন করেছিল বিএনপি।
‘রাতের ভোট’ হিসেবে অভিযোগ ওঠা ওই নির্বাচনে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমতুল্লাহ।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন একই দলের মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন, যে নির্বাচনে সরকারবিরোধী কোনো দল অংশ নেয়নি।
হাতপাখার ভোট রামপুরা, ভাটারা, আফতাবনগর এলাকার ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করবে, এমন সম্ভাবনা দেখছেন একজন তরুণ ভোটার।
তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফজলে বারী মনে করছেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ না হলে তিনিই জিতবেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমার কাছে আশঙ্কার বিষয় হল, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। জেতার প্রত্যাশা করছি। কিন্তু নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয় কিনা, এটাই হল ভয়ের বিষয়, এটাই হচ্ছে আশঙ্কা।”
“আমি কিন্তু আমার ভোটের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, ভোটারদের প্রতিও বিশ্বাস আছে। আমি দুই যুগ ধরে ভাটারা এলাকার বাসিন্দা। ভাটারা, বাড্ডা, রামপুরা এলাকায় আমার প্রচুর শুভাকাঙক্ষী। আমাদের দলের অনুসারীও আছে অনেক,” বলেন ফজলে বারী।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রসঙ্গ এসেছে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বক্তব্যেও। মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রচারে তিনি বলে রেখেছেন, “ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে প্রশাসন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।”
কেন এই আশঙ্কা দীর্ঘদিন ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কমিশনার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিএনপির এই প্রার্থীর?
জবাবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গত তিনদিন ধরে আমার মধ্যে একটা চিন্তা কাজ করেছে। যেরকম, অনেকেই আমার এখানে ক্যান্ডিডেট যারা আছেন, তাদের কেউ কেউ বলেন, কোনোভাবেই ভোট হলে পাশ করে ফেলবো।
“ভোট না পেলেও হয়ে যাবেন, এমন একটা কথা কিন্তু প্রচার করা হচ্ছে। অনেকে গ্রুপে এটা প্রচার করছেন। আর ইউনূস সাহেবও একটা কথা যে বলেছেন, ‘অমুকে নেক্সটে আসতেছে কেউ মন্ত্রী হবে, কেউ এমপি হবে’। উনি তো এটা আগাম বলতে পারেন না, কে মন্ত্রী হবেন, কে এমপি হবেন?”
“যে বা যারাই হোন, তারা তো ভোটে হবেন, তাই না,” বলেন কাইয়ুম।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, “স্বৈরাচারের দোসরেরা প্রশাসনের সব জায়গায় আছে, সেই আশঙ্কা থেকে আমি বলছি সতর্ক থাকতে আমার ভোটারদের যে-কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং যাতে না হয় এবং আমি জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ করব।”
সাবধানতার সঙ্গে কাজ করছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার এজেন্ট যারা থাকবে তাদের আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তারা লাইভে থাকবে। জনগণকে সচেতন করছি।
“যেহেতু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথাটি উঠেছে, তাই আমি সাবধানতা অবলম্বন করছি।”
কাইয়ুম বলেন, “আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে এবং ব্যবস্থা নেবে।”

‘সমস্যা আছে, প্রার্থীদের নজর নেই’
“গ্যাসের সমস্যা বনশ্রীতে ১২ মাস; টানা ৮-৯ ঘন্টা গ্যাস থাকে না এই এলাকায়। কাগজে-কলমের নড়াই নদী এখন ময়লার খাল। রয়েছে মশার উৎপাত। এসব কিছু ছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির পরও থাকবে।”
বনশ্রী সি ব্লকের চায়ের দোকানে বসে এসব সমস্যার কথা বলছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি ছয় বছরের বেশি সময় ধরে বনশ্রীতে বসবাস করছি। কাজের সূত্রেও এখানে থাকা। মোটাদাগে নিরাপত্তার জন্য বনশ্রী এলাকায় বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও দক্ষিণ বনশ্রী, মেরাদিয়া এলাকা অপরাধপ্রবণ।
“ওই এলাকা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা দরকার। কিন্তু কোনো প্রার্থীই এসবে মনোযোগ দেননি।’
সম্প্রতি এক প্রচারে অপরাধ দমনে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী কাইয়ুম। তিনি বলেছেন, “প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নাইটগার্ডের ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হবে, যাতে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিতে না পারে।”
এছাড়া প্রার্থীদের বক্তব্যে বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকার যানজট নিরসনে প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।
প্রচারাভিযানে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী কাইয়ুম বলেছেন, নির্বাচিত হলে যানজট নিরসনে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন তিনি।
এনসিপির রামপুরা থানার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হক বলছেন, স্থানীয় লোকজন সমস্যার মধ্যে রয়েছে। পানি নিষ্কাশন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, নির্মাণাধীন বাড়িতে চাঁদা দাবি, দোকানদারকের হুমকি দেওয়া, এসব।
“আমরা এসব থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা এসব কিছু থেকে এলাকাবাসীকে আগে মুক্তি দিতে চাই।”
সোমবার প্রচারের শুরুতে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিটি এলাকায় গিয়ে বিশেষ সমস্যা চিহ্নিত করেছি। এলাকার গ্যাসের সমস্যা, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, বোনেরা নিরাপত্তার সঙ্গে হাঁটতে পারেন না, এসব চিহ্নিত করেছি আমরা।
স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে নাগরিক সুবিধা কম, এক কথা তুলে ধরে সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

কেমন চলছে প্রচার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে গেল ২২ জানুয়ারি প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে।
সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে আফতাবনগর ও বনশ্রীর বেশ কিছু এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারের চিত্র ঘুরে দেখেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুম ও এনসিপির নাহিদ ইসলামের প্রচার চোখে পড়লেও বাকি প্রার্থীদের প্রচার তেমন একটা নেই।
ওই দুটি এলাকার প্রচারচিত্র বলছে, এনসিপির নাহিদ ইসলামকে জিতাতে মরিয়া জামায়াত। রামপুরা, বনশ্রী এলাকায় দলটি সাংগঠনিকভাবেও তুলনামূলকভাবে শক্ত।
২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকায় প্রবেশমুখগুলোতে সহিংসতা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে ঘটেছে বেশি; রামপুর থেকে বনশ্রীর দিকে যাওয়ার সড়কের মুখও সেগুলোর একটি।
এনসিপির আহ্বায়কের সমর্থকরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা হিসেবে তরুণদের কাছে নাহিদ ইসলামের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে।
সোমবার নাহিদ ইসলামের প্রচারে দেখা গেল অধিকাংশই জামায়াতের নেতাকর্মী। এনসিপি ও এলডিপির কিছু কর্মী থাকার কথা বলেছেন প্রচারে অংশ নেওয়া একজন।
সেই প্রচারে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহ আকবর’, ‘জামায়াত-এনসিপি ভাই-ভাই, শাপলাকলিতে ভোট চাই’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উলন বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন নাহিদ ইসলাম। প্রচারে তার সঙ্গে বনশ্রী এলাকা থেকে এসেছিলেন জামায়াতের কর্মী শাহাদাত হোসেন সেলিম।
তিনি বললেন, “এই এলাকায় নারী ভোটার বেশি। নাহিদ ভাই একদফার ঘোষক। নারীরা ও তরুণরা তার সঙ্গে আছে।”
নাহিদের প্রচার মিছিলে কথা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শক্তির সংগঠক শাহিনুর রহমান তাসিনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম তরুণদের মধ্যে ‘জনপ্রিয়’। ৫ অগাস্টের পর অনেক নেতা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হয়েছেন, কিন্তু নাহিদ ইসলাম ‘ব্যতিক্রম’।
“তারমধ্যে আমরা বিনয় পেয়েছি। অমায়িক ব্যবহার, রাষ্ট্র নিয়ে তার চিন্তা-এসব কারণে তার প্রচারে এসেছি।”

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর ভোট-কার্যক্রমে যুক্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, সারাদেশের মানুষ এনসিপির নেতাদের ‘শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন’।
তাদের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে, এমন দাবি করে ছাত্রদলের ওই নেতা বলেন, “অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিলেও, তারপর তারা যেভাবে আর্থিক উন্নতি লাভ করেছে, এর জবাবদিহি কোথায়?”
শফিকুলের মতে, মানুষ তো ‘এগুলো বোঝে’, তাদের আচরণ, ভাষা, বক্তব্যে ‘উসকানিসহ’ নানা কারণে মানুষের কাছে তারা গ্রহণযোগ্যতা ‘হারিয়ে ফেলেছে’।
কাইয়ুম এই আসনের লোক, এ কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিএনপির প্রার্থী একজন ‘গ্রহণযোগ্য’ জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, কাইয়ুম ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাড্ডা এলাকায় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে, তার কাজ সম্পর্কে এই আসনের বাসিন্দারা অবগত।
তবে প্রচারের ক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী কোথাও কোথাও পিছিয়ে আছেন, যা নিজেরাও স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক মো. মাহফুজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রচারের জন্য ব্যানার দিয়েছিলাম বনশ্রী, আফতাবনগর এলাকায়, কিন্তু রশিতে বেঁধে দেওয়ায় মনে হচ্ছিল পোস্টারের মতো, তা নিয়মেও পড়ে না।
“তাই আমরা বনশ্রী, আফতাবনগরসহ কিছু এলাকায় প্রচার চোখে পড়ছে কম।”
বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, বনশ্রী ও আফতাবনগর এলাকায় এখনো তাদের প্রচারে ঘাটতি রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের ফজলে বারী বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোরডটকমকে বলেন, “ব্যানার লাগাচ্ছি। অনেক এলাকায় লাগানো হয়েছে। আরও লাগানো হবে।”