‘গরমে রেল লাইন বেঁকে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা
এই দুর্ঘটনার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতির কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গরমে রেল লাইন বেঁকে যাওয়াকে দায়ী করছেন স্থানীয় রেল কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে শহরতলীর দাড়িয়াপুরে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ঢাকামুখী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার আট ঘণ্টা পরও দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন উদ্ধার ও লাইন মেরামতের কাজ শেষ করতে না পারায় দুই দিকেই ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটে। একটি লাইন দিয়ে এখন দুই পথে চলাচল হওয়ায় সবক’টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত গরমে রেললাইন বেঁকে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে আসা মালবাহী কনটেইনার ট্রেনটি এই লাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় সেটির সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়।”
দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ চলার মধ্যে এদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিছুদিন আগে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির চেয়েও বেশি ছিল।
সে সময় লাইন বেঁকে না গেলে ৩৬ ডিগ্রিতে কেন বেঁকে গেল- এই প্রশ্নে স্টেশন মাস্টার রফিকুল বলেন, “সেই প্রশ্নের জবাব তো আমাদের জানা নেই। আমরা কেবল জানি, গরমে লাইন বেঁকে গিয়েছিল।”
উদ্ধার কাজে দীর্ঘ সময়
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া রেলজংশনের লোকোশেডে খবর দেওয়ার পর উদ্ধারকারী ট্রেন এসে বিকালে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
কাজ শেষ না হওয়ায় রাত ৮টার দিকেও আপ লাইনে অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
রাত ৮টার দিকে স্টেশন ম্যানেজার জানান, দুর্ঘটনায় প্রায় চারশ মিটার রেলপথ ও স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রেনটির উদ্ধার কাজ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও স্লিপার মেরামত শেষে করে ট্রেন চলাচল সচল হতে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগবে।
এক লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা দেরিতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করে।
প্রায় সোয়া ৪ ঘণ্টা দেরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রম করে ময়মনসিংহগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস।
